সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: অভাবের তাড়নায় নাবালিকা মেয়ের পড়া ছাড়িয়ে বিয়ে দিতে উদ্যোগী হয়েছিলেন দিনমজুর বাবা-মা। সেকথা জানতে পেরে সাথী লায়েক নামে ওই স্কুলছুট মেয়েকে সবুজ সাথীর সাইকেল দিয়ে ফের বিদ্যালয়ের আঙিনায় ফেরালেন জয়পুরের বিডিও। জয়পুর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণিতে ভর্তি হয়ে খুব খুশি সাথী। তার পড়াশোনার জন্য বিডিও যাবতীয় সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন। সাথীর পরিবারকে ত্রিপলও দেওয়া হয়েছে। জয়পুরের বিডিও দেবজ্যোতি পাত্র বলেন, কাটুল গ্রামের ওই নাবালিকার পড়াশোনা ছাড়িয়ে বিয়ে দেওয়ার তোড়জোড় করেছিল পরিবারের লোকজন। সেকথা জানতে পেরে নাবালিকার মা-বাবাকে বোঝানো হয়। প্রথমে তাঁরা নিজেদের দারিদ্র্যের কথা জানিয়ে মেয়ের বিয়ে দিতে অনড় ছিলেন। পরে তাঁদের মেয়ের পড়াশোনার সমস্ত খরচ বহনের আশ্বাস দেওয়া হয়। তারপর ওঁরা মেয়েকে স্কুলে পাঠাতে রাজি হন। ওই পরিবার ভাঙা ঘরে বাস করে। আবাসের তালিকায় নাম ছিল না। আগামী দিনে তাঁদের বাংলার বাড়ি প্রকল্পে ঘর দেওয়ার জন্য সুপারিশ করা হবে। সাথী বলে, আর পাঁচটা মেয়ের মতো আমিও পড়তে চাই। কিন্তু পরিবারের অভাবের কথা ভেবে বিয়েতে রাজি হয়েছিলাম। বিডিও স্যার বাবা ও মাকে বুঝিয়েছেন। আমাকে স্কুলে ক্লাস নাইনে ভর্তি করে দিয়েছেন। এবার থেকে রোজ স্কুলে যাব। প্রশাসন থেকে আমাকে কিছু পোশাক ও প্রসাধনী দ্রব্যও কিনে দেওয়া হয়েছে। সাথীর বাবা বনমালী লায়েক বলেন, আমার এক ছেলে ও এক মেয়ে। ছেলেটি বিশেষভাবে সক্ষম। লোকের জমিতে দিনমজুরি করে সংসার চালাই। তাও সবসময় কাজ পাওয়া যায় না। তখন জঙ্গলের শালপাতা সেলাই করে বিক্রি করি। যেটুকু টাকা রোজগার হয়, তা সংসার ও ছেলের চিকিৎসার খরচ চালাতেই শেষ হয়ে যায়। সেজন্য মেয়ের বিয়ে ঠিক করেছিলাম। বিডিও সাহেব মেয়ের পড়ার ব্যবস্থা করার আশ্বাস দিয়েছেন। তাকে আবার স্কুলে ভর্তি করা হয়েছে।



