Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নতুন নতুন গন্তব্যের আবিষ্কার পর্যটকদের, বর্ষবরণে ভিড় বেলপাহাড়ীর অজানা পাহাড়, জঙ্গলে

নতুন নতুন গন্তব্যের আবিষ্কার পর্যটকদের, বর্ষবরণে ভিড় বেলপাহাড়ীর অজানা পাহাড়, জঙ্গলে
  • ২ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
প্রদীপ্ত দত্ত, ঝাড়গ্ৰাম: শাল-পিয়ালের জঙ্গলঘেরা বেলপাহাড়ী। গভীর অরণ্যের পাশাপাশি মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে সেরিং ডুংরি, চেরাং, ধো-ডাঙর, চাতনের মতো ছোট-বড় পাহাড়। নতুন বছরের শুরুতেই পর্যটকরা এসব অজানা পাহাড় ও জঙ্গলে ভিড় জমিয়েছেন। বেলপাহাড়ীর সমস্ত লজ, হোটেল, রিসর্ট, হোম-স্টে আগে থেকেই বুকড। বছরের শুরুতেই লক্ষ্মীলাভ হওয়ায় খুশি জেলার পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত ব্যবসায়ীরা। 
Advertisement
বেলপাহাড়ী উত্তর-পশ্চিম অংশজুড়ে বেশকিছু পাহাড় রয়েছে। সিঙ্গাডোবা, চাকাডোবা পাহাড়ের পাদদেশে গভীর জঙ্গল। সূর্যোদয় হলেই গাছের পাতার ফাঁক দিয়ে শীতের রোদ ছড়িয়ে পড়ছে। পাহাড় চূড়া আলোকিত হয়ে উঠছে।  গাছগাছালির মধ্যে বন্য জন্তুরা চলাচল করে। জঙ্গল সংলগ্ন গ্ৰামের বাসিন্দারাই বনের পথ ও পাহাড়ে চড়ার রাস্তা জানেন। বাইরের জগতের মানুষের কাছে যা এতদিন অজানা ছিল। অজানা পাহাড়, গভীর জঙ্গলের প্রতি পর্যটকদের  আকর্ষণ বাড়ছে। পর্যটকদের ভিড় বাড়ায় বেলপাহাড়ীতে হোটেল, লজ, হোম-স্টের সংখ্যাও বাড়ছে। জেলায় প্রায় ১৭০টি হোটেল, রিসর্ট, লজ ও হোম স্টে রয়েছে। তারমধ্যে বেলপাহাড়ী এলাকাতেই ৫০টি রিসর্ট, হোম-স্টে রয়েছে। বেলপাহাড়ী সদরে ২২টি, কাঁকড়াঝোড়ে ১৪, বাঁশপাহাড়ীতে চার, চাকাডোবায় একটি, ঢাঙ্গিকুসুমে দু’টি, বালিচুয়ায় একটি, আগুইবিলে চারটি, ঘাগড়ায় একটি রয়েছে। 
স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ীদের বক্তব্য, নতুন বছরে প্রথম কয়েকদিন সমস্ত রিসর্ট, লজ, হোম স্টে বুকিং হয়ে গিয়েছে। গতবছর পুজোর ছ’দিন প্রায় ৩০লক্ষ টাকার ব্যবসা হয়েছে। বেলপাহাড়ী ট্যুরিজম অ্যাসোসিয়েশনের মুখপাত্র বিধান দেবনাথ বলেন, পর্যটকরা আগে মূলত চেনা জায়গায় বেড়াতে আসতেন। এবার অজানা জঙ্গল, পাহাড়ে বেড়াতে আসার আগ্ৰহ বেশি। স্থানীয় বাসিন্দা ছাড়া এইসব জায়গার কথা বাইরের মানুষজন বেশি জানতেন না। সংবাদপত্র, বৈদ্যুতিন চ্যানেল, সোশ্যাল মিডিয়ায় এই জায়গাগুলির নাম এখন উঠে আসছে। যার জেরে এইসব জায়গার প্রতি পর্যটকদের আগ্ৰহ বাড়ছে। বহু হোটেল, লজ, রিসর্ট, হোম-স্টে গড়ে ওঠায় স্থানীয় যুবক-যুবতীরা কাজ পাচ্ছেন। অনেকে গাইড হিসেবে কাজ করছেন। বছরের শুরুতেই এবার পর্যটকদের যা ভিড় তাতে সারা বছর ভালো ব্যবসার হবে বলে আশা করছি। 
সিঙ্গাডোবা গ্ৰামের যুবক কিশোর মাহাত বলেন, বড়দিন থেকে কেতকি ঝর্ণার পার্শ্ববর্তী পাহাড়ে পর্যটক, ট্রেকিং গ্ৰুপের সদস্যদের পাহাড়ে বেড়াতে নিয়ে গিয়েছি। আমাদের মতো স্থানীয় যুবকেরাই পথ চিনিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। এই কাজ করে বাড়তি রোজগার হচ্ছে। কানিমহলি পাহাড় এলাকার বাসিন্দা নন্দন ভাদুক বলেন, আমরা পুজো-পার্বণে বনের ভিতর দেবদেবীর থানে, পাহাড়ে পুজো দিতে যাই। আমাদের কাছে এই স্থান খুবই পবিত্র। এখন বাইরের মানুষজন আসছেন। বেলপাহাড়ী থানার পুলিস জানিয়েছে, পর্যটকদের নিরাপত্তায় পাহাড় ও জঙ্গল এলাকার বিভিন্ন স্থানে বাড়তি পুলিস মোতায়েন করা হয়েছে। যাঁরা পাহাড় ও জঙ্গলের ভিতর যাচ্ছেন তাঁদের নাম নথিভুক্ত করা হচ্ছে।
সম্পর্কিত সংবাদ