Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / বিদেশ

নতুন বাংলাদেশ! গুঁড়িয়ে দেওয়া হল বঙ্গবন্ধুর বাড়ি, মধ্যরাতে বুলডোজার, বিচার চাইলেন হাসিনা

নতুন বাংলাদেশ! গুঁড়িয়ে দেওয়া হল বঙ্গবন্ধুর বাড়ি, মধ্যরাতে বুলডোজার, বিচার চাইলেন হাসিনা
  • ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
ঢাকা: ‘জনে জনে খবর দে, মুজিববাদের কবর দে...’, মধ্যরাতে স্লোগান তুলল ‘নতুন’ বাংলাদেশ। ‘বুলডোজার মিছিল’ করে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হল ৩২, ধানমন্ডির বঙ্গবন্ধু ভবন। শেখ হাসিনা তখন দিল্লিতে বসে ভার্চুয়াল মাধ্যমে বার্তা দিচ্ছেন সমর্থকদের। বাংলাদেশে হাসিনা সরকার পতনের ছ’মাস পূর্তির দিনেই ঢাকায় মৌলবাদী নিশানায় শেখ মুজিবুর রহমান। তাঁর দেশত্যাগের পরই বঙ্গবন্ধুর বাসভবন ভাঙচুর করে আগুন লাগিয়েছিল ‘বিপ্লবী ছাত্র-জনতা।’ বুধবার, ফের তাদের আক্রোশ আছড়ে পড়ল ওই বাড়িতে। এদিন সন্ধ্যা থেকেই তাণ্ডব শুরু করে মৌলবাদীরা। ভাঙা হয় বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল। আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয় বাড়ি-মিউজিয়ামে। তারপর স্থানীয় সময় রাত ১১টা নাগাদ ধানমন্ডিতে তিনটি বুলডোজার নিয়ে আসা হয়। শুরু হয় বাড়ি ভাঙা। ধানমন্ডিতেই শেখ হাসিনার বাসভবন ‘সুধা সদন’-এও আগুন লাগিয়ে দেয় উন্মত্ত জনতা। এছাড়া খুলনা, রাজশাহী, নাটোর, বরিশালেও চলেছে বুলডোজার। খুলনায় গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে হাসিনার কাকার বাড়ি। বাংলাদেশ থেকে বঙ্গবন্ধুর সমস্ত মূর্তি, ম্যুরাল সরানোরও ডাক দিয়েছে মৌলবাদীরা।
Advertisement
ফেব্রুয়ারি মাসজুড়ে বাংলাদেশে আওয়ামি লিগের বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন হাসিনা। সেই মতো আওয়ামি লিগ তাদের ফেসুবক পেজ থেকে ঘোষণা করেছিল, বুধবার রাত ন’টায় ছাত্রদের উদ্দেশে বার্তা দেবেন হাসিনা। তারপরই পাল্টা সরব হন ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’-এর নেতারা। হাসিনা ভাষণ দিলে ৩২, ধানমন্ডি অভিমুখে ‘বুলডোজার মিছিল’ করা হবে বলে অনেকেই ফেসবুকে পোস্ট করতে শুরু করেন। সন্ধ্যা সাড়ে ছ’টা নাগাদ ‘বৈষম্যবিরোধী’ ছাত্র নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ পোস্ট করেন, ‘আজ রাতে বাংলাদেশ ফ্যাসিবাদের তীর্থভূমি মুক্ত হবে।’ তার ঘণ্টাখানেক পরেই দলে দলে লোক বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে ঢুকে ভাঙচুর চালাতে শুরু করে। তবে তখনও বোঝা যায়নি, সত্যিই বুলডোজার এনে বঙ্গবন্ধুর বাড়ি ভেঙে ফেলা হবে। এর মধ্যেই হাসিনার বক্তৃতা শুরু হয়। সেখানে তিনি এই ভাঙচুরের বিচার চান। তিনি বলেন, ‘দেশের স্বাধীনতাকে কয়েকজন বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলবে, এই শক্তি তাদের হয়নি। এই বাড়ি থেকেই স্বাধীনতার ঘোষণা করেছিলেন জাতির পিতা। ওরা ইতিহাস মুছতে পারবে না।’
এদিনের গোটা তাণ্ডব-পর্বে একবারের জন্যও পুলিসের দেখা মেলেনি। প্রথম দিকে সেনাবাহিনীর জওয়ানরা এলেও বিক্ষোভকারীদের চাপে তারা ফিরে যায়। এদিকে, হাসিনার উপরে হামলার ঘটনায় ফাঁসির সাজাপ্রাপ্ত ৯ জনকে বেকসুর খালাস করে দিয়েছে বাংলাদেশ হাইকোর্ট।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ