Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

অবনীন্দ্রনাথের স্মৃতিবিজড়িত বাড়ি আবাস ভাঙার কাজ বন্ধ

অবনীন্দ্রনাথের স্মৃতিবিজড়িত বাড়ি আবাস ভাঙার কাজ বন্ধ
  • ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
সংবাদদাতা, বোলপুর: শান্তিনিকেতনে অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতি বিজড়িত বাড়িটি  ভাঙার কাজ বন্ধ করল বোলপুর পুরসভা। বৃহস্পতিবার ‘আবাস’ নামাঙ্কিত ওই বাড়ির গেটে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন পুরসভার আধিকারিকরা। দিন কয়েক আগে বহুতল আবাসন গড়ার লক্ষ্যে বাড়িটি ভাঙার কাজ শুরু করেছিল প্রমোটাররা। জানাজানি হতেই শান্তিনিকেতনের প্রবীণ আশ্রমিক সহ বিশ্বভারতীর প্রাক্তনীরা সরব হন। নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। বুধবার জেলাশাসক বিধান রায়ের নির্দেশে জায়গার মাপজোখ করে তদন্ত শুরু করেন বোলপুরের ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের আধিকারিক সব্যসাচী ঘটক। এবার বোলপুর পুরসভা কড়া পদক্ষেপ নিল। পাশাপাশি, শান্তিনিকেতনের ঐতিহ্য রক্ষায় অবন ঠাকুরের পরিবারকে অনুরোধ করা হবে বলেও জানিয়েছেন চেয়ারপার্সন পর্ণা ঘোষ।‌ পুরসভার এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও আশ্রমিকরা। 
Advertisement
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাইপো অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জীবদ্দশায় তাঁর পুত্র অলকেন্দ্রনাথ ঠাকুর শান্তিনিকেতনে ‘আবাস’ বাড়িটি তৈরি করেছিলেন। শান্তিনিকেতনে থাকতে অবন ঠাকুর ওই বাড়িতে বেশ কিছু সময় কাটিয়েছিলেন বলেও জানা গিয়েছে। অবন ঠাকুরের নামে ওই এলাকার নাম হয় অবনপল্লি। এরপর অলকেন্দ্রনাথের পুত্র অমিতেন্দ্রনাথ ঠাকুরও বিশ্বভারতীতে চীনাভবনে অধ্যাপনায় যুক্ত থাকাকালীন ওই বাড়িতে বসবাস করতেন। ‌তিনি আমেরিকায় চলে গেলে বাড়িটি খুব বেশি ব্যবহৃত হতো না বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। 
এরমধ্যেই আচমকা ঠাকুর পরিবারের সেই ঐতিহ্যবাহী বাড়িটি ভাঙার কাজ শুরু করেন নির্মাণ শ্রমিকরা। তাঁদের থেকে জানা যায়, ব্যক্তি মালিকানাধীন ওই জমি অবন ঠাকুরের পরিবারের সদস্যরা এক প্রোমোটারকে বিক্রি করে দিয়েছেন।‌ সেখানে বহুতল আবাসন নির্মাণ করা হবে।‌ সেই লক্ষ্যে ওই বাড়ি ভাঙার কাজ শুরু হয়।‌ ওই বাড়ি হেরিটেজের আওতায় রয়েছে কিনা, তা ইতিমধ্যেই খতিয়ে দেখছেন জেলাশাসক বিধান রায়। 
এদিন বাড়ির ভাঙা কাজ বন্ধ করে গেটে তালা ঝুলিয়ে দেয় পুরসভা। পরে এক  সাংবাদিক সম্মেলনে পুরসভার চেয়ারপার্সন পর্ণা ঘোষ বলেন, ‘শান্তিনিকেতনে রবীন্দ্রনাথ, বিশ্বভারতী সহ ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্য ও বাসভবন রক্ষা করতে বোলপুর পুরসভা বদ্ধপরিকর। বাড়িটি ভেঙে ফেলা হচ্ছে জানতে পেরে খুব কষ্ট হয়েছে। কারণ, ঠাকুর পরিবারের ওই বাড়ির সঙ্গে অনেক স্মৃতি ও ঐতিহ্য জড়িয়ে রয়েছে। রবীন্দ্রনাথ ও ঠাকুর পরিবারের সব স্মৃতি ও ঐতিহ্য ভবিষ্যতের জন্য এখানে বিরাজমান থাকবে। সেগুলি কেউ নষ্ট করলে ছেড়ে কথা বলা হবে না। কারা ওই ভাঙার কাজ করছিল তা জানা না গেলেও বন্ধ করে  দেওয়া হয়েছে। ঘটনার তদন্ত করা শুরু হয়েছে। ব্যক্তিগত সম্পত্তি হলেও পুরসভা শান্তিনিকেতনে ঐতিহ্য নষ্ট করতে দেবে না। প্রয়োজনে অবন ঠাকুরের পরিবারকে ওই বাড়ি সংরক্ষণ করে ঐতিহ্য রক্ষা করতে অনুরোধ করব। যাতে তাঁর স্মৃতি বিলুপ্ত না হয়ে যায়।‌ আশা করি তাঁরা বুঝবেন।’
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ