Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

‘ব্রাউজিং রেকর্ডে অশ্লীল ভিডিও, এটাও অপরাধ’, ই-মেলে ‘কোর্ট অর্ডার’ পাঠিয়ে প্রতারণা

যত দিন যাচ্ছে, প্রতারণার নিত্যনতুন কৌশল আমদানি হচ্ছে। ফোনে আসা লিঙ্কে ক্লিক করে প্রতারিত হওয়ার ঘটনা নতুন কিছু নয়।

‘ব্রাউজিং রেকর্ডে অশ্লীল ভিডিও, এটাও অপরাধ’, ই-মেলে ‘কোর্ট অর্ডার’ পাঠিয়ে প্রতারণা
  • ৫ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

শ্যামলেন্দু গোস্বামী, বারাসত: যত দিন যাচ্ছে, প্রতারণার নিত্যনতুন কৌশল আমদানি হচ্ছে। ফোনে আসা লিঙ্কে ক্লিক করে প্রতারিত হওয়ার ঘটনা নতুন কিছু নয়। এসব কৌশল পুরোনো! প্রতারকরা এবার নয়া কায়দায় ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ করছে সাধারণ মানুষকে। এক্ষেত্রে তাদের মাধ্যম হল ই-মেল। আর অস্ত্র হল সাধারণ মানুষকে একই সঙ্গে ভয় ও লজ্জার মধ্যে ফেলে দেওয়া। ই-মেলে আসছে ‘টোপ’। ‘রিপ্লাই’ দেওয়ার অর্থ সেই ‘টোপ’ গিলে প্রতারকদের পাতা ফাঁদে গিয়ে পড়া। সাইবার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’র নয়া ধরন। 

Advertisement

কীভাবে হচ্ছে প্রতারণা? আচমকা কারও কাছে একটি ই-মেল আসছে। সেখানে আদালতের একটি নির্দেশিকা দেখা যাচ্ছে। বিষয়বস্তু হল, ‘আপনার অনলাইন অ্যাক্টিভিটিতে যৌন বিষয়ক আপত্তিকর কনটেন্ট পাওয়া গিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রিপ্লাই না দিলে গ্রেফতার করা হবে।’ মেইলে সিবিআই, সিআইডি ও দিল্লি পুলিশের উল্লেখ থাকছে। সবশেষে হুমকি, ‘উত্তর না দিলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ ভয় পেয়ে বা বিষয়টি ভালোভাবে বোঝার জন্য মেলের রিপ্লাই দিয়ে ফেললেই প্রতারকরা নানা ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নেয়। তারপর শুরু হয় ব্ল্যাকমেল। বলা হয়, ‘আপনার ছবি বা ভিডিও ইতিমধ্যেই ছড়িয়ে পড়েছে। এখনই টাকা পাঠান। নাহলে সব প্রকাশ্যে আসবে।’ সাইবার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এগুলি আসলে ‘সেক্সটরশন মেল’। প্রতারকরা মানুষের মনে অপরাধবোধ ও ভয় ঢুকিয়ে দেয়। মেল এমনভাবে লেখা হয়, যাতে মানুষ মনে করে সে সত্যিই কোনও অপরাধ করেছে। তাছাড়া প্রতারকরা জানে, কেউ যদি যৌনতা সংক্রান্ত কোনও মামলায় ফাঁসে, সে চুপ করে যেতে চাইবে। সেই দুর্বলতাকে কাজে লাগানো হচ্ছে। এক্ষেত্রে মেল লেখার জন্য এআই ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও জানাচ্ছে সাইবার পুলিশ। 
এক সরকারি কর্মচারী নাম না প্রকাশের শর্তে বলেন, ‘বুধবার রাতে অফিসের পাশে বসে চা খাচ্ছিলাম। তখন একটা মেল আসে। তাতে লেখা, আমার ব্রাউজিং রেকর্ডে যৌন অপরাধ ধরা পড়েছে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রিপ্লাই দিতে বলে। পরে আমি বুঝতে পারি, এটা প্রতারণার ছক।’ বারাসত সাইবার সেলের এক আধিকারিক বলেন, ‘মানুষের দুর্বলতার জায়গা কাজে লাগিয়ে এটা করা হচ্ছে। অনেকে অভিযোগ জানাতেও ভয় পাচ্ছেন। এই ধরনের একাধিক অভিযোগ আসছে। এই ধরনের প্রতারণার ফাঁদ চেনার একটা উপায় হল প্রতারকদের তরফে সময় বেঁধে দেওয়া। এটা করে মানসিক চাপ তৈরি করে তারা। গ্রামাঞ্চলেও এই ধরনের প্রতারণার খবর আসছে। কেউ ভয় পেয়ে রিপ্লাই করলেই তাকে টার্গেট করা হচ্ছে।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ