নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম করে কালনা পুরসভার চেয়ারম্যানের থেকে টাকা চাওয়ার ঘটনায় ধৃত জুনাইদুল হক চৌধুরীর প্রতারণার জাল বিস্তৃত রানাঘাটেও! শুধু তাই নয়, জুনাইদুলের হাত যে ভিয়েতনাম পর্যন্ত বিস্তৃত তারও প্রমাণ মিলেছে এই প্রতারণার ঘটনার তদন্তে। সোমবার রানাঘাট থানায় এক যুবক অভিযোগ দায়ের করে জানান, সরকারি চাকরি দেওয়ার নামে ৪৮ লক্ষ টাকা প্রতারণা হয়েছে তাঁর সঙ্গেও। এই প্রতারণাকাণ্ডের পিছনে রয়েছে জুনাইদুল।
Advertisement
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতারিত ব্যক্তি রানাঘাটের ছোট বাজার এলাকার বাসিন্দা অভিষেক মৈত্র। বিটেক ইঞ্জিনিয়ার ওই যুবক একটি বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত। তাঁর বাড়ির ঠিক পাশেই রয়েছে একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার। দায়ের হওয়া অভিযোগে প্রতারিত যুবক দাবি করেন, ২০২০ সালে ফেব্রুয়ারি মাসে ওই ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক বিশ্বজিৎ কুণ্ডু ওরফে বিশু তাঁকে সরকারি উচ্চপদে চাকরির লোভ দেখায়। টাকার বিনিময়ে রাজ্য অথবা কেন্দ্রীয় সরকারের উচ্চ পদে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভনে প্রথমে আগ্রহ প্রকাশ করেননি তিনি। যদিও পরে অভিযুক্ত বিশুর নাছোড়বান্দা দাবিতে সম্মত হন অভিষেক। এরপর ওই বিশুর মারফত পরিচয় হয় রানাঘাটের বেগোপাড়ার বাসিন্দা শ্যামল দে-র সঙ্গে। প্রতারিত যুবকের অভিযোগ, এরপর বিশু এবং শ্যামল তাঁকে নিয়ে যায় জুনাইদুলের কাছে। সেখানেই জুনাইদুল নিজেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত সচিব বলে পরিচয় দেয়। তার সঙ্গে থাকা একাধিক দেহরক্ষী, গাড়ি এবং অন্যান্য ব্যবস্থা দেখে সে কথায় বিশ্বাস করেন অভিষেক মৈত্র। এরপর চাকরি পাওয়ার আশায় অভিষেক ১৮ দফায় ব্যাংক ট্রানজাকশনের মাধ্যমে মোট ৪০ লক্ষ টাকা জুনাইদুলকে দেয়। এছাড়াও নগদ আট লক্ষ টাকাও নেয়। কিন্তু এরপর থেকে মাসের পর মাস কেটে গেলেও চাকরি হয়নি। বারবার বিভিন্ন অজুহাতে অভিষেককে ঘুরিয়ে গিয়েছে অভিযুক্তরা। শেষমেশ অবশ্য চাকরি পাওয়ার আশা ছেড়ে নিজের টাকা দাবি করেন অভিষেক। সেই চাপে একদিন অভিষেকের অ্যাকাউন্টে ৫ লক্ষ টাকা ঢোকে।
ঘটনা অন্যদিকে মোড় নেয়, কিড ট্রিটের বিধায়ক আবাসন থেকে জুনাইদুল গ্রেপ্তার হওয়ার পর। টিভিতে দেখেই অভিষেক বুঝতে পারেন, এই জুনাইদুল আদতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত সচিব নন। তিনি প্রতারিত হয়েছেন। এদিকে, ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিস দেখে, যে পাঁচ লক্ষ টাকা রানাঘাটের অভিষেকের অ্যাকাউন্টে ঢুকেছে, সেই টাকা এসেছে ভিয়েতনাম থেকে ট্রানজাকশনের মাধ্যমে! অর্থাৎ আন্তর্জাতিক যোগ। সেই মতো ডেকে পাঠানো হয়েছিল রানাঘাটের এই যুবককে। সেখানে তদন্তকারীদের বিষয়টি খুলে বলেন প্রতারিত যুবক। এরপর সোমবার রানাঘাট থানাতেও গোটা ঘটনাটি জানিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন অভিষেক মৈত্র। আপাতত সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে রানাঘাট থানা। ভিয়েতনাম থেকে আসা টাকা, আন্তর্জাতিক যোগ এবং জুনাইদুলের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে তারাও। বিষয়টি নিয়ে রানাঘাট পুলিস জেলার এক আধিকারিক বলেন, আমরা অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত শুরু হয়েছে। যেহেতু মূল অভিযুক্ত আগেই গ্রেপ্তার হয়েছে তাই পরবর্তীতে আমরা তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করবো। অন্যদিকে, প্রতারিত যুবকের আইনজীবী রাজা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, এই প্রতারণা চক্রের জাল অনেক দূর পর্যন্ত বিস্তৃত বলে মনে হচ্ছে। আমার মক্কেল জুনাইদুলের মামলার তদন্তে পুলিসের ডাক পেয়ে বুঝতে পারেন তিনি প্রতারিত হয়েছেন। আদতে জুনাইদুল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কেউ নন।
ঘটনা অন্যদিকে মোড় নেয়, কিড ট্রিটের বিধায়ক আবাসন থেকে জুনাইদুল গ্রেপ্তার হওয়ার পর। টিভিতে দেখেই অভিষেক বুঝতে পারেন, এই জুনাইদুল আদতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত সচিব নন। তিনি প্রতারিত হয়েছেন। এদিকে, ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিস দেখে, যে পাঁচ লক্ষ টাকা রানাঘাটের অভিষেকের অ্যাকাউন্টে ঢুকেছে, সেই টাকা এসেছে ভিয়েতনাম থেকে ট্রানজাকশনের মাধ্যমে! অর্থাৎ আন্তর্জাতিক যোগ। সেই মতো ডেকে পাঠানো হয়েছিল রানাঘাটের এই যুবককে। সেখানে তদন্তকারীদের বিষয়টি খুলে বলেন প্রতারিত যুবক। এরপর সোমবার রানাঘাট থানাতেও গোটা ঘটনাটি জানিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন অভিষেক মৈত্র। আপাতত সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে রানাঘাট থানা। ভিয়েতনাম থেকে আসা টাকা, আন্তর্জাতিক যোগ এবং জুনাইদুলের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে তারাও। বিষয়টি নিয়ে রানাঘাট পুলিস জেলার এক আধিকারিক বলেন, আমরা অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত শুরু হয়েছে। যেহেতু মূল অভিযুক্ত আগেই গ্রেপ্তার হয়েছে তাই পরবর্তীতে আমরা তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করবো। অন্যদিকে, প্রতারিত যুবকের আইনজীবী রাজা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, এই প্রতারণা চক্রের জাল অনেক দূর পর্যন্ত বিস্তৃত বলে মনে হচ্ছে। আমার মক্কেল জুনাইদুলের মামলার তদন্তে পুলিসের ডাক পেয়ে বুঝতে পারেন তিনি প্রতারিত হয়েছেন। আদতে জুনাইদুল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কেউ নন।



