Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নিষেধাজ্ঞা উড়িয়ে অবশিষ্টাংশ পোড়াচ্ছেন ডোমকলের সর্ষেচাষিরা, পরিবেশগত উদ্বেগ

নিষেধাজ্ঞা উড়িয়ে অবশিষ্টাংশ পোড়াচ্ছেন ডোমকলের সর্ষেচাষিরা, পরিবেশগত উদ্বেগ
  • ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
সংবাদদাতা, ডোমকল: সর্ষে কাটার পর খরচ বাঁচাতে চাষিরা নিষেধাজ্ঞা উড়িয়ে জমিতে থাকা অবশিষ্টাংশ পুড়িয়ে ফেলছেন। ডোমকল মহকুমার কৃষিজমিতে দিনরাত আগুনে এই নাড়া পোড়ানোর ছবি চোখে পড়ছে। ফলে এলাকায় যথেচ্ছ বায়ুদূষণ হচ্ছে। অভিযোগ, প্রশাসন ও কৃষিদপ্তর সব জেনেও উদাসীন রয়েছে।
Advertisement
কৃষিদপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, এভাবে ফসলের অবশিষ্টাংশ পোড়ানো পুরোপুরি নিষিদ্ধ। বিভিন্ন জায়গায় আমাদের অভিযান চলছে। কৃষকদের এবিষয়ে সচেতন করা হচ্ছে। তারপরও কোথাও এধরনের ঘটনা ঘটে থাকলে আমরা ব্যবস্থা নেব।
ডোমকল মহকুমার রানিনগর ১ ও ২, জলঙ্গি, ডোমকল-সমস্ত ব্লকেই সড়কের দু’ধারের কৃষিজমিতে বহু কৃষক এবার সর্ষে চাষ করেছিলেন। সর্ষেগাছের উপরের অংশ কেটে নেওয়ার পর নীচে থাকা অবশিষ্টাংশ কোনও কাজে আসে না। আবার ওই কাণ্ড জমি থেকে তুলে না ফেললে ফের চাষের জন্য জমি প্রস্তুত করা যায় না। জমি থেকে সেগুলি তুলে অন্যত্র নিয়ে যাওয়াও কষ্টকর। সেকারণে বহু কৃষক ফসল কাটার পর অবশিষ্টাংশ পুড়িয়ে ফেলছেন। 
কৃষিদপ্তর জানিয়েছে, জমির ফসল কাটার পর অবশিষ্টাংশ পুড়িয়ে দিলে অতিরিক্ত মিথেন ও নাইট্রাস অক্সাইড তৈরি হয়। যা ব্যাপক বায়ুদূষণ ঘটায়। এতে মানুষের স্বাস্থ্যে ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে। শুধু তাই নয়, কৃষিজমির পক্ষেও এটা ভালো নয়। মাটির ১-৬ ইঞ্চি গভীরতা অবধি বিভিন্ন উপকারী জীবাণু থাকে। ওই জীবাণু বিভিন্ন জৈব পদার্থের পচন ঘটিয়ে গাছের প্রয়োজনীয় সার তৈরি করে। আগুন লাগানোর ফলে ফসলের অবশিষ্টাংশের সঙ্গে ওই সমস্ত জীবাণুও নষ্ট হয়। ফলে জমি অনুর্বর হয়ে পড়ে। সেকারণে নাড়া পোড়ানো পুরোপুরি অবৈধ। কিন্তু তারপরও অবাধে ডোমকল মহকুমাজুড়ে সর্ষের অবশিষ্টাংশ পোড়ানো হচ্ছে। চাষিদের মধ্যে এনিয়ে সচেতনতার অভাব দেখা যাচ্ছে। তেমনি প্রশাসনেরও কোনও হেলদোল চোখে পড়ছে না।
সাদিউল শেখ নামের এক কৃষক বলেন, শ্রমিক ভাড়া করে সর্ষে কেটেছিলাম। আবার খরচ করে যন্ত্রের সাহায্যে ফসল মাড়াই করালাম। এখন অবশিষ্টাংশ তুলতে গেলে আবার টাকা খরচ করতে হবে। এত টাকা কোথায় পাব? তাই জমিতে আগুন দিয়ে দিয়েছি। এতে সর্ষের অবশিষ্টাংশ পুড়ে গিয়েছে।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ