Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ন্যাশনালে  দুই প্রসূতির মৃত্যুতে বিতর্ক,  বাকবিতণ্ডায় ভণ্ডুল স্বাস্থ্য ভবনের বৈঠক

ন্যাশনালে  দুই প্রসূতির মৃত্যুতে বিতর্ক,  বাকবিতণ্ডায় ভণ্ডুল স্বাস্থ্য ভবনের বৈঠক
  • ৭ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
বিশ্বজিৎ দাস, কলকাতা: মাতৃমৃত্যুর কারণ জানার সরকারি বৈঠকেই তুলকালাম কাণ্ড ঘটল স্বাস্থ্যভবনে। পার্কসার্কাসের ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজে সম্প্রতি দুই প্রসূতির মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। জবাব চাওয়া হয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং চিকিৎসকের। প্রসূতিমৃত্যুর কারণ জানতে তৈরি স্বাস্থ্যভবনের শীর্ষ কমিটির বৈঠকে তলব করা হয় তাঁদের। সেখানে মৃত্যুর কারণ নিয়ে তুমুল বাকবিতণ্ডার জেরে এই প্রথম স্বাস্থ্যদপ্তরের কোনও বৈঠক মাঝপথেই ভেস্তে গেল। স্বাস্থ্য অধিকর্তা, রাজ্য পরিবার কল্যাণ আধিকারিক সহ একাধিক পদস্থকর্তার সামনেই এই ঘটনা। বৈঠকে পাবলিক হেলথ সার্ভিসেসের শীর্ষকর্তা঩দের পাশাপাশি ছিলেন ন্যাশনালের উপাধ্যক্ষ এবং স্ত্রীরোগ বিভাগের অধ্যাপিকা সোমাজিতা চক্রবর্তী। এছাড়া ভার্চুয়ালি ছিলেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার সরকারি হাসপাতালগুলির প্রতিনিধিরা। অভিযোগ, প্রসূতিমৃত্যুর দুটি বিতর্কিত ঘটনায় স্বাস্থ্যকর্তাদের অভিযোগ কিছুতেই মানতে চাননি ন্যাশনালের ওই অধ্যাপিকা। কেন একজনের প্রসব সিনিয়র ডাক্তারের তত্ত্বাবধানে হয়নি, এবং একজন পিজি ট্রেনিকে দিয়ে আশঙ্কাজনক এক প্রসূতির প্রসব করানো হল কেন? এই প্রশ্ন করা হয় তাঁকে। অভিযোগ, তখনই ওই শীর্ষ কমিটির সদস্যদের উদ্দেশে চিৎকার করতে থাকেন তিনি। এতে ‘অপমানিত’ স্বাস্থ্য অধিকর্তা, অধিকর্তা (পরিবার কল্যাণ), পরিবার কল্যাণ আধিকারিক, উপ স্বাস্থ্য অধিকর্তা (আরসিএই) প্রমুখ বৈঠক ছেড়ে যান ।
Advertisement
বুধবারের ওই ভণ্ডুল বৈঠকের পর পরিস্থিতি এমনই দাঁড়ায় যে, বৃহস্পতিবার ন্যাশনালের উপাধ্যক্ষ ও স্ত্রীরোগ বিভাগের প্রধান স্বাস্থ্যভবনে যান। তাঁদের দুঃখ প্রকাশেও অবশ্য বরফ গলেনি। সূত্রের খবর, ন্যাশনালের সুপার তথা উপাধ্যক্ষ ডাঃ অর্ঘ্য মৈত্রকে অবিলম্বে সেখানকার স্ত্রীরোগ বিভাগের প্রধানকে শো-কজ করতে বলা হয়েছে। এই বিষয়ে শুক্রবার সোমাজিতাদেবী বলেন, ‘আপনাকে বলব কেন? বক্তব্য যথাস্থানেই জানিয়েছি।’ অশান্তি এবং বৈঠক ভেস্তে যাওয়ার খবর স্বীকার করেও রাজ্য পরিবার কল্যাণ আধিকারিক ডাঃ অসীম দাস মালাকার বলেন, ‘সংবাদমাধ্যমে আর কিছু বলব না।’ ন্যাশনাল ও স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রের খবর, ন্যাশনালে দুই প্রসূতির মৃত্যুর কারণ নিয়ে নানা সংশয় তৈরি হওয়ায় স্বাস্থ্যভবনে ডেকে পাঠানো হয়েছিল ন্যাশনালের সুপার-উপাধ্যক্ষ ও ওই অধ্যাপিকাকে। দুই প্রসূতির একজন ছিলেন চল্লিশোর্ধ্ব। জরায়ুর পরিবর্তে তিনি সন্তানধারণ করেন ফ্যালোপিয়ান টিউবে। এই ‘টিউবাল প্রেগনেন্সি’র ক্ষেত্রে সন্তানটি হয়নি এবং ওই মায়ের মৃত্যু হয়। এই ‘হাই রিস্ক’ প্রসূতিকে বাঁচাতে আরও সতর্ক হওয়া গেল না কেন? আর একজনের প্রসবের সময় ওটি’তে সিনিয়র ডাক্তার ছিলেন না কেন? এনিয়ে চাপানউতোরেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি।
সম্পর্কিত সংবাদ