নয়াদিল্লি: ঋণ নেওয়ার ধরনে বদল। বিগত এক দশকে তিন বা তার বেশি ক্রেডিট কার্ড রয়েছে, এমন ভারতীয়র সংখ্যা বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। ২০১৬ সালের ১২ শতাংশ থেকে ২০২৬ সালে তা হয়েছে ২২ শতাংশ। ট্রান্সইউনিয়ন সিবিল প্রকাশিত সর্বশেষ ‘শ্বেতপত্রে’ এই তথ্য উঠে এসেছে। সেখানে বলা হয়েছে, এই প্রবণতা গ্রাহকদের পরিবর্তিত পছন্দ, বন্ধকহীন ঋণের সহজলভ্যতা এবং খরচ-খরচা মেটানোর জন্য একটিমাত্র কার্ডের উপর নির্ভরশীল থাকতে চাইছেন না।সেজন্য একাধিক কার্ড ব্যবহার করছেন।
এরসঙ্গে তালমিলিয়ে গত এক দশকে ক্রেডিট কার্ডের বকেয়া ব্যালেন্স আট গুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৬ সালের মার্চ মাসে ০.৪ লক্ষ কোটি টাকা থেকে ২০২৬ সালের মার্চ মাসে তা বেড়ে ৩.১ লক্ষ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে সক্রিয় ক্রেডিট কার্ডধারী গ্রাহকের সংখ্যা ১.৪ কোটি থেকে বেড়ে ৫.২ কোটি হয়েছে। অন্যদিকে মোট কার্ডের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১০.৭ কোটি। ‘বিয়ন্ড দ্য সোয়াইপ: এ রিসার্চ হোয়াইটপেপার অন হাউ ইন্ডিয়া ইউজেস কার্ডস অ্যাজ এ ক্রেডিট ইন্সট্রুমেন্ট’ শীর্ষক এই রিপোর্টে বলা হয়েছে, বৃহত্তর বন্ধকহীন ঋণ ব্যবস্থার অংশ হিসেবে ক্রমবর্ধমানভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে ক্রেডিট কার্ড। গ্রাহকরা শুধু অর্থপ্রদান এবং পুরস্কারের জন্যই কার্ড ব্যবহার করছেন না, বরং মাসিক খরচ সামলানোর পন্থা হিসাবেও এগুলির উপর নির্ভর করছেন। একইসঙ্গে, ক্রেডিট কার্ডের সঙ্গে ব্যক্তিগত ঋণ, ভোগ্যপণ্যের কিস্তিনির্ভর ঋণ এবং অন্যান্য ধরনের অসুরক্ষিত ঋণ গ্রহণকারী গ্রাহকের সংখ্যা বেড়েছে। এই পরিবর্তন ঋণদাতাদের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। বিশেষ করে ঋণগ্রহীতাদের মানসিক চাপের বিষয়টি খতিয়ে দেখার ক্ষেত্রে। ট্রান্সইউনিয়ন সিবিল বলেছে, একাধিক ঋণ থাকা গ্রাহকদের আরও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন। কারণ, ঋণদাতার কাছে তাদের ঋণ পুনরুদ্ধার সংক্রান্ত দায়িত্বও বৃদ্ধি পায়।