নয়াদিল্লি: অস্বাস্থ্যকর জীবযাপন। আর তার জেরে একের পর এক রোগের বাসা। এই নিয়ে বিগত কয়েক বছর ধরেই চলছে সচেতনতা প্রচার। এরমধ্যে ন্যাশনাল ফ্যামিলি হেলথ সার্ভের সাম্প্রতিক রিপোর্টে যে তথ্য উঠে এসেছে তাতে কপালে ভাঁজ পড়েছে স্বাস্থ্য বিভাগের। এই রিপোর্ট অনুসারে, দেশের প্রতি তিনজন মহিলার মধ্যে অন্তত একজন এবং প্রতি চারজন পুরুষের মধ্যে একজন স্থুলত্বের সমস্যায় আক্রান্ত। পাশাপাশি পাল্লা দিয়ে বেড়েছে ব্লাড সুগার আক্রান্তের সংখ্যা।
গতবারের তুলনায় সাম্প্রতিক সমীক্ষা রিপোর্ট অনুসারে, এই দুই রোগের হার দেশের বেশ কয়েকটি রাজ্যে বেশি। সুগারের ক্ষেত্রে যথাক্রমে কেরল, গোয়া, পুদুচেরি, তামিলনাড়ু এবং পশ্চিমবঙ্গে গতবারের তুলনায় মহিলা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে। অন্যদিকে পুরুষদের হিসাবে যথাক্রমে গোয়া, কেরল, পুদুচেরি, পশ্চিমবঙ্গ এবং তামিলনাড়ুতে বেড়েছে সেই হার। সুগারের পাশাপাশি স্থূলত্বের হিসাবে মহিলাদের মধ্যে পুদুচেরি, লাক্ষাদ্বীপ, অন্ধ্রপ্রদেশ, সিকিম এবং কেরলে গতবারের তুলনায় এবছর আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে। আবার পুরুষদের ক্ষেত্রে এই হার সবচেয়ে বেশি আন্দামান ও নিকোবল, পুদুচেরি, গোয়া, সিকিম এবং অন্ধ্রপ্রদেশে।
সমীক্ষা বলছে, গড়ে ১৫ থেকে ৪৯ বছর বয়সি মহিলাদের মধ্যে স্থলত্বের হার ৩০.৭ শতাংশ। একই বয়সের পুরুষদের ক্ষেত্রে তা ২৭.৩ শতাংশ। অন্যদিকে সুগারের ক্ষেত্রে মহিলাদের মধ্যে এই হার ১৭.৮ শতাংশ এবং পুরুষদের মধ্যে ২০.৯ শতাংশ। সব ক্ষেত্রেই গতবারের সমীক্ষার তুলনায় সাম্প্রতিক হার বেশি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যেভাবে স্থূলত্ব এবং সুগারে আক্রান্তের সংখ্যা গতবারের থেকে বেড়েছে, তার মূল কারণই হল অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন। তার মধ্যে হাই ক্যালোরি খাবার-দাবার, শারীরিক কার্যকলাপ কম এবং দ্রুত বার্ধক্যের দিকে পা বাড়ানোর মতো বিষয় রয়েছে। সাধারণ মানুষ এখনই সচেতন না হলে আগামী দিনে স্বাস্থ্যক্ষেত্রে গোটা দেশের জন্য অনেকটাই ক্ষতি ডেকে নিয়ে আসবে এমনটাই মনে করা হচ্ছে।