নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: মুর্শিদাবাদ জেলায় অভূতপূর্ব সাড়া পড়ল ‘শিল্পের সমাধান’ শিবিরে। শিল্প উদ্যোগীদের রেজিস্ট্রেশনের নিরিখে রাজ্যের মধ্যে সেরা হয়েছে এই জেলা। গত ১৫ দিন ধরে ব্লক ও মহকুমা স্তরে ক্যাম্প তৈরি করে জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরা ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প উদ্যোগীদের রেজিস্ট্রেশন করিয়েছে। চলতি মরশুমে জেলায় সাড়ে আট হাজার শিল্প উদ্যোগের নিবন্ধীকরণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। জেলা প্রশাসন খুব সহজেই সেই লক্ষ্যমাত্রা ছড়িয়ে গিয়েছে। এবার সাড়ে ন’হাজারের বেশি রেজিস্ট্রেশন হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। শুক্রবার বহরমপুর রবীন্দ্রসদনে জেলাস্তরের একটি অনুষ্ঠানে রেজিস্ট্রেশনের নিরিখে সেরা ব্লকগুলিকে পুরস্কৃত করা হয়।
Advertisement
এদিনের অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন জেলাশাসক রাজর্ষি মিত্র, জেলা পরিষদের সভাধিপতি রুবিয়া সুলতানা, অতিরিক্ত জেলাশাসক(জেলা পরিষদ) শামসুর রহমান, ডিস্ট্রিক্ট ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশনের আধিকারিক সুকান্ত সাহা প্রমুখ। জেলাশাসক বলেন, বিগত ১৫ দিন ধরে ব্লকস্তরে শিল্পের সমাধান ক্যাম্প হয়েছে। প্রতিটি জায়গায় ব্যাপক ভিড় হয়। বেশ কিছু ব্লক ভালো কাজ করায় এদিন তাদের পুরস্কৃত করা হয়েছে। সরকার এবং আমাদের কাজ হল, মানুষের মধ্যে উদ্যোগ তৈরির চেষ্টা করা। শুধু লোন দিয়ে দিলে হবে না। যে ব্যক্তি লোন পাচ্ছেন, তাঁর খাটার প্রবণতা কতটা আছে, সেটা দেখতে হবে। তারপর দরকার ট্রেনিং। ডিস্ট্রিক্ট ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশন পুরো বিষয়টির উপর কাজ করছে। রাজ্যে এবার প্রায় ২০ হাজারের মতো রেজিস্ট্রেশন হয়েছে। তার মধ্যে আমরা প্রথম। আমাদের জেলায় ৯ হাজার ৬১৬জন উদ্যোগী রেজিস্ট্রেশন করিয়েছেন। সভাধিপতি বলেন, মুর্শিদাবাদ জেলায় বরাবরই মানুষ কিছু না কিছু করতে চায়। অনেকেই বাড়িতে ছোট ছোট শিল্প তৈরি করছে। আজকের দিনে মেয়েরাই বেশি এগিয়ে আসছে। কেউ বাড়িতে আচার তৈরি করে তা বাজারে বিক্রি করছে, কেউ বড়ি বানিয়ে বাজারজাত করছে। আবার কেউ ছোট বেকারি বানিয়ে কেক পাউরুটি বিক্রি করে ভালো উপার্জন করছে। আমরা শিল্পের সমাধানের মাধ্যমে তাদের এক ছাতার তলায় আনতে চাইছি। মানুষ আমাদের উদ্যোগে সাড়া দিয়েছে। সেই জন্য এবার রেকর্ড পরিমাণ উদ্যোগী রেজিস্ট্রেশন করিয়েছেন। তাঁদের জেলা প্রশাসন নানাভাবে সাহায্য করছে এবং করবে। রাজ্য সরকার যে কোনও শিল্প তৈরিতে সবসময় উদ্যোগপতিদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। সুকান্তবাবু বলেন, রাজ্যের মধ্যে সবথেকে বেশি রেজিস্ট্রেশন করাতে পেরেছি আমরা। গোটা রাজ্যে যা রেজিস্ট্রেশন হয়েছে, তার প্রায় অর্ধেক হয়েছে মুর্শিদাবাদে। আমরাই প্রথম। যাঁরা ভবিষ্যৎনিধি ক্রেডিট কার্ড পাচ্ছেন, তাঁরা যেন লোন পান। ব্যাঙ্কগুলিকে এগিয়ে আসার জন্য আমরা অনুরোধ করছি।



