সংবাদদাতা, কাটোয়া: বর্ষা আসতেই কাটোয়া মহকুমাজুড়ে বাড়ছে সাপের উপদ্রব। পরিস্থিতি যা তাতে ইতিমধ্যেই কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি হওয়া সাপে কাটা রোগীর সংখ্যা দু’শো ছাড়িয়ে গিয়েছে। আতঙ্কিত কাটোয়ার গ্রামীণ এলাকার মানুষ। হাসপাতালে যথেচ্ছ পরিমাণে মজুত রয়েছে অ্যান্টি ভেনাম। এই পরিস্থিতিতে কাটোয়া মহকুমা প্রশাসন সচেতন করছেন মানুষজনকে। কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালের সুপার বিপ্লব মণ্ডল বলেন, বর্ষা যত আসছে সাপে কামড়ানো রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। আমরা অ্যান্টি ভেনাম যথেষ্ট পরিমাণে মজুত রেখেছি। মানুষকে সচেতন থাকতে হবে। ওঝার কাছে না গিয়ে সরাসরি হাসপাতালে আসতে হবে রোগীকে।
সম্প্রতি কাটোয়ার কুরচি গ্রামে সাপের কামড়ে মৃত্যু হয় এক গৃহবধূর। ওই বধূকে সাপে কাটার মিনিট চল্লিশের মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও শেষরক্ষা হয়নি। মারা যান ওই মহিলা। বর্ষা আসতেই কাটোয়ার গ্রামগুলিতে সাপের আতঙ্ক বেড়েছে। কাটোয়া মহকুমা হাসাপাতালে চিকিৎসাধীন সাপে কাটা রোগীর পরিসংখ্যানেই তা স্পষ্ট। গত ছ’মাসে সাপের কামড় খেয়ে এই হাসপাতালে ২৩২জন ভর্তি হয়েছেন। মার্চ, এপ্রিল থেকেই ধারাবাহিকভাবে এখানে রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকে। গত মে মাসে ৭৭জন ভর্তি হন। জুন মাসে সবচেয়ে বেশি সাপের কামড় খেয়ে ১৩৩ জন ভর্তি হন। এর মধ্যে মৃত্যু হয় একজনের। আর জুলাই মাসে এখনও পর্যন্ত প্রায় ৫৫জন ভর্তি হয়েছেন। তারমধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে। সমস্তিপুরের বাসিন্দা সামাদ শেখ বলেন, সকালে জমিতে আল কাটছিলাম। সেখানেই সাপের ছোবল খাই। কাটোয়ার ন্যাশনাল পাড়ার বাসিন্দা কল্পনা মণ্ডল বলেন, কয়েকদিন আগেই বাড়িতে একটা চন্দ্রবোড়া সাপ ঢুকে গিয়েছিল। পরে বনদপ্তর এসে উদ্ধার করে। গত কয়েকমাসে কেতুগ্রাম-২ ব্লকে চন্দ্রবোড়া সাপের উপদ্রব বেড়েছে। তৎপর হয়েছে প্রশাসনও। কাটোয়া মহকুমা প্রশাসন সাপ নিয়ে সচেতনতার শিবিরি করছে। গ্রামের মানুষকে প্রশাসনের তরফে জানানো হচ্ছে, সাপে কাটলে ওঝা নয়, দ্রুত আক্রান্তকে হাসাপাতালে নিয়ে যান।
সর্প বিশেষজ্ঞরা জানান, বর্ষার এই সময় সাপেদের প্রজননের সময়। এই সময় বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে সাপের উপদ্রব বেড়ে যায়। তাই খুব সর্তক থাকতে হবে।