Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বাংলাদেশিদের সংখ্যা বৃদ্ধি হোল্ডিং সেন্টারে, অনুপ্রবেশকারী ধরতে অভিযান পুলিশের

লালগোলায় হোল্ডিং সেন্টার চালু করার পর থেকে অনুপ্রবেশকারীদের ধরপাকড় ক্রমেই বাড়ছে।

বাংলাদেশিদের সংখ্যা বৃদ্ধি হোল্ডিং সেন্টারে, অনুপ্রবেশকারী ধরতে অভিযান পুলিশের
  • ২৭ মে, ২০২৬ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: লালগোলায় হোল্ডিং সেন্টার চালু করার পর থেকে অনুপ্রবেশকারীদের ধরপাকড় ক্রমেই বাড়ছে। মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত সেন্টারে মোট ১৮ জন অনুপ্রবেশকারীকে আটক করে রাখা হয়েছে। 

Advertisement

হোল্ডিং সেন্টার চালুর পর সীমান্তবর্তী থানাগুলির বিভিন্ন গ্রামে নজরদারি বাড়িয়েছে পুলিশ। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত লাগাতার ধরপাকড় চালানো হয়েছে। রবিবার রাতেই তিনজনকে পাকড়াও করে সোমবার লালগোলার পদ্মা ভবনের হোল্ডিং সেন্টারে রাখা হয়। সোমবার রাতে আরও একজন বাংলাদেশিকে সেখানে পাঠানো হয়। মঙ্গলবার আরও ১৪ জনকে পাকড়াও করে সেখানে পাঠানো হচ্ছে। 
পুলিশ সূত্রে খবর, শুধুমাত্র জলঙ্গি থেকেই একসঙ্গে সাতজন অনুপ্রবেশকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ভগবানগোলা থানার পুলিশও চারজনকে ধরেছে। লালগোলা থানার পুলিশ দু’জন ও রানিনগর থানার পুলিশ আরও একজন বাংলাদেশিকে চিহ্নিত করে হোল্ডিং সেন্টারে পাঠাচ্ছে। 
জানা গিয়েছে, জলঙ্গির বিদুপুর সীমান্ত দিয়ে একদল অনুপ্রবেশকারী ভারত থেকে বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। খবর পাওয়া মাত্রই ওই এলাকায় হানা দিয়ে লুকিয়ে নজরদারি চালায় পুলিশ। সোমবার গভীর রাতে তাদের নজরে আসে কয়েকজন সন্দেহজনকভাবে ঘোরাঘুরি করছে। তাদের আটকায় পুলিশ। শুরু হয় জিজ্ঞাসাবাদ। কথাবার্তায় অসঙ্গতি মেলায় তাদের কাছে ভারতীয় নাগরিকত্বের পরিচয়পত্র দেখতে চাওয়া হয়। তারা কেউই তা দেখাতে পারেনি। ফের চেপে ধরতে তারা নিজেদের বাংলাদেশি পরিচয় দেয়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতরা বিভিন্ন সময়ে চোরাপথে এদেশে ঢুকেছিল। এতদিন দক্ষিণ ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে শ্রমিকের কাজ করত তারা। রাজ্যে অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে শুনেই তারা এদিন রাতে জলঙ্গির সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ফেরার ছক কষে ছিল। যদিও, শেষপর্যন্ত পুলিশি হানায় তাদের পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। পুলিশ সাতজনকে আটক করে নির্দিষ্ট পদ্ধতি মেনে লালগোলার হোল্ডিং সেন্টারে পাঠিয়ে দেয়।  
এদিকে, সোমবার রাতে ভগবানগোলা থানার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ চারজন বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীকে গ্রেপ্তার করেছে। এদিন ভগবানগোলা থানার বিভিন্ন এলাকায় রাতভর নাকা তল্লাশি চালায় পুলিশ। আর তাতেই ভগবানগোলার বর্ষাতিগোলা থেকে একজন, হাবাসপুর থেকে একজন ও সুবর্ণমৃগি থেকে দুই বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতদের মধ্যে একজন দু’বছর আগে সীমান্ত দিয়ে এদেশে প্রবেশ করে ভগবানগোলায় একজনকে বিয়ে করেছিল। অন্যদিকে, বাকি তিনজনের মধ্যে একজন ছ'মাস ও দু’জন একবছর আগে চোরাপথে সীমান্ত পেরিয়ে এদেশে এসেছিল। তারা এতদিন চেন্নাইয়ে শ্রমিকের কাজ করার পর বাড়ি ফেরার জন্য সোমবার ভগবানগোলায় এসে পৌঁছয়। এরপর চোরাপথে সীমান্ত পেরোনোর আগেই সোর্স মারফত খবর পেয়ে পুলিশ তাদের আটক করে। রানিনগরেও সীমান্ত পেরিয়ে তিন চার দিন আগে এক ব্যক্তি বাংলাদেশ থেকে এপারে এসেছিল। পুলিশ মঙ্গলবার সকালে খবর পেয়ে তাকে পাকড়াও করে। লালগোলা থানার পুলিশও আরও দুই বাংলাদেশিকে আটক করে হোল্ডিং সেন্টারে রেখেছে।
এর আগে বাংলাদেশের রাজশাহির গোদাগারি মহম্মদ নয়ন আলি, চাঁপাই নবাবগঞ্জ জেলার আজিবুর রহমান ও আতিকুর রহমানকে জেলার তিনটি পৃথক সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে পাকড়াও করে পুলিশ লালগোলার হোল্ডিং সেন্টারে রাখে। -নিজস্ব চিত্র

সম্পর্কিত সংবাদ