Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

অবৈধ নেশামুক্তি কেন্দ্রে অভিযানের নির্দেশ জেলাশাসকের, হবে তদন্ত

অবৈধ নেশামুক্তি কেন্দ্রে অভিযানের নির্দেশ জেলাশাসকের, হবে তদন্ত
  • ৮ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, পতিরাম: জেলায় একটিও নেশামুক্তি কেন্দ্র চালানোর অনুমতি দেওয়া হয়নি। তবুও রমরমিয়ে চলছে নেশা ছাড়ানোর কেন্দ্র। এরকম কিছু অবৈধ কেন্দ্রে পিটিয়ে খুন করে হাসপাতালে রেখে চলে যাওয়া, ভুল চিকিৎসার জন্য মৃত্যুর একাধিক অভিযোগের  পরও কীভাবে সেগুলি চলছে, কেন প্রশাসন কোনও ব্যবস্থা নিচ্ছে না, সেই প্রশ্ন উঠলেও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। মঙ্গলবার রাতে তপনের একটি নেশামুক্তি কেন্দ্রে গাফিলতিতে মৃত্যুর অভিযোগ ওঠার পর অবশেষে ঘুম ভাঙল। দক্ষিণ দিনাজপুর জেলাজুড়ে অভিযান চালানোর নির্দেশ দিলেন জেলাশাসক বিজিন কৃষ্ণা। অবৈধ নেশামুক্তি কেন্দ্র চলতে দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। তবে, অনুমতি নিয়ে খোলার রাস্তাও দেখিয়েছেন।জেলাশাসকের কথায়, তপনে নেশামুক্তি কেন্দ্রে মৃত্যুর খবর শুনেছি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সুদীপ দাস বলেন, জেলায় কাউকেই নেশামুক্তি কেন্দ্রের জন্য লাইসেন্স দেওয়া হয়নি। আমরা বিষয়টি  গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। 
Advertisement
গত মঙ্গলবার তপনে নেশামুক্তি কেন্দ্রে যুবকের অস্বাভাবিক মৃত্যুর পর পরিবার অভিযোগ করেছিল গাফিলতির জেরেই প্রাণ হারাতে হয়েছে।  মৃতের আত্মীয় আব্দুল রাজ্জাক সরকার বলেন, নেশা ছাড়ানোর জন্য ওই কেন্দ্রে আত্মীয়কে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু সুস্থ মানুষ অসুস্থ হয়ে মারা গেল। গাফিলতির জন্যেই এমন ঘটনা ঘটেছে। সঠিক তদন্ত এবং দোষীদের বিচারের দাবি জানিয়েছি। 
পুলিস সূত্রে খবর, ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে বালুরঘাটের একটি নেশামুক্তি কেন্দ্রে যুবককে পিটিয়ে খুন করার অভিযোগ ওঠে। তাঁকে মৃত অবস্থায় আবার বালুরঘাট জেলা হাসপাতালে ফেলে চলে গিয়েছিল কেন্দ্রের কর্মীরা। অভিযোগ, নেশা ছাড়ানোর নামে কেন্দ্রগুলিতে মারধর করা হয় রোগীদের। চলতি বছরের মে মাসের শেষে পতিরাম থানার আরও একটি কেন্দ্রে যুবকের অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়। ওই ঘটনাতেও গাফিলতির অভিযোগ স্পষ্ট। পরবর্তীতে এবছর গঙ্গারামপুর থানা এলাকার আরও দু’টি কেন্দ্রে দুই যুবকের মৃত্যু হয়। যা নিয়ে ক্ষোভ ছড়িয়েছে জেলাজুড়ে।
প্রশাসন সূত্রে খবর, জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর কিংবা জেলা প্রশাসন নেশামুক্তি কেন্দ্র চালানোর জন্য ‘ক্লিনিক্যাল এস্টাব্লিশমেন্ট লাইসেন্স’ দেয়। ওই লাইসেন্সের পাশাপাশি কেন্দ্রে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক কিংবা বিশেষজ্ঞদের থাকা প্রয়োজন। কিন্তু জেলাজুড়ে বহু অবৈধ নেশামুক্তি কেন্দ্র গজিয়ে উঠেছে। সেখানে কোনও নিয়ম মানা হচ্ছে না। কীভাবে নেশামুক্তি কেন্দ্রগুলি চলছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। 
সম্পর্কিত সংবাদ