Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

অবিলম্বে ইনডোর পরিষেবা চালুর দাবি উপ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে

অবিলম্বে ইনডোর পরিষেবা চালুর দাবি উপ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে
  • ২০ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, তেহট্ট: কয়েক বছর আগে তেহট্ট থানার চাঁদের ঘাট গ্রাম পঞ্চায়েতের কুষ্টিয়া উপ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ছিল সাতটি শয্যা। থাকত চিকিৎসক, নার্স সহ স্বাস্থ্যকর্মীরা। রাত বিরেতে কেউ অসুস্থ হলে তাঁদের ভরসা ছিল সেই উপ স্বাস্থ্যকেন্দ্র। এখন দেখলে বোঝা যাবে না যে, একটা সময়ে এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে রোগী ভর্তি হতো। চারিদিক ঝোপ জঙ্গলে ভর্তি। এখন এখানে সপ্তাহে তিনদিন আউটডোর চিকিৎসা হয়। বাকি দিন স্থানীয় বাসিন্দাদের ভরসা তেহট্ট মহকুমা হাসপাতাল। তাঁরা দাবি জানাচ্ছেন অবিলম্বে হাসপাতালটি আগের অবস্থায় ফেরানো হোক। তেহট্ট মহকুমা হাসপাতালের সুপার বাপ্পাদিত্য ঢালি বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাব। তাঁরা যা বলবেন তাই হবে।
Advertisement
স্থানীয় সুত্রে জানা গিয়েছে, চাঁদের ঘাট গ্রাম পঞ্চায়েত নদী দিয়ে ঘেরা। তেহট্ট বা কৃষ্ণনগর যেতে হলে নদী পার হয়ে যেতে হয়। আর নদী পার না হলে অন্তত ত্রিশ কিলোমিটার ঘুরে যেতে হয়। ফলে এলাকার বাসিন্দারা অসুস্থ হলে তাঁদের তেহট্ট হাসপাতালে যেতে হয়। আর না হলে বেথুয়াডহরী হাসপাতালে যেতে হয়। যার দূরত্ব চাঁদের ঘাট গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে প্রায় ত্রিশ কিলোমিটার। মানুষের এই অসুবিধার কথা ভেবে বাম সরকার কুষ্টিয়া এলাকায় একটি উপ স্বাস্থ্যকেন্দ্র তৈরি করে। সেখানে সাতটি শয্যা ছিল। রাত বিরেতে মানুষ অসুস্থ হলে চিকিৎসা পরিষেবা পাওয়া যেত। চিকিৎসক কোয়ার্টার, নার্স কোয়ার্টার থেকে স্বাস্থ্যকর্মীদের থাকার ঘরও ছিল। বাম আমলের শেষ দিকে আস্তে আস্তে সেখানে রোগী ভর্তি বন্ধ হয়ে যায় বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান। কিছুদিন পর শুধু আউটডোর চালু হয়। সেই ভাবে এখানও চলছে। আস্তে আস্তে কোয়ার্টারগুলো ভেঙে যাচ্ছে। চারিদিকে ঝোপজঙ্গল। এখন কেউ বুঝতে পারবে না এটা একটা সময়ে হাসপাতাল ছিল। এখন যে ঘরে আউটডোর হয় সেটা ছাড়া আর বাকি অংশ আবর্জনায় ভর্তি। এলাকার বাসিন্দারা বলেন, কেউ অসুস্থ হলে নদী পার করে তেহট্ট মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয়। এই সময়ে কিছুটা সুবিধা হলেও বর্ষাকালে চরম সমস্যায় পড়তে হয়। আর যদি তেহট্টে না যায় তাহলে বেথুয়াতে যেতে গেলে অনেক দূরত্ব অতিক্রম করতে হয়। এলাকার বাসিন্দা জনার্দন ঘোষ বলেন, আমরা ছোটবেলায় দেখেছি এখানে রোগী ভর্তি থাকত। এখন শুধু আউটডোর ছাড়া কিছু হয় না। আমরা এমন জায়গায় বাস করি যে নদী পার হয়ে তেহট্ট মহকুমা হাসপাতালে যেতে হয়। তাতে রাতে সমস্যায় পড়তে হয়। বিশেষ করে প্রসূতি মা ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে। আমরা চাই রাজ্য সরকার এই হাসপাতালে ইনডোর বিভাগ শুরু করুক। তাতে আমাদের মতো গ্রামের মানুষদের উপকার হয়। 
সম্পর্কিত সংবাদ