Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

অবৈধ বালি পাচার রুখতে নানুরের ঘাটে ঘাটে জেলাশাসকের অভিযান

অবৈধ বালি পাচার রুখতে নানুরের ঘাটে ঘাটে জেলাশাসকের অভিযান
  • ১১ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
সংবাদদাতা, বোলপুর: অবৈধ বালি পাচার রুখতে ফের সক্রিয় হল বীরভূম জেলা প্রশাসন। বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার ভোর পর্যন্ত নানুর থানার বিভিন্ন জায়গায় হানা দেয় জেলা প্রশাসন ও পুলিস। বীরভূমের জেলাশাসক বিধান রায়ের নেতৃত্বে বিভিন্ন অবৈধ বালিঘাটে এই অভিযান চালানো হয়। জেলাশাসকের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলাশাসক(উন্নয়ন) বিশ্বজিৎ মোদক ও বোলপুরের এসডিপিও রিকি আগরওয়াল। আচমকা এই হানায় বিভিন্ন বালিঘাট থেকে বালি তোলার জন্য ব্যবহৃত দু’টি আর্থ মুভার, ১২টি বালি ভর্তি ডাম্পার, আটটি বাইক বাজেয়াপ্ত করেছে প্রশাসন। জেলায় অবৈধ বালি পাচার কোনওভাবেই আপোস করা যাবে না–এদিনের অভিযান‌ চালিয়ে তা বুঝিয়ে দিয়েছে জেলা প্রশাসন। আগামী দিনেও একইভাবে এই অভিযান চলবে বলে জেলাশাসক জানিয়েছেন। প্রশাসনের এই কঠোর পদক্ষেপে খুশি নানুরের বাসিন্দারা। 
Advertisement
বীরভূম জেলার একটা বড় অংশজুড়ে বইছে অজয় নদ। জেলায় ইলামবাজার, বোলপুর, নানুর হয়ে এই নদ পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়ায় গিয়ে গঙ্গায় মিশেছে। বীরভূমের যে এলাকাগুলিতে নদীটি বয়ে গিয়েছে সেখানকার বালি উৎকৃষ্ট হওয়ার কারণে নির্মাণকার্যে তা বহুল ব্যবহৃত হয়। এই বালি থেকে কোটি কোটি টাকা উপার্জন হওয়ার কারণে বৈধ ঘাটের পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন থানা এলাকাগুলিতে ব্যাঙের ছাতার মতো অবৈধ বালিঘাটও গজিয়ে উঠেছে। প্রশাসন মাঝে মাঝেই অভিযান ও নজরদারি চালায়। কিন্তু জেলায় বিভিন্ন নির্বাচন, মেলা ও উৎসবে পুলিস-প্রশাসন ব্যস্ত হয়ে পড়লে সেই সুযোগটাই কাজে লাগায় বালি মাফিয়ারা। তাই বালি পাচারের অভিযোগ সামনে আসতেই বেশ কয়েকদিন ধরে অভিযান চালাচ্ছে পুলিস ও প্রশাসন। এরপর নানুর থানায় অবৈধ বালির রমরমা কারবার জানতে পেরে বৃহস্পতিবার রাতে জেলাশাসক বিধান রায়ের নেতৃত্বে প্রশাসনের একটি বড় দল রাউতারা, হোসেনপুর, পালিতপুর এলাকায় পৌঁছয়। একের পর এক বালিঘাটে আচমকা হানা দিতেই যানবাহন ও বালি তোলার উপকরণ ফেলে বালি মাফিয়ারা চম্পট দেয়। এরপরেই জেলাশাসকের নির্দেশে নানুর থানার পুলিস দু’টি আর্থমুভার সহ ডাম্পার ও অন্যান্য যানবাহন বাজেয়াপ্ত করে। সংশ্লিষ্ট ঘাটগুলির বিরুদ্ধে আইন মেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বিধানবাবু। তিনি আরও বলেন, নানুরের পাশাপাশি একই সময়ে ইলামবাজার, সিউড়ি, রামপুরহাট ও ময়ূরেশ্বরেও অভিযান চালানো হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই এই অভিযান চলছে। আগামী দিনেও চলবে। বালি উত্তোলন ও পাচারের ঘটনা সামনে এলেই প্রশাসন কঠোরভাবে ব্যবস্থা নেবে। অবৈধ কারবার কঠিনভাবে  দমন করা হবে।
সম্পর্কিত সংবাদ