সংবাদদাতা, কাঁথি: প্রচণ্ড শব্দে কাঁপছে চতুর্দিক। যেন প্রলয় আসন্ন। বাড়ির দেওয়াল, রাস্তা, দরজা, জানলা কেঁপে কেঁপে উঠছে। ভেঙে পড়ছে জানলার কাঁচ। সঙ্গে লাল, নীল, সবুজ লেজার আলোর নাচানাচি। কালীপুজোর ভাসানে ‘ডিজে’ নামক শব্দদানবের অত্যাচারে প্রাণ ওষ্ঠাগত হল কাঁথির বাসিন্দাদের। প্রশাসনের তরফে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছিল। কিন্তু তাতে কে ডরায়! শুধু কাঁথি শহর নয়, মহকুমার বিভিন্ন এলাকায় শব্দদানবের দাপাদাপি চলেছে। যদিও কাঁথি থানার পুলিস যে চুপচাপ বসেছিল, তা নয়। তারা পদক্ষেপ করেছে। গত দু’দিনে বেশ কয়েক সেট ডিজে সাউন্ড বক্স ও অন্যান্য সরঞ্জাম বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। বক্স মালিকদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করে দু’ দিনে সাতজন অপারেটরকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। কাঁথির এসডিপিও দিবাকর দাস বলেন, পুলিস ডিজের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করছে। কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। লাগাতার অভিযান জারি থাকবে।
Advertisement
কাঁথি শহরে কালীপুজোর প্রতিমা বিসর্জন হয়েছে গত রবিবার। শহরের মূল রাস্তা দিয়ে সন্ধ্যা থেকে একের পর এক ক্লাবের শোভাযাত্রা বের হয়। প্রায় প্রতিটি শোভাযাত্রায় ছিল ডিজে বক্স। শব্দের দাপটে নির্দিষ্ট সময়ের আগেই দোকানপাট বন্ধ করে দেন ব্যবসায়ীরা। বয়স্ক মানুষরা অসুস্থ হয়ে পড়েন। একের পর এক অভিযোগ আসতে থাকে পুলিসের কাছে। তবে অশান্তির আশঙ্কায় শোভাযাত্রা চলাকালীন পদক্ষেপ করেনি পুলিস। ভোর ৪টা পর্যন্ত বিসর্জন চলে। সেই সময়েই অভিযানে নামে পুলিস। ভোরে বাড়ি ফেরার পথে শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে চারটি ডিজে বক্স এবং অন্যান্য সরঞ্জাম বাজেয়াপ্ত করে। পাঁচজন অপারেটরকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর সোমবার ও মঙ্গলবার কাঁথি শহরের দীঘা বাইপাস লাগোয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে মারিশদার শুকুনিয়া এলাকার সুদীপ বর ও রামনগরের চাউলখোলার স্বর্ণেন্দু মণ্ডল ছাড়াও আরও এক অপারেটরকে গ্রেপ্তার করে পুলিস। আরও তিনটি সংস্থার ডিজে সেট আটক করা হয়। মঙ্গলবার ধৃতদের কাঁথি মহকুমা আদালতে তোলা হয়। এদিকে শুধু কাঁথি নয়, মারিশদা, ভগবানপুর, ভীমেশ্বরী, পটাশপুর, এগরা, ভূপতিনগর, খেজুরি, রামনগর, সর্বত্রই ডিজের দাপট চলেছে। কয়েকদিন আগে ভগবানপুরের ভীমেশ্বরী বাজারে ডিজের লাগামছাড়া দৌরাত্ম্য দেখা যায়। অভিযোগ, এসবের পিছনে প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের মদত আছে। সে কারণেই পুলিস কিছু করতে পারে না। এদিকে, জনস্বাস্থ্যের উপর ডিজের কুপ্রভাব নিয়ে উদ্বিগ্ন চিকিৎসকদের একটা বড় অংশ। কাঁথির বিশিষ্ট চিকিৎসক অনুতোষ পট্টনায়ক বলেন, শব্দদানবের দাপটে আমাদের শ্রবণযন্ত্র এবং মস্তিষ্ক ভীষণ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে আগামীদিনে বধিরতা আসতে পারে। হার্টের অসুখ, ডায়াবেটিস থেকে শুরু করে নানা রোগ হতে পারে। সন্তান সম্ভবা মহিলাদের ক্ষেত্রে ডিজের আওয়াজ অত্যন্ত বিপজ্জনক। মানুষের মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। শিক্ষক বসন্তকুমার ঘোড়াই বলেন, পুলিস-প্রশাসনকে আরও কঠোর পদক্ষেপ করতে হবে।



