সংবাদদাতা, বাগডোগরা: সময়ের সঙ্গে সঙ্গে গন্ধ ও স্বাদ কমছে ঐতিহ্যবাহী দার্জিলিংয়ের কমলালেবুর। আকারেও আগের তুলনায় দিন দিন ছোট হয়ে আসছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তন, মাটির চরিত্রে বদল সহ নানা কারণে দার্জিলিংয়ের বিখ্যাত ম্যান্ডারিন কমলার গন্ধ ও স্বাদ কমে আসছে। দার্জিলিংয়ের সেই গড়িমা ফেরাতে উদ্যোগী হয়েছে উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর ফ্লোরিকালচার অ্যান্ড এগ্রি-বিজনেস ম্যাজেনমেন্ট বা কোফার্মের উদ্যোগে এবং জিটিএ’র সহযোগিতায় এনবিইউ ক্যাম্পাসে ‘গ্রাফটেড’ করে দার্জিলিংয়ের বিখ্যাত ম্যান্ডারিন কমলার চারা তৈরি শুরু হয়েছে। বানানো হয়েছে নার্সারি। আট হাজার চারা তৈরির লক্ষ্য রয়েছে। ইতিমধ্যেই তিন হাজার চারা তৈরিও করে ফেলেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোফার্ম। চারাগুলি দার্জিলিং জেলার মিরিক, কার্শিয়াং সহ দার্জিলিং শহর ও কালিম্পংয়ের কমলা চাষিদের হাতে তুলে দেওয়া হবে।
এ বিষয়ে উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের কোফার্মের টেকনিক্যাল অফিসার অমরেন্দ্র পান্ডে বলেন, চায়ের মতোই দার্জিলিংয়ের কমলালেবু বিখ্যাত। স্বাদ, গন্ধ ও আকারের দিক থেকে বেশ খ্যাতি রয়েছে এই কমলার। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই ঐতিহ্য বিলুপ্তের পথে। বর্তমানে নাগপুর, খাসি, ভুটান সহ বিভিন্ন জায়গা থেকে বাজারে কমলা ঢুকছে। ওসবের তুলনায় দার্জিলিংয়ের কমলালেবুর স্বাদ ও গন্ধ কমে আসছে। আকারের দিক থেকেও ছোট হয়ে গিয়েছে। দার্জিলিংয়ের কমলার গরিমা ফেরাতে গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের সহযোগিতায় বিশ্ববিদ্যালয় এই উদ্যোগ নিয়েছে। এই চারা রোপণ করলে আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে গাছে ফল ধরা শুরু করবে।
সেই ফলের মান ও স্বাদ ভালো হবে বলেই আশাবাদী কোফার্মের টেকনিক্যাল অফিসার। অমরেন্দ্রবাবু আরও জানান, দার্জিলিংয়ের কমলা চাষিদের এই চারা বিতরণের টার্গেট রাখা হয়েছে আট হাজার। যার মধ্যে প্রায় তিন হাজার চারা ইতিমধ্যেই তৈরি হয়ে গিয়েছে।
এ বিষয়ে জিটিএ’র মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক এস পি শর্মা জানান, বিভিন্ন ব্লক থেকে গ্রাম পঞ্চায়েতে ক্যাম্প করে চাষিদের কাছ থেকে আবেদন নেওয়া হচ্ছে। আগামী দু’মাসের মধ্যে চাষিদের হাতে কমলার চারা তুলে দেওয়া হবে।
অপরদিকে, উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার নূপুর দাস বলেন, দার্জিলিং তথা উত্তরবঙ্গের ঐতিহ্য পাহাড়ের কমলাকে পুনরুজ্জীবিত করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের সহযোগিতায় মিলিতভাবে কাজ করে দার্জিলিংয়ের কমলার মান বাড়াতেই আমাদের কোফার্মের এই উদ্যোগ।



