সোহম কর, কলকাতা: আগামী ১৫ মাসে রাজ্যে সিপিএমের চলন হবে কোন পথে? পার্টি চিঠিতে তথ্য তুলে ধরে পথ দেখাল আলিমুদ্দিন। ১২ পাতার পার্টি চিঠির ছত্রে ছত্রে রয়েছে আত্মসমালোচনার সুর। কোথাও পার্টি সদস্য সংখ্যায় ‘জেন জি’র উপস্থিতি নিয়ে ‘যথেষ্ট উদ্বেগ’ প্রকাশ করা হয়েছে। আবার কোথায় নিষ্ক্রিয় পার্টি কর্মীদের চিহ্নিত করে পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছে। ‘অকমিউনিস্টসুলভ আচরণ’ নিয়েও যে আলিমুদ্দিন বিরক্ত, তাও বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।
গতমাসের ২৯ ও ৩০ তারিখ কল্যাণীতে সিপিএমের রাজ্য কমিটির বর্ধিত অধিবেশন বসেছিল। রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বলেছিলেন, ডানকুনির রাজ্য সম্মেলন থেকে গৃহীত কর্মসূচির পর্যালোচনা করা হয়েছে। তারপরেই পার্টি চিঠির মাধ্যমে পার্টি সদস্যদের কড়া বার্তা দিল আলিমুদ্দিন। তৃণমূলের অনুপস্থিতিতে মূল বিরোধী শক্তি হিসেবে উঠে আসছে সিপিএম। এমতাবস্থায় সাংগঠনিক দিক থেকে এতটুকু ফাঁক রাখতে চাইছে না সিপিএম। চিঠিতে বলা হয়েছে, ৩১ বছরের কম বয়সিদের অনুপস্থিতির দুর্বলতার অবসানে পার্টি চেষ্টা করেছে। কিন্তু ঘাটতি থেকেছে। ২০২৬ সালের পুনর্নবীকরণ রিপোর্টে বিগত একবছরে সদস্য সংখ্যা ০.৪৪ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। স্পষ্ট বলা হয়েছে, পার্টি সদস্যপদে অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি যথাযথ গুরুত্ব পাচ্ছে না। আরও তথ্য, রাজ্যে এজি (পার্টি সদস্যপদ পাওয়ার প্রথম ধাপ) বিহীন শাখা রয়েছে ৬৪.৯০ শতাংশ। ৩০ বছরের কম বয়সিদের সংখ্যা ৪.৫৫ শতাংশ। তা ‘যথেষ্ট উদ্বেগজনক’ বলা হয়েছে। দার্জিলিং জেলা ছাড়া প্রায় সমস্ত জেলাই মহিলা সদস্য সংখ্যার বিচারে যথেষ্ট পিছিয়ে। সর্বক্ষণের কর্মী গড়ে তোলা ও রক্ষার বিষয়টিও গুরুত্ব দিতে বলা হয়েছে। পার্টি সদস্যদের মানোন্নয়ন কীভাবে করা যায়, সে বিষয়ে তিনটি রয়েছে পার্টি চিঠিতে। রাজনৈতিক-মতাদর্শগত শিক্ষা, আন্দোলনের অভিজ্ঞতা ও সাংগঠনিক চেতনার বিকাশ, এই তিন পথেই হবে মানোন্নয়ন। এর পাশাপাশি অকমিউনিস্টসুলভ আত্মপ্রচারের প্রবণতা, প্রচারের আলোয় নিজেকে রাখার ঝোঁক থেকে যাচ্ছে বলেও বলা হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ার কার্যকলাপকেও আরও সুসংহত করার কথা বলা হয়েছে। রাজ্যে আরএসএস যথেষ্ট সক্রিয় বলে মনে করছে সিপিএম। সেক্ষেত্রে পার্টিশিক্ষার বিষয়বস্তু নির্ধারণের ক্ষেত্রেও জোর দিতে বলা হয়েছে। ‘বিকল্প শিক্ষাকেন্দ্র’ শুরু করার বিষয়েও ঘাটতির কথা স্বীকার করা হয়েছে। নিষ্ক্রিয় পার্টি সদস্যদের চিহ্নিত করে জেলায় সাংগঠনিক পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।