Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

অভাব জয় করে রসায়নে পিএইচডি করতে মার্কিনে পাড়ি প্রিয়নাথের, গর্বিত বসন্তপুর  

অভাব জয় করে রসায়নে পিএইচডি করতে মার্কিনে পাড়ি প্রিয়নাথের, গর্বিত বসন্তপুর
 
  • ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, বসন্তপুর: বাবা দর্জির কাজ করে সংসার টানেন। অভাবের কারণে বহুদিন দুবেলা ভাত জোটেনি থালায়। পড়াশোনা করতে গিয়ে পদে পদে বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে। গৃহশিক্ষক রাখতে পারেননি। সেই পড়ুয়াই গবেষণা করতে পাড়ি দিচ্ছেন আমেরিকায়। তিনি খড়গপুর-২ ব্লকের বসন্তপুর গ্রামের বাসিন্দা প্রিয়নাথ দাস। একটি নয়, আমেরিকার দু’-দু’টি বিশ্ববিদ্যালয়ে জৈব রসায়নে গবেষণার সুযোগ পেয়েছেন প্রিয়নাথ। একটি ম্যাসাচুসেটস ইউনিভার্সিটি ও অপরটি মিসৌরি কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটি। এর মধ্যে যে কোনও একটি বিশ্ববিদ্যালয় বেছে নিতে হবে তাঁকে।
Advertisement
ইতিমধ্যেই আমেরিকা যাওয়ার প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছেন তিনি। প্রিয়নাথের এই গগনচুম্বি সাফল্যে আনন্দিত স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁরা জানাচ্ছেন, প্রিয়নাথ ছোট থেকেই মেধাবী ছাত্র হিসেবে পরিচিত। অভাবের চোখ রাঙানিকে তুচ্ছ করে মনের জোরে তিনি পড়াশোনা চালিয়ে গিয়েছেন। ঝা চকচকে ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে নয়, অতীব সাধারণ বাংলা মাধ্যমে স্কুলে পড়েই তাঁর এই সাফল্য। এদিন ছোট্ট ভাড়া বাড়িতে দাঁড়িয়ে প্রিয়নাথ বলছিলেন, আমেরিকায় গবেষণা করতে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি। ছোট থেকেই রসায়ন বিষয়ে আগ্রহ ছিল। সেই লক্ষ্যেই অবিচল থেকেছি। স্কুল জীবন থেকেই শিক্ষক-শিক্ষিকারা পাশে থেকেছেন বরাবর। এছাড়া বাবা-মা, দাদার অবদানও কোনও দিন ভোলার নয়। আরও পড়াশোনা করে নিজেকে সুপ্রতিষ্ঠিত করতে চাই। আমার এই সাফল্যের পিছনে বহু মানুষের অবদান রয়েছে। ওই এলাকার বাসিন্দা অনুপ চক্রবর্তী বলেন, প্রিয়নাথ খুব কষ্ট করে পড়াশোনা করেছেন। সাধনা ছাড়া কোনও কিছুই সম্ভব নয়। অভাব থাকতেই পারে, কিন্তু সাধনার দ্বারা তাকে জয় করে এগিয়ে যাওয়া যে সম্ভব তা দেখিয়ে দিয়েছেন প্রিয়নাথ।  
প্রিয়নাথের বাবা মনোজকুমার দাস দর্জির কাজ করেন। তবে রেডিমেড জামাকাপড়ের ভিড়ে সেই ব্যবসা কার্যত লাটে উঠেছে। তাঁর মা শ্যামলী দাস গৃহিণী। স্থানীয় তেলিপুকুর প্রাইমারি স্কুল থেকে পড়াশোনা শুরু করেন প্রিয়নাথ। প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে তেলিপুকুর হাই স্কুল থেকে মাধ্যমিক পাশ করেন। মাধ্যমিকে ৯১ শতাংশ নম্বর পান। পরে বাখরাবাদ ভারতী বিদ্যাপীঠ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় পাশ করেন। উচ্চ মাধ্যমিকে পান ৮৭ শতাংশ নম্বর। পরবর্তী সময়ে মেদিনীপুর কলেজ থেকে স্নাতক হন। এরপর রসায়ন নিয়ে স্নাতকোত্তর করেন হায়দরাবাদ আইআইটি থেকে। সেখানেও সাফল্যের সঙ্গে উত্তীর্ণ হন তিনি। পরিবারের সদস্যরা জানাচ্ছেন, সরকারি বিভিন্ন স্কলারশিপের সুবিধা পেয়েছেন প্রিয়নাথ। তাছাড়া পড়াশোনার জন্য ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ নিয়েছেন। প্রিয়নাথ বলছিলেন, পড়শোনার সময় বহু শিক্ষক টাকা নিতেন না। বরং তাঁরা বই দিয়ে সাহায্য করেছেন। বাজারে অনেক টাকার ঋণ রয়েছে। আমেরিকা যেতেও বহু টাকা খরচ হবে। সেই টাকা জোগাড় করার চেষ্টা করছি। পিএইচডি করার সময়ে কিছু টাকা স্টাইপেন্ড পাব। সুবিধা হবে। প্রিয়নাথের বাবা মনোজকুমার দাস বলেন, ওর জন্য গর্ব হয়। একটা ছোট্ট ঘরে পরিবারের সকলে মিলে থাকি। খুব কষ্ট করে পড়শোনা চালিয়ে গিয়েছে। আমেরিকা যেতে গেলে অনেক খরচ।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ