বঙ্গে ১৬ লক্ষের নামে আপত্তি, তালিকা ফ্রিজের ৩ দিন আগেই ভোটার বাদে সক্রিয় কমিশন
  • ২৮ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: চাপের মুখে পিঠ বাঁচানো! পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদের সম্পূর্ণ ‘দায়’ মুখ্য নির্বাচনি আধিকারিকের দপ্তরের (সিইও অফিস) উপর চাপিয়েছে জ্ঞানেশ কুমার। তাও খোদ সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা দিয়ে। কিন্তু নাম বাদের প্রক্রিয়ায় কি নির্দিষ্ট কোনো প্ল্যানিং ছিল? ইঙ্গিত তেমনই মিলছে। তাও কমিশনের অন্দরমহল থেকেই। জানা যাচ্ছে, ভোটার তালিকা ফ্রিজের ঠিক তিনদিন আগে এই ‘পরিকল্পনা’ বাস্তবায়িত করা হয়। অন্দরের খবর, ৭ এপ্রিল ফ্রিজ হয়েছিল তালিকা। আর ৫ এপ্রিল ১২ লক্ষ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দিতে ট্রাইবুনালে আবেদন জানিয়েছিল কমিশন। অথচ, তার দিন কয়েক আগেই সুপ্রিম কোর্ট নিযুক্ত বিচারকরা ‘বিচারাধীন’ তালিকায় থাকা ওই ১২ লক্ষ ভোটারের নথি ঘেঁটে তাঁদের ক্লিনচিট দিয়েছিলেন। অর্থাৎ, এই ১২ লক্ষ ভোটারের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার বদলে স্বতঃপ্রণোদিত আবেদন জানিয়ে তাঁদের বিরুদ্ধে আবেদন করা হয়েছিল ট্রাইবুনালে। আর ঠিক তার পরদিন, অর্থাৎ ৬ এপ্রিল আরও ১ লক্ষ ৩৯ হাজার ৯৫৪ জন বৈধ ভোটারের নামে আপত্তি জানিয়ে খোদ কমিশন ফর্ম-৭ দিয়েছিল ট্রাইবুনালে। 

Advertisement

তাৎপর্যপূর্ণ ব্যাপার হল, ৭ এপ্রিল অর্থাৎ ভোটার তালিকা ফ্রিজের দিন কোনো ভোটারের নামে কমিশন ট্রাইবুনালে আবেদন জানায়নি। ধাপে ধাপে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ হওয়া পর্যন্ত মোট ১৬ লক্ষ ৮ হাজার ১৭৫ জন চিহ্নিত ‘বৈধ’ ভোটারের নামে আপত্তি জানিয়েছিল কমিশন। স্বাভাবিকভাবেই চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় এই বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম না থাকায় তাঁরা ভোটদানে বঞ্চিত হয়েছেন। পাশাপাশি এখনও তাঁদের ভাগ্য ঝুলে রয়েছে। আর গোটা বিষয়টি নিয়ে জ্ঞানেশ কুমাররা নাকি অবগতই ছিলেন না! উলটে ঘুরিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দিকে বল ঠেলে তাঁরা দাবি করেছেন, সমস্ত কর্মকাণ্ডই হয়েছে শীর্ষ আদালতের নির্দেশে। হলফনামায় সিইও দপ্তরের কোনো আধিকারিকের নাম অবশ্য উল্লেখ করা হয়নি। 
যে ১৬ লক্ষের বেশি নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, তাঁরা রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তত ২২২টির ভোটার। জানা গিয়েছে, শুধুমাত্র মালদহ, মুর্শিদাবাদ ও উত্তর দিনাজপুরেই ৪৪.৬ শতাংশ ভোটারের নাম বিচারকরা তালিকাভুক্ত করার পরও তা বাদ দেওয়ার আবেদন জানিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। মালদহ জেলাতেই সংখ্যাটা ৩ লক্ষ ৩ হাজার ৮৯৬। এছাড়াও মুর্শিদাবাদে ২ লক্ষ ৭ হাজার ৪৯৫ এবং উত্তর দিনাজপুরে ১ লক্ষ ৪৫ হাজার ৯৬৯ জন ভোটারের বিরুদ্ধে আবেদন জানিয়েছিল কমিশন। আর সবটাই ‘সুপরিকল্পিত’ উপায়েই করা হয়েছিল বলেই দাবি বিশেষজ্ঞ মহলের।