নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ‘জেন জি’র মন জয়ে স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার ফ্রি অনলাইন টিউশনের কথা ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। অন্যদিকে উচ্চশিক্ষার প্রবেশিকা পরীক্ষার ফি বাবদ আয় বছর বছর বাড়িয়ে নিজেদের ভাণ্ডার ভরাচ্ছে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ)। গত পাঁচ অর্থবর্ষে স্রেফ ‘সুদ’ কামিয়েছে ৬৫ কোটি ৫৫ লক্ষ টাকা। এছাড়া বিভিন্ন জায়গায় ‘ইনভেস্টমেন্ট’ বা বিনিয়োগ থেকে আয় হয়েছে ৫৬ কোটি ৬০ লক্ষ টাকা। বিশেষ সূত্রে পাওয়া সরকারি এক নথি থেকে মিলেছে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য। ফলে প্রধানমন্ত্রী তাঁর লালকেল্লার ভাষণে হাততালি কুড়োলেও আদতে উচ্চশিক্ষার পরীক্ষার্থীদের প্রশ্ন ফাঁস এড়ানো থেকে পরীক্ষা ফি’র কোনো সুরাহা হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
সরকারি তথ্যে দেখা যাচ্ছে, বছর বছর এনটিএ কোটি কোটি টাকা সুদ কামিয়েছে। গত ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে যা সর্বাধিক। অঙ্কটি, ২৬.০১ কোটি টাকা। তার আগের বছরগুলিতেও কম নয়। ২০১৮ সালে মোদি সরকার তৈরে করে এনটিএ। জয়েন্ট এন্ট্রাস, নিট, ক্যাট, সিইউইটি সহ একাধিক পরীক্ষা নেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠার পরের অর্থবর্ষেই (২০১৯-২০) সুদ বাবদ এনটিএ কামিয়েছে ১১.৫৬ কোটি টাকা। তার পরের অর্থবর্ষে ৬.১৫ কোটি টাকা। ’২১-২২ এবং ২০২২-২৩ অর্থবর্ষ দুটিতে সুদ বাবদ পেয়েছে যথাক্রমে ৭.২৩ কোটি এবং ১৪.৬ কোটি টাকা। ফলে সব মিলিয়ে গত পাঁচ অর্থবর্ষে সুদ বাবদ এনটিএ’র আয় ৬৫ কোটি ৫৫ লক্ষ টাকা। প্রশ্ন ফাঁস ইস্যুর প্রতিবাদে উত্তাল গোটা দেশ। সেই আবহে শিক্ষামন্ত্রকের এই তথ্য নাগরিক মনে প্রশ্ন জাগায় বইকি!
অন্যদিকে, সংসদে প্রশ্নের জবাবে এনটিএ’র আয়-ব্যয়ের হিসাব নিয়ে উঠেছিল গরমিলের অভিযোগ। কখনো বলা হয়েছিল গত পাঁচ বছরে আয় ৩ হাজার ৪১১.৪২ কোটি টাকা। আবার কখনো সেই একই সময়কালে আয় বলা হয়েছিল ৩ হাজার ৫৪৫.১৯ কোটি টাকা। ফলে হিসাবে গরমিলের অভিযোগে উচ্চশিক্ষার দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষা রাষ্ট্রমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারকে পড়তে হয়েছে বিপাকে। তাঁর নামে ‘স্বাধিকার ভঙ্গে’র অভিযোগ দায়ের করে রাজ্যসভার চেয়ারম্যান সি পি রাধাকৃষ্ণানের কাছে চিঠি জমা পড়েছিল। চিঠি দিয়েছিলেন সিপিএমের রাজ্যসভার সাংসদ ভি শিবদাসন। অভিযোগ, ২০২৪ এবং ২০২৬ সালে সংসদে দুটি প্রায় একই প্রশ্নের উত্তরে দু’রকম হিসাব দিয়েছিলেন মন্ত্রী।
যদিও সুকান্তবাবু গত ৩ আগস্ট পালটা চিঠি লিখে জবাবদিহিতে জানিয়েছেন, হিসাবে গরমিল হয়নি। আয়-ব্যয়ের বিস্তারিত তথ্য না থাকাতেই বিভ্রান্তি বলে তাঁর দাবি। জবাবি চিঠিতে বিভ্রান্তি দূর করতে আয়-ব্যয়ের হিসাব দিয়েছেন সুকান্তবাবু। তবে ‘আদার ইনকাম’ নামে গত পাঁচ অর্থবর্ষে যে ১ কোটি ৩৫ লক্ষ টাকা আয়ের কথা বলেছেন সেটি কী, তা স্পষ্ট করেননি। তবে কি ২০২৪ আর ২০২৬ সালে সংসদে দেওয়া দুই জবাবের হিসাব মেলাতেই এই ‘অন্যান্য খরচে’র তথ্য? প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে।