Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না চাষিরা, তিনটি ফুলকপি বিকোচ্ছে মাত্র ১০ টাকায়

ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না চাষিরা, তিনটি ফুলকপি বিকোচ্ছে মাত্র ১০ টাকায়
  • ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, লালবাগ: তিনটে ফুলকপির দাম দশ টাকা। তাও কিনছে না মানুষ। ফলে অনাদরে বাজারে গড়াগড়ি খাচ্ছে শীতের সেরা সব্জি। পাইকারি বাজারে দাম আরও কম। লাভ তো দূরের কথা, জমি থেকে বাজারে নিয়ে যাওয়ার খরচও উঠছে না। ফলে আর্থিক ক্ষতির মুখে চাষিরা। দাম না পাওয়ায় অনেকেই মাঠমুখো হচ্ছেন না। জমিতেই পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে ফুলকপি। এই পরিস্থিতিতে আগামী বছরে ফুলকপি চাষে অনীহাই প্রকাশ করেছেন লালবাগ মহকুমার অধিকাংশ চাষি। এদিকে বাজারে জোগান বেশি থাকায় সমস্যায় পড়েছেন খুচরো ব্যবসায়ীরাও। ক্রেতা না থাকায় দিনের শেষে বেশকিছু অবিক্রিত থেকে যাচ্ছে। 
Advertisement
শীতে বাঙালি হেঁশেলে ফুলকপির কদর আছে। ফুলকপির সিঙাড়া, খিচুড়িতে ফুলকপি, ফুলকপি দিয়ে মাছের ঝাল চেটেপুটে খায় বাঙালি। লালবাগ, জিয়াগঞ্জ, ভগবানগোলা, রানিতলা প্রভৃতি এলাকায় ফুলকপির চাষ হয়। কার্তিকের তৃতীয় সপ্তাহ থেকেই বাজারে ফুলকপি উঠতে শুরু করে। সেই সময়ে ফুলকপি অনেকেরই নাগালের বাইরে ছিল। অগ্রআয়ণের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে বাজারে জোগান বাড়তে থাকায় দাম কমতে শুরু করে। তবে গত কয়েকদিন ধরে একেবারেই দাম নেই। রানিতলা থানার কোলানের বাসিন্দা শেখর মণ্ডল দুই বিঘা জমিতে ফুলকপি চাষ করেছেন। তিনি বলেন, পাইকারি বাজারে বড় সাইজের ফুলকপি প্রতি একশো ২০০-২৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। কোনও কোনও দিন বাজারে জোগান এত বেশি হচ্ছে যে ১৫০ টাকায়ও বিক্রি হচ্ছে না। লেবার দিয়ে কেটে গাড়ি ভাড়া করে বাজারে নিয়ে যাওয়ার খরচ উঠছে না। মুর্শিদাবাদ থানার গুধিয়ার বাসিন্দা নজর আলি দেড় বিঘা জমিতে ফুলকপি চাষ করেছেন। তিনি বলেন, গত বছর প্রথম এক বিঘা জমিতে ফুলকপি চাষ করেছিলাম। ভালো মুনাফা হওয়ায় এই বছরে দেড় বিঘা জমিতে ফুলকপি লাগিয়েছি। ফলন ভালোই হয়েছে। কিন্তু বাজারে দাম না থাকায় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছি। এখন মনে হচ্ছে চাষের খরচও উঠবে না। ভগবানগোলার হজরত শেখ বলেন, গত সপ্তাহে দিন পাঁচেক ফুলকপি নিয়ে পাইকারি বাজারে গিয়েছিলাম। বাজারে নিয়ে যাওয়ার খরচ না ওঠায় এখন আর বাজারে যাচ্ছি না। জিয়াগঞ্জের এক খুচরো ব্যবসায়ী বলেন, অন্যান্য সব্জিতে অল্প লাভ হলেও ফুলকপি বিক্রি করে লাভ হচ্ছে না। দিনের দিন টাটকা বিক্রি করতে না পারলেই বিপদ। পরের দিন টাটকা ফুলকপি ছেড়ে ছেড়ে বড় সাইজের বাসি ফুলকপি কেউ এক জোড়া পাঁচ টাকাতেও নিতে চাইছেন না। দিনের শেষে বিক্রি না হলে ফেলে দিতে হচ্ছে। লালগোলার এক সব্জি ব্যবসায়ী বলেন, পৌষ মাসে ফুলকপির দাম এতটা কমে না। মাঝারি সাইজের কপি ১০-১৫ টাকায় বিক্রি হয়। এই বছর পৌষ মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহেই দাম তলানিতে পৌঁছেছে। মুর্শিদাবাদ-জিয়াগঞ্জ ব্লক সহ কৃষি আধিকারিক সুনীত দাস বলেন, চলতি বছরে অনুকূল আবহাওয়া থাকায় ফলন ভালো হয়েছে। ফলে বাজারে জোগান বেশি হওয়ায় দাম কমেছে। তবে জোগান কমলে চাষিরা আবার দাম পাবেন বলে আশা করছি।
সম্পর্কিত সংবাদ