সংবাদদাতা, শান্তিনিকেতন: অজয় নদের উপর অবৈধ বালিঘাটের দখলদারি কাদের কাছে থাকবে তা নিয়ে গ্রামের দু’পক্ষের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হল। ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে বোলপুর থানার বাহিরী-পাঁচশোয়া পঞ্চায়েতের নতুনগ্রামে তিনজন জখম হলেন। তাদের চিকিৎসার জন্য বোলপুর মহকুমা হাসপাতালে পাঠানো হয়। সংঘর্ষের খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে যায় বোলপুর থানার পুলিস। নতুন করে অশান্তি এড়াতে গ্রামে পুলিস মোতায়েন রয়েছে। তবে কোনও পক্ষই থানায় অভিযোগ দায়ের করেনি।
Advertisement
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নদী থেকে অবৈধভাবে বালি তোলা যাবে না বলে কড়া নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু সেই নির্দেশ উপেক্ষা করে বোলপুর থানার নতুনগ্রামে অজয় নদ থেকে অবৈধভাবে বালি তোলা হচ্ছে। উল্লেখ্য, এই এলাকায় কোনও বৈধ বালিঘাট নেই। সেকারণে গ্রামেরই কয়েকজন পুলিস- প্রশাসনকে ফাঁকি দিয়ে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে দেদার বালি তুলছে। ওই রাতে বালির কারবারকে কেন্দ্র করে গ্রামেরই দু’পক্ষের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। দু’পক্ষই নিজেদেরকে তৃণমূল সমর্থক বলে দাবি করে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এলাকায় তৃণমূলের পার্টি অফিসের সামনে বসেছিলেন বেশ কয়েকজন। আচমকা কয়েকজন এসে মারধর শুরু করে। একজনের মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয়। এই ঘটনায় ছ’জন জখম হন। পরে তাঁদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য বোলপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে গ্রামে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। গ্রামবাসীরা আশঙ্কা করছেন, পুলিস না থাকলে আবারও ব্যাপক অশান্তি হতে পারে। জখম শেখ রবিউল্লা, শেখ শফিকুল আলম বলেন, নদী থেকে এখন বালি তোলা বন্ধ আছে। কিন্তু মঙ্গলবার দুপুরে গ্রামের কয়েকজন ট্রাক্টরে করে বালি তুলছিল। আমরা তাদের বাধা দিই। সেকারণেই রাতে আমাদের উপর চড়াও হয়ে মারধর করে। ওরা ও আমরা সবাই তৃণমূল করি। নানুরের তৃণমূল বিধায়ক বিধানচন্দ্র মাঝি বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী সমস্ত নদ-নদী থেকে বালি তোলা বন্ধ রয়েছে। তারপরও কেউ বালি তুললে পুলিস ও প্রশাসনকে তাদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নিতে আবেদন জানাব।



