Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নতুন মোড়কেই মেয়াদ উত্তীর্ণ ভোগ্যপণ্য বিক্রি

নতুন মোড়কেই মেয়াদ উত্তীর্ণ ভোগ্যপণ্য বিক্রি
  • ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: মেয়াদ উত্তীর্ণ ভোগ্যপণ্য নতুন মোড়কে বিক্রির চক্র সক্রিয় রয়েছে বাঁকুড়ায়। ওইসব প্যাকেটজাত সামগ্রীর ক্ষেত্রে মেয়াদের কোনও তারিখ উল্লেখ থাকছে না। ফলে কম দামে তা কিনে ক্রেতারা ঠকছেন। ওইসব সামগ্রী খাওয়ার ফলে নানা শারীরিক সমস্যা হচ্ছে। সম্প্রতি আইনি পরিমাপ(লিগ্যাল মেট্রোলজি) সহ অন্যান্য সরকারি দপ্তরের তরফে বাঁকুড়া শহরের বাজারগুলিতে অভিযান চালানো হয়। তাতেই বিষয়টি ধরা পড়ে। প্যাকেজিংয়ের লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও অনেকে খাদ্য সামগ্রী প্যাকেটে ভরে বাজারজাত করছে। তাছাড়া শহরের ছোট দোকান, গুমটি থেকে অনেক সময় ব্যবসায়ীরা ইচ্ছাকৃতভাবে মেয়াদ উত্তীর্ণ খাদ্য সামগ্রী বিক্রি করছে। বড় বিপণিগুলি থেকে তাঁরা কম দামে ওইসব সামগ্রী কিনে আনছেন। পাড়ার দোকান থেকে বিস্কুট বা চিপস্‌-এর প্যাকেট কেনার সময় সেভাবে ‘এক্সপায়ারি ডেট’ খুঁটিয়ে দেখেন না। সেই সুযোগ নিয়েই বিক্রেতারা দ্বিগুণ মুনাফা লুটছে। 
Advertisement
সম্প্রতি বাঁকুড়া শহরের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সুকান্তপল্লি ফাঁসিডাঙা এলাকার এক মহিলা স্থানীয় একটি মুদিখানা দোকান থেকে ওই ধরনের একটি পাঁচ টাকা দামের বিস্কুটের প্যাকেট কিনেছিলেন। বাড়িতে গিয়ে তিনি বিষয়টি খেয়াল করেন। পরে দোকানে তা ফেরত দিতে গেলে ব্যবসায়ী নিতে অস্বীকার করেন বলে অভিযোগ। পাড়ার দোকান থেকে সামগ্রী কেনার সময় কেউ পাকা বিল নেন না। সেই ফাঁক গলেই ব্যবসায়ীরা রেহাই পেয়ে যাচ্ছেন। 
বাঁকুড়ার অতিরিক্ত জেলাশাসক (সাধারণ) নকুলচন্দ্র মাহাত বলেন, জাল প্যাকেজিং বা ভেজালযুক্ত ভোগ্যপণ্য বিক্রির বিরুদ্ধে ফুড সেফটি সহ অন্যান্য দপ্তর নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে। আমরা গত কয়েকমাসে বেশ কয়েকজনকে জরিমানা করেছি। দোকান থেকে ভোগ্যপণ্যের প্যাকেট কেনার সময় ‘এক্সপায়ারি ডেট’ দেখে নেওয়ার জন্য ক্রেতাদের অনুরোধ করা হচ্ছে। এব্যাপারেও আমরা নির্দিষ্ট সময় অন্তর সচেতনতামূলক প্রচার চালিয়ে থাকি। বিক্রেতার বিরুদ্ধে কেউ অভিযোগ জানালে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 
আইনি পরিমাপ বিষয়ক দপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, আমরা কিছুদিন আগে বাঁকুড়া শহরের বাজারগুলিতে অভিযান চালিয়েছিলাম। সেখানে জাল প্যাকেজিংয়ের বিষয়টি নজরে আসে। কোনও সামগ্রী প্যাকেট করে বাজারে বিক্রির জন্য বিশেষ লাইসেন্সের প্রয়োজন হয়। অনেকেই তা না নিয়ে ওই কারবার ফেঁদে বসেছেন। ফলে ভিতরে থাকা সামগ্রীর গুণগত মান যাচাইয়ের কোনও অবকাশ থাকছে না। বিষয়টি বেআইনি। এবারের মতো ব্যবসায়ীদের সতর্ক করে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ওইসব সামগ্রী বিক্রি করতেও নিষেধ করে দেওয়া হয়েছে। পরে ফের অভিযান চালানো হবে। তখন তা ফের নজরে পড়লে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ