Bartaman Logo
৩১ মে, ২০২৬

এনটিএ-র বিরুদ্ধে ব্যালান্স শিট গোপন রাখার অভিযোগ, আরটিএ করেও মিলছে না তথ্য

সর্বভারতীয় বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক প্রবেশিকা পরীক্ষার আয়োজনে ইতিপূর্বে একাধিকবার অভিযোগের আঙুল উঠেছে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সির (এনটিএ) দিকে।

এনটিএ-র বিরুদ্ধে ব্যালান্স শিট গোপন রাখার অভিযোগ, আরটিএ করেও মিলছে না তথ্য
  • ৩১ মে, ২০২৬ ০৪:০০

দিব্যেন্দু বিশ্বাস, নয়াদিল্লি: সর্বভারতীয় বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক প্রবেশিকা পরীক্ষার আয়োজনে ইতিপূর্বে একাধিকবার অভিযোগের আঙুল উঠেছে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সির (এনটিএ) দিকে। প্রবেশিকা পরীক্ষার আয়োজনে এনটিএর চূড়ান্ত অব্যবস্থার সাম্প্রতিকতম উদাহরণ হল ২০২৬ সালের নিট-ইউজি। প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো গুরুতর অভিযোগে ইতিমধ্যেই সেই পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে মোদি সরকার। আগামী ২১ জুন ফের নিট-ইউজি পরীক্ষার দিন ঘোষণা করা হয়েছে। সবমিলিয়ে এনটিএর ডামাডোলের জন্য চরম হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে সাধারণ পরীক্ষার্থীদের। এমন প্রেক্ষাপটে আরও গুরুতর প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। প্রতিষ্ঠার পর একেবারে গোড়ার দিন থেকেই কি আর্থিক বেনিয়ম চলছে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সিতে? কারণ ‘ব্যালান্স শিট’ গোপন করে রাখার মতো অভিযোগ উঠছে শিক্ষামন্ত্রকের আওতায় থাকা এই পরীক্ষা আয়োজক সংস্থার দিকে। বিগত কয়েক বছরে অন্তত পাঁচবার এনটিএর বিভিন্ন অর্থবর্ষের ব্যালান্স শিট দেখতে চেয়ে তথ্য জানার অধিকার আইনে (আরটিআই) আবেদন করেছেন মধ্যপ্রদেশের বাসিন্দা সমাজকর্মী চন্দ্রশেখর গৌড়। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, কোনো আরটিআইয়ের জবাবেই নিজেদের ব্যালান্স শিট সম্পর্কে কোনোরকম তথ্য দিতে চায়নি ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি। প্রতিবারই একাধিক অজুহাত দেওয়া হয়েছে। আরটিআইয়ের জবাবে কখনও বলা হয়েছে, অডিট প্রক্রিয়া চলছে। আবার কখনও দাবি করা হয়েছে, ব্যালান্স শিট প্রস্তুত করা হয়নি। কোনো সময় দেশব্যাপী করোনা মহামারিকেই দায়ী করা হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, এর সঙ্গে কোনো বড়োসড়ো অর্থনৈতিক অনিয়মের মতো ঘটনা জড়িয়ে নেই তো? 

Advertisement

যেকোনো সংস্থা-প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেই ব্যালান্স শিট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এনটিএর মতো একটি পরীক্ষা আয়োজক সংস্থার ক্ষেত্রে তা আরও বেশি জরুরি। কারণ এর আয়ের অন্যতম প্রধান উৎসই হল পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেওয়া ‘ফি’। সাধারণ পরীক্ষার্থীদের জমা দেওয়া টাকা কোথায়, কীভাবে খরচ হচ্ছে, তা বোঝার জন্যই ব্যালান্স শিটের প্রয়োজন। সঙ্গত কারণেই তা গোপন করায় সংশয় তৈরি হচ্ছে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সির কার্যক্রম নিয়ে। প্রসঙ্গত, বিভিন্ন সময় যে আরটিআই করা হয়েছে, সেখানে ২০১৮-১৯ আর্থিক বছর থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষ পর্যন্ত ব্যালান্স শিট চাওয়া হয়েছে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি কর্তৃপক্ষের কাছে। কোনো আরটিআইয়ে শুধুমাত্র একটি আর্থিক বছরের তথ্য চাওয়া হয়েছে। কোনোটিতে বছরভিত্তিক ব্যালান্স শিট চাওয়া হয়েছে। কিন্তু কোথাও এসংক্রান্ত তথ্য দেয়নি এনটিএ।

সম্পর্কিত সংবাদ