Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

অভয়ারণ্য বন্ধ থাকায় বছরের প্রথম দিনে হতাশ হয়ে ফিরলেন পর্যটকরা

অভয়ারণ্য বন্ধ থাকায় বছরের প্রথম দিনে হতাশ হয়ে ফিরলেন পর্যটকরা
  • ২ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: বছরের প্রথম দিনেই বন্ধ বেথুয়াডহরি অভয়ারণ্য।‌ এর ফলে বহু পর্যটককে এদিন বেথুয়াডহরি ঘুরতে এসে হতাশ হয়েই ফিরে যেতে হয়। এর আগে ২৫ ডিসেম্বর তারিখেও বন্ধ ছিল বেথুয়াডহরি অভয়ারণ্য। যার ফলে বর্ষবরণের উৎসবের মরশুমে টিকিট বিক্রিতে বড়সড় ধাক্কা খেল নদীয়া জেলার বনদপ্তর। কারণ এই দুটো দিনেই ব্যাপক টিকিট বিক্রি হয়ে এসেছে বিগত বছরগুলোতে। এদিন বেথুয়াডহরি অভয়ারণ্যের বাইরে পিকনিক করতে দেখা যায় পর্যটকদের। বর্ষবরণের আনন্দের সঙ্গেই পর্যটকদের মুখে হতাশার ছাপ মিশে ছিল। তাঁরা বলেন, যদি অভয়ারণ্য খোলা থাকত, তাহলে উৎসবের আমেজটা কয়েকগুণ বেড়ে যেত।
Advertisement
উল্লেখ্য, নদীয়া জেলার অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র হল নাকাশিপাড়া ব্লকের বেথুয়াডহরি অভয়ারণ্য। যেখানে বন্য জন্তুদের জঙ্গলের মধ্যে ঘুরে বেড়াতে দেখা যায়। হরিণ, ময়াল, জলাশয়ে ঘড়িয়াল সহ বিভিন্ন পাখিকে খাঁচার বাইরে ঘুরে বেড়াতে দেখা যায়। তাই দেখতে প্রতিবছর বহু পর্যটক আসেন বেথুয়াডহরিতে। শীতের সময় পর্যটকদের ভিড় কার্যত উপচে পড়ে। কিন্তু এবছর সেই তুলনায় ভিড় অনেকটাই কম। বনদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, চলতি বছর ডিসেম্বর মাসে মাত্র দু’হাজার টিকিট বিক্রি হয়েছে। যার মধ্যে ২৬ ডিসেম্বর থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দৈনিক গড়ে দুশো করে টিকিট বিক্রি হয়েছে। অর্থাৎ পাঁচদিনেই এক হাজার টিকিট বিক্রি হয়েছে। কিন্তু বনদপ্তরের  আধিকারিকদের দাবি, ২৫ ডিসেম্বর ও ১ জানুয়ারি এই দু’দিন অভয়ারণ্য খোলা থাকলে টিকিট বিক্রির পরিমাণ এক লাফে অনেকটা বাড়ত। 
বেথুয়াডহরি অভয়ারণ্য প্রতি বুধবার বন্ধ থাকে। ঘটনাচক্রে এবছর বড়দিন ও বর্ষবরণের তারিখ পড়েছে বুধবার। অগত্যা বন্ধ রাখতে হয়েছে অভয়ারণ্যের দরজা। এর আগে ২০১৯ সালের ২৫ ডিসেম্বর এবং ২০২০ সালের ১ জানুয়ারি এই একই কারণে অভয়ারণ্য বন্ধ ছিল। কিন্তু পর্যটকদের প্রশ্ন, বৎসরান্তের এই দু’দিন কি খোলা রাখা যেত না? চাকদহ থেকে পরিবার নিয়ে এসেছিলেন গৃহবধূ বিশ্ববীণা দত্ত। তিনি বলেন, ‘একে বর্ষবরণ, তার ওপর ছুটির দিন। ছেলের পরীক্ষা হয়ে গিয়েছে। তাই ছেলেকে অভয়ারণ্য দেখানোর জন্য বেথুয়াডহরি এসেছিলাম। কিন্তু এখানে এসে জানতে পারি, অভয়ারণ্য বন্ধ। তাই ফিরে যেতে হচ্ছে।’ মুর্শিদাবাদ থেকে পিকনিক করতে এসেছিল কয়েকটি পরিবার। অভয়ারণ্যের বাইরের একটি ফাঁকা জায়গায় পিকনিকের আয়োজন করা হয়। বনভোজনের জন্য আসা তন্ময় দাস বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে অনেক ছোট ছোট বাচ্চা এসেছে। ভেবেছিলাম পিকনিকের পাশাপাশি অভয়ারণ্যও ঘোরা হয়ে যাবে। কিন্তু সে আর হল কই!’
সম্পর্কিত সংবাদ