Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নতুন বছরের শুরুতেই রেডপান্ডা ও গন্ডার সমীক্ষায় নামছে বনদপ্তর

নতুন বছরের শুরুতেই রেডপান্ডা ও গন্ডার সমীক্ষায় নামছে বনদপ্তর
  • ১৭ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: নতুন বছরের শুরুতেই রেডপান্ডা ও গন্ডার সমীক্ষায় নামছে বনদপ্তর। শুধু তাদের সংখ্যা জানাই নয়, জঙ্গলে ওই দুই প্রাণীর খাদ্যভাণ্ডার কেমন রয়েছে, বাসস্থানই বা কতটা উপযুক্ত ও নিরাপদ, তা যাচাই করা হবে ওই সমীক্ষায়। দু’বছর আগে শেষ গন্ডার সমীক্ষা হয়েছিল ডুয়ার্সের জঙ্গলে। আর পাহাড়ে শেষবার রেডপান্ডা সমীক্ষা হয় বছর পাঁচেক আগে। উত্তরবঙ্গের মুখ্য বনপাল (বন্যপ্রাণ) ভাস্কর জেভি বলেন, নতুন বছরেই আমরা রেডপান্ডা ও গন্ডার সমীক্ষা করব। গোরুমারা ও জলদাপাড়ার জঙ্গলে গন্ডারের সংখ্যা জানতে ফেব্রুয়ারি-মার্চ থেকে শুরু হবে সমীক্ষা। বৃষ্টির মধ্যে পাহাড়ে রেডপান্ডা সমীক্ষায় সমস্যা হতে পারে। সেকথা মাথায় রেখে মার্চ নাগাদ ওই সমীক্ষা শুরুর চেষ্টা চলছে।
Advertisement
ডুয়ার্সের জলদাপাড়া ও গোরুমারার জঙ্গলে একশৃঙ্গ গন্ডারের দেখা মেলে। শেষবার যে সমীক্ষা হয়েছিল, তাতে দেখা যায়, জলদাপাড়ায় গন্ডারের সংখ্যা ৩০০ ছুঁইছুঁই। অন্যদিকে, গোরুমারায় ৬০টির মতো গন্ডারের উপস্থিতি মেলে। সেই সংখ্যা বর্তমানে অনেকটাই বেড়েছে বলে মনে করছে বনদপ্তর।
গন্ডারের সুরক্ষায় এতটুকু ফাঁক রাখতে চায় না বনদপ্তর। সারাবছর এদের উপর চলে বাড়তি নজরদারি। বর্তমানে গোরুমারা ও জলদাপাড়া দু’জায়গাতেই সকাল-বিকেল ড্রোন উড়িয়ে গন্ডারের উপর নজরদারি চালানো হচ্ছে। বনাধিকারিকরা জানিয়েছেন, সমীক্ষায় পুরুষ ও স্ত্রী গন্ডারের অনুপাত ঠিক আছে কি না, তা খতিয়ে দেখার পাশাপাশি তাদের বাসস্থান ও খাদ্যভাণ্ডার সবটাই যাচাই করা হবে। জঙ্গলে পুরুষ ও স্ত্রী গন্ডারের অনুপাত ঠিক না থাকলে সঙ্গীনি দখলের লড়াইয়ের ঘটনা ঘটতে পারে। তাতে জখম হওয়ার পাশাপাশি লড়াইয়ে হেরে গিয়ে পুরুষ গন্ডারের ‘বিবাগী’ হওয়ার আশঙ্কাও থেকে যায়। ফলে এদিকটা বিশেষভাবে দেখে নিতে চাইছেন বনাধিকারিকরা।
অন্যদিকে, নেওড়াভ্যালি ও সিঙ্গালিলার পাহাড়ি জঙ্গলে রেডপান্ডার সমীক্ষা চালানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বনদপ্তরের তরফে। বনকর্মীদের পর্যবেক্ষণ বলছে, দু’জায়গাতেই রেডপান্ডার সংখ্যা বেড়েছে। সমীক্ষা হলে তাদের সঠিক সংখ্যা জানা সম্ভব হবে।
বনদপ্তর সূত্রে খবর, গন্ডার সমীক্ষার জন্য তিনদিন এবং রেডপান্ডার ক্ষেত্রে সাতদিন সমীক্ষা চালানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি বুঝে সমীক্ষার দিন বাড়তে পারে। বনকর্মীদের পাশাপাশি পরিবেশকর্মীদেরও সমীক্ষায় শামিল করা হতে পারে।
গন্ডার ও রেডপান্ডা সমীক্ষার পাশাপাশি চিতাবাঘের সংখ্যা জানতে সমীক্ষার পরিকল্পনা নিয়েছে বনদপ্তর। গোরুমারার ডিএফও দ্বিজপ্রতিম সেন বলেন, জঙ্গল ছাড়াও চা বাগান এলাকায় এখন প্রচুর চিতাবাঘের আনাগোনা রয়েছে। সেকারণে আমরা সমীক্ষা করে দেখব, কোথায় কত চিতাবাঘ রয়েছে। মূলত চিতাবাঘের হাইরিস্ক জোন চিহ্নিত করতে ওই সমীক্ষার কথা ভাবা হয়েছে।
সম্পর্কিত সংবাদ