Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

অবাধ যৌন সম্পর্ক, বীরভূমে বাড়ছে এইচআইভি সংক্রমণ

অবাধ যৌন সম্পর্ক, বীরভূমে বাড়ছে এইচআইভি সংক্রমণ
  • ৭ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
সংবাদদাতা, সিউড়ি: সোশ্যাল মিডিয়ায় পরিচয় সূত্রে সুরক্ষা ছাড়া যৌন সম্পর্কের জেরে এইচআইভি সংক্রমণ বাড়ছে। বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন জেলা স্বাস্থ্যদপ্তর। সচেতনতামূলক প্রচার চালিয়েও এইচআইভি সংক্রমণে রাশ টানা যাচ্ছে না। আক্রান্তদের একটি বড় অংশ অবিবাহিত। বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় পরিচয় ও সেখান থেকে কোনও সুরক্ষা ছাড়া যৌন সম্পর্কের জেরেই এইচআইভি সংক্রমণ বাড়ছে।
Advertisement
বীরভূম স্বাস্থ্যজেলায় সরকারিভাবে প্রায় ৭৫০জন এইচআইভি সংক্রামিত রোগীর চিকিৎসা চলছে। এবছর নভেম্বর মাস অবধি বীরভূমে ৫৪জনের এইচআইভি ধরা পড়েছে। গতবছর এই সংখ্যা ছিল ৬০জন। যদিও স্বাস্থ্যকর্তারা মনে করছেন, জেলায় এইচআইভি আক্রান্তের সংখ্যা আসলে অনেক বেশি। কারণ এইচআইভি সন্দেহ হলে অনেকেই পরিচয় গোপন রেখে চিকিৎসার জন্য ভিনজেলা বা অন্য রাজ্যে গিয়ে পরীক্ষা করাচ্ছেন। ফলে বীরভূম জেলার বাসিন্দা হলেও ওই আক্রান্ত ব্যক্তিদের বিষয়ে জেলা স্বাস্থ্যদপ্তরে কোনও তথ্য থাকছে না।
চিকিৎসকরা জানান, এইচআইভি সংক্রামিত হলে প্রাথমিকভাবে রোগীর শরীরে কিছু উপসর্গ দেখা যায়। উপসর্গ দেখে চিকিৎসক রোগীকে এইচআইভি টেস্ট করার পরামর্শ দেন। তিনটি পদ্ধতিতে এই রোগীদের শনাক্ত করা হয়। প্রথমত, সমস্ত টিবি রোগী ও অন্তঃসত্ত্বা মহিলাদের এইচআইভি পরীক্ষা করা হয়। এছাড়া, কোনও রোগীর শরীরে এইচআইভি সংক্রমণের সন্দেহ হলে প্রাথমিক কিট দিয়ে পরীক্ষা করা হয়। তাতে পজিটিভ ধরা পড়লে সেই রোগীকে সরকারি হাসপাতালে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। এই স্বাস্থ্য জেলার অধীনে সাতটি হাসপাতালে আইসিটিসি ইউনিটে এইচআইভি পরীক্ষা হয়। সেগুলি হল সাঁইথিয়া স্টেট জেনারেল, দুবরাজপুর মানসায়ের, লাভপুর, মহম্মদবাজার, বোলপুর সিয়ান, বড়চাতুরি ও সিউড়ি সুপারস্পেশালিটি হাসপাতাল। এর মধ্যে সিউড়ি হাসপাতালে এইচআইভি পরীক্ষার দু’টি আইসিটিসি ইউনিট রয়েছে। আইসিটিসি ইউনিটে চূড়ান্ত পরীক্ষার পরই রোগীকে এইচআইভি পজিটিভ বলে চিহ্নিত করা হয়। মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক হিমাদ্রি আরি বলেন, এখনকার দিনে সোশ্যাল মিডিয়ায় আলাপ জমিয়ে সুরক্ষা ছাড়া অবাধে যৌন সম্পর্কে লিপ্ত হচ্ছে মানুষ। এর জেরেই এই সংক্রমণ ছড়াচ্ছে। আমাদের জেলায় ঠিক কতজন এইচআইভি সংক্রামিত, সেবিষয়ে সঠিক তথ্য নেই। তবে বোঝা যাচ্ছে, সংক্রামিতের সংখ্যা দিনের পর দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বহু সচেতনতা প্রচার সত্ত্বেও মানুষ সচেতন হচ্ছেন না।
সম্পর্কিত সংবাদ