নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: এবছর নেই মহাকুম্ভ। স্বাভাবিকভাবেই গতবছরের তুলনায় এবছর গঙ্গাসাগর মেলায় পুণ্যার্থীর ঢল নামবে বলে মনে করছে রাজ্য প্রশাসন। ফলে পুণ্যার্থীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এখন থেকেই সক্রিয় প্রশাসন। ওইসঙ্গে যানজট এড়াতেও নেওয়া হচ্ছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা। মূলত যত্রতত্র পার্কিংয়ের কারণে যানজট বেশি হয়। পুলিশের হাজারো চেষ্টা সত্ত্বেও রাস্তার উপর পার্কিংয়ের সমস্যা থেকেই যায়। আর তাই এবার গঙ্গাসাগর মেলাকে ঘিরে পার্কিং লটের সংখ্যা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিল নবান্ন। মঙ্গলবার মেলার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক হয় রাজ্য পূর্তদপ্তরে। সেখানেই পুলিশ এবং মেলা কমিটির সুপারিশ মেনে পার্কিং লটের সংখ্যা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মেলাকে সামনে রেখে রাস্তা মেরামতি এবং সিকিউরিটি ব্যারিকেড তৈরি থেকে শুরু করে একাধিক পরিকাঠামো উন্নয়নের দায়িত্বে থাকে পূর্তদপ্তর। ফলে বেশি সংখ্যায় পুণ্যার্থী আসবে ধরে নিয়েই ব্যারিকেড তৈরি করা হবে। এবার সেইসূত্রেই পুণ্যার্থীদের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে ব্যারিকেড নির্মাণের কাজে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এমনই জানিয়েছেন এক আধিকারিক। পাশপাশি, সাগরদ্বীপের রাস্তাকে খানাখন্দমুক্ত করার উপরেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জানা গিয়েছে।
অন্যদিকে, সমুদ্রের গ্রাস থেকে গঙ্গাসাগর সৈকতকে রক্ষা করার ক্ষেত্রে সহায়তা করবে নেদারল্যান্ডস– এমনটা আগেই ঠিক হয়েছিল। বুধবার সকালে ডাচ বিশেষজ্ঞদের একটি দল সাগরের উপকূলীয় সুরক্ষার কাজ সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে গঙ্গাসাগর সি বিচ পরিদর্শনে আসে। ওই বিশেষজ্ঞরা সমুদ্রের ক্ষয়রোধ এবং সৈকতের দীর্ঘমেয়াদী সুরক্ষার জন্য অত্যাধুনিক ডাচ প্রযুক্তির প্রয়োগ নিয়ে আলোচনা করেন। সেচদপ্তর ওই দেশের প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে সাগর সৈকতের সুরক্ষার ব্যবস্থা করবে বলে জানিয়েছিল। তাই ওই সৈকতের বর্তমান হাল পরিদর্শন করতে এসেছিল ওই দলটি। এরপর দপ্তরের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনা করবেন তাঁরা।