Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ওয়েবসাইট ব্যবহারের অনুমোদন মেলেনি, ঝুলে স্টল বুকিং প্রক্রিয়া

ওয়েবসাইট ব্যবহারের অনুমোদন মেলেনি, ঝুলে স্টল বুকিং প্রক্রিয়া
  • ৬ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, বোলপুর: শান্তিনিকেতন পৌষমেলার স্টল বণ্টনের ওয়েবসাইট তৈরি হয়ে থাকলেও এখনও জোটেনি খড়্গপুর আইআইটি কর্তৃপক্ষের সরকারি অনুমোদন। সেই কারণে ঝুলে রয়েছে এবছরের পৌষমেলার স্টল বুকিং প্রক্রিয়া। খড়্গপুরের আইআইটি কর্তৃপক্ষ সেই অনুমোদন কবে দেয়, তার ওপর নির্ভর করছে এ বছরের পৌষমেলার অনলাইন বুকিং ব্যবস্থা। তবে বেশি দেরি হলে ‘প্ল্যান বি’ও প্রস্তুত রেখেছে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ। সবটাই নির্ভর করছে খড়্গপুরের অনুমোদনের ওপর। প্লান এ হোক কিংবা বি, পৌষমেলায় দোকান করবেন বলে স্টল বুকিংয়ের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন ব্যবসায়ীরা। যেহেতু অনলাইন মাধ্যমে মিলবে এই বুকিংয়ের সুযোগ, তাই প্রতিদিন বিভিন্ন সাইবার ক্যাফেতে তাঁরা বুকিংয়ের জন্য খোঁজখবর নিচ্ছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। এমতাবস্থায় বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ খড়্গপুর আইআইটিকে কী বার্তা দেয়, সেদিকেই তাকিয়ে পৌষমেলায় দোকান খুলতে আসা ব্যবসায়ীরা। 
Advertisement
আর পাঁচটা মেলার থেকে একটু আলাদা শান্তিনিকেতনের ঐতিহ্যবাহী পৌষমেলা। রাজ্য তো বটেই দেশবিদেশের নানা প্রান্ত থেকে অনেক ব্যবসায়ী আসেন দোকানপাট খোলার উদ্দেশ্যে। শুধু লাভের জন্য নয়, অনেকে প্রচারের জন্যও পৌষমেলায় এক চিলতে জায়গা খোঁজেন। তবে, বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু অসাধু কর্মী গরিব ব্যবসায়ীর কাছে চড়া মূল্যে জায়গা বিক্রি করেন। বিষয়টি জানতে পেরে সজাগ হয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এরপর ২০১৯ সালে প্রথম অনলাইন মাধ্যমে স্টল বণ্টন প্রক্রিয়া শুরু হয়। তবে সেবারেও জায়গা কেনার ক্ষেত্রে কালোবাজারি রোখা যায়নি। পুরনো রশিদ দেখিয়ে অনেক জমির দালাল একাধিক প্যান কার্ড সংগ্রহ করে স্টল বুকিং করেছিলেন। তাই এবার বিষয়টি নিয়ে অত্যন্ত সজাগ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ‌এবারে বিশ্ববিদ্যালয় কর্মী ও তথাকথিত দালালরা যাতে চড়া মূল্যে পূর্বপল্লির মেলার মাঠের জায়গা, জমি ভাড়া দিতে না পারেন, সেজন্য সক্রিয় হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এই মর্মে মেলার মাঠের বর্তমান ভৌগোলিক অবস্থান দেখে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ লে আউট তৈরি করেছে। তার ভিত্তিতেই স্টল বণ্টনের বিষয়টি ওয়েবসাইটে ‘লোড’ করা হবে। বিষয়টি সময় সাপেক্ষ হলেও খড়্গপুরের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়াররা ইতিমধ্যেই সেই কাজ সম্পূর্ণ করেছেন বলে বিশ্বভারতী সূত্রে জানা গিয়েছে। তবে ২০১৯ সালে খড়্গপুর আইআইটি বিশ্বভারতীকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সফ্টওয়্যারটি প্রদান করেছিল। সেই প্রক্রিয়া এবারও যাতে সম্পূর্ণ হয়, সেজন্যই দরকার সরকারি অনুমোদন। তার জন্যই ঝুলে রয়েছে ওয়েবসাইটের সফ্টওয়্যার হস্তান্তর প্রক্রিয়া। কারণ বিশ্বভারতীকে প্ল্যান বি অনুযায়ী চলতে গেলে সফ্টওয়্যারটি কেনার পেছনে মোটা টাকা খরচ করতে হবে। এমতাবস্থায় খড়্গপুর কর্তৃপক্ষ সরকারি অনুমোদন কবে দেয়, সেদিকেই তাকিয়ে বিশ্বভারতী সহ মেলার ব্যবসায়ীরা। এ প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক আধিকারিক বলেন, খড়্গপুর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। ‌ বিষয়টিতে তারা অত্যন্ত ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন। আশা করি, দু-একদিনেই স্টল বুকিং শুরু হবে। 
সম্পর্কিত সংবাদ