Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

অভ্যন্তরীণ ত্রুটি খুঁজে দলকে শক্তিশালী করতে বুথভিত্তিক সমীক্ষা করবে তৃণমূল

অভ্যন্তরীণ ত্রুটি খুঁজে দলকে শক্তিশালী করতে বুথভিত্তিক সমীক্ষা করবে তৃণমূল
  • ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর:  লক্ষ্য ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন। সেই কথা মাথায় রেখে মেদিনীপুর পুরসভা এলাকায় বুথভিত্তিক সমীক্ষা করবে তৃণমূল। অর্থাৎ প্রতিটি বুথ ধরে চলবে পর্যালোচনা। এর মাধ্যমে সাংগঠনিক দুর্বলতা চিহ্নিত করা সম্ভব হবে। মূলত তৃণমূল নেতৃত্ব চাইছে, শহর এলাকার ভোট ফিরে পেতে। কারণ, গত কয়েকটি নির্বাচনে গ্রামীণ এলাকায় ভোট ব্যাঙ্ক মজবুত হলেও শহর এলাকায় ভোট কমেছে শাসক দলের। তাই নিয়ে বেশ চিন্তায় জেলা নেতৃত্ব। তৃণমূল নেতৃত্বের কথায়, সমীক্ষা করলেই নানা খামতি উঠে আসবে। এরপর সমস্যার সমাধানে জোর দেওয়া হবে। পাশাপাশি শহর জুড়ে জনসংযোগের ঘাটতি রয়েছে। তবে উপনির্বাচনে শহরের ভোট ব্যাঙ্ক কিছুটা ফিরলেও বেশকিছু বুথে পিছিয়ে ঘাসফুল শিবির। 
Advertisement
এদিন মেদিনীপুর বিধানসভার নব নির্বাচিত বিধায়ক তথা তৃণমূলের জেলা সভাপতি সুজয় হাজরা বলেন, বুথস্তরে সমীক্ষা হবে। শহরে বেশকিছু ওয়ার্ডে পিছিয়ে রয়েছে দল। দলের অন্দরে এবিষয়ে একাধিকবার আলোচনা হয়েছে। আগামী বিধানসভা নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে বুথ স্তরে সংগঠন আরও শক্তিশালী করতে হবে। সকলকে একসাথে চলার বার্তা দেওয়া হচ্ছে। তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, মেদিনীপুর পুরসভা এলাকায় গত লোকসভা নির্বাচনে এগিয়ে থাকার বার্তা দিয়েছিলেন তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা। তাঁরা লিড নিয়ে আশাবাদী ছিলেন। কিন্তু লোকসভা নির্বাচনেও মেদিনীপুর শহরের ২৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১৫টি ওয়ার্ডেই পিছিয়ে যায় তৃণমূল। প্রায় ৫ হাজার ভোটে পিছিয়ে পড়ে ঘাসফুল শিবির। এরপর নড়েচড়ে বসে নেতৃত্ব। উপ নির্বাচনে পুরসভা এলাকার ভোট নিয়ে চিন্তায় ছিলেন তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা। তবে উপ নির্বাচনে মেদিনীপুর পুরসভার ২৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে বেশিরভাগ ওয়ার্ডে এগিয়ে রয়েছে তৃণমূল। তবে ৭টি ওয়ার্ডে অনেকটাই এগিয়ে গেরুয়া শিবির। সেটা ভালো চোখে দেখছে না জেলা নেতৃত্ব। কারণ জেলা নেতৃত্ব চাইছে একশো শতাংশ ওয়ার্ডেই তৃণমূলের জয় নিশ্চিত করতে। তাই বিশেষ সমীক্ষায় নামছে তৃণমূল। এর মাধ্যমে শাসক দল সম্পর্কে মানুষের মনোভাব জানতে চাইছে জেলা নেতৃত্ব।এক তৃণমূল নেতার কথায়, বুথ স্তরে গোষ্ঠীকোন্দল মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শহর এলাকার পাশাপাশি গ্রামীণ এলাকাতেও গোষ্ঠীকোন্দল চরমে উঠেছে। এছাড়া বহু জনপ্রতিনিধির জনসংযোগ তলানিতে নেমে এসেছে, যা সাধারণ মানুষ ভালো চোখে দেখছেন না। বুথ স্তরে বৈঠক করে সাংগঠনিক দুর্বলতাগুলি চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। জেলা বিজেপির মুখপাত্র অরূপ দাস বলেন, কোনও কিছু করেই লাভ হবে না। সাধারণ মানুষ তৃণমূলকে আর পছন্দ করছেন না। ওরা মানুষের কাজ করার থেকে দুর্নীতি ভালো পারে।
সম্পর্কিত সংবাদ