Bartaman Logo
২৮ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নন্দীগ্রামে নার্সের রহস্যমৃত্যু, কবর থেকে দেহ তুলে ময়নাতদন্তে

খুনের অভিযোগে বিবাহিত নার্সের দেহ কবর থেকে তুলে ময়নাতদন্তে পাঠাল পুলিশ। নন্দীগ্রাম থানার সামসাবাদ গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীন কাঞ্চননগর গ্রামের ঘটনা।

নন্দীগ্রামে নার্সের রহস্যমৃত্যু, কবর থেকে দেহ তুলে ময়নাতদন্তে
  • ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: খুনের অভিযোগে বিবাহিত নার্সের দেহ কবর থেকে তুলে ময়নাতদন্তে পাঠাল পুলিশ। নন্দীগ্রাম থানার সামসাবাদ গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীন কাঞ্চননগর গ্রামের ঘটনা। বুধবার সকালে ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশের উপস্থিতিতে কবর থেকে দেহ তোলা হয়। বাপেরবাড়ির অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ দেহ ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে। মৃতার নাম মৌসুমি নাসরিন (২৬)। ২২ফেব্রুয়ারি শ্বশুরবাড়ি থেকে অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় দেহ উদ্ধার হয়। ২৪তারিখ মৌসুমির বাবা শেখ মুকলেসুর রহমান মেয়েকে খুন করা হয়েছে বলে নন্দীগ্রাম থানায় লিখিত অভিযোগ জানান। মৃত নার্সের স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়ির বিরুদ্ধে মামলা রুজু হয়েছে।

Advertisement

জানা গিয়েছে, নন্দীগ্রাম-১ ব্লকের সরবেড়িয়া গ্রামের মুকলেসুর সাহেবের তিন মেয়ে। তাদের মধ্যে মৌসুমি বড়। তিনি নন্দীগ্রাম জেলা হাসপাতালে নার্স ছিলেন। ছ’বছর আগে কাঞ্চননগর গ্রামের সৈয়দ সামিউল আলির সঙ্গে মৌসুমির বিয়ে হয়। সামিউল বিদেশে জাহাজে কাজ করেন। মৌসুমি অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। গত ২২ফেব্রুয়ারি শ্বশুরবাড়ি থেকেই তাঁর দেহ উদ্ধার হয়। অসুস্থ হয়ে মৌসুমি মারা গিয়েছেন বলে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের দাবি। যদিও এই দাবি মানতে নারাজ নিহত নার্সের বাপেরবাড়ির লোকজন। তাঁদের আপত্তি সত্ত্বেও জোর করে ওই নার্সের দেহ কবর দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
বুধবার সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ নন্দীগ্রাম-১ বিডিও নাজিরুদ্দিন সরকার ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে কাঞ্চননগরে যান। এছাড়া, নন্দীগ্রাম থানার আইসি প্রসেনজিৎ দত্ত বিশাল বাহিনী নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। বেলা সাড়ে ১২টা নাগাদ কবর থেকে দেহ তোলা হয়। আশপাশের এলাকা থেকে বহু লোকজন ভিড় করেন। ময়নাতদন্তের জন্য দেহ তমলুক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। মৃতার বাবা বলেন, আমার মেয়ে নার্সের চাকরি করত। তারপরও শ্বশুরবাড়ি থেকে যৌতুক ও অতিরিক্ত পণের জন্য চাপ দিত। শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার চলত। মেয়ে অন্তঃসত্ত্বা ছিল। ২২ফেব্রুয়ারি আমরা একটি অচেনা নম্বর থেকে ফোন পাই। জানানো হয়, মেয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছে। আমরা তাড়াতাড়ি মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে দেখি, মৌসুমি আর নেই। শ্বশুরবাড়ির লোকজন আমাদের আপত্তি অগ্রাহ্য করে কবর দিয়ে দেয়। অনেক কষ্ট করে মেয়েকে পড়াশোনা করিয়েছি। ওর এমন করুণ পরিণতি মেনে নিতে পারছি না। আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস, মেয়েকে খুন করা হয়েছে। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হলে সেটা পরিষ্কার হবে।
পুলিশ জানিয়েছে, ওই যুবতীকে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ আনা হয়েছে। তাই দেহ ময়নাতদন্ত করা জরুরি হয়ে পড়েছে। বুধবার ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে দেহ কবর থেকে তোলা হয়েছে। তারপর ময়নাতদন্ত করার জন্য তমলুক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

সম্পর্কিত সংবাদ