Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নিষেধাজ্ঞা উড়িয়ে জেলাজুড়ে প্রকাশ্যে চলছে না‌ড়া পোড়ানো

নিষেধাজ্ঞা উড়িয়ে জেলাজুড়ে প্রকাশ্যে চলছে না‌ড়া পোড়ানো
  • ২০ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: নিষেধাজ্ঞাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে মুর্শিদাবাদের সর্বত্র নাড়া পোড়ানো চলছে। অভিযোগ, দিনের আলোয় নাড়া পোড়ানো হলেও কৃষি ও পরিবেশ দপ্তর পদক্ষেপ করছে না। জেলার বহরমপুর, নবগ্রাম, কান্দি, সাগরদিঘি, খড়গ্রাম, হরিহরপাড়া, নওদা, ভরতপুর, সালার, রানিনগর-সর্বত্রই একই ছবি।
Advertisement
এসময়ে চাষিরা জমি থেকে ধান কেটে ঘরে তুলেছেন। এরপর জমিতে পড়ে থাকা ধানের গোড়া তুলে এক জায়গায় জড়ো করে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। সকাল, দুপুর, সন্ধ্যায় জমিতে আগুন ধরানোর ফলে পুরো এলাকা ধোঁয়ায় ঢেকে যাচ্ছে। এতে পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।
অভিযোগ, মুখে সচেতনতার কথা বললেও দু’এক জায়গায় বোর্ড লাগানো ছাড়া কৃষিদপ্তর সচেতনতা প্রচার করছে না। জেলার উপ-কৃষি অধিকর্তা(প্রশাসন) মোহনলাল কুমার অবশ্য বলেন, আমরা চাষিদের সবসময় সচেতন করি। তাঁদের নিয়ে বৈঠক হয়েছে। বিভিন্ন পুজো মণ্ডপে আমরা ফ্লেক্স টাঙাই। মাইকিং করা হয়। আগে অনেক বেশি নাড়া পোড়ানো হতো। প্রচার করার ফলে তা অনেক কমেছে।
গ্রামগঞ্জে ফসল ঝাড়ার সময় তার অবশিষ্টাংশ রাস্তার ধারে জমিতেই স্তূপাকারে রেখে শুকিয়ে নেওয়া হচ্ছে। পরে সুযোগ বুঝে সেই গাদায় আগুন ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। অনেকেই তাড়াতাড়ি রবি ফসলের চাষ করার জন্য জমি প্রস্তুত করছেন। সেজন্য তাড়াতাড়ি নাড়া পুড়িয়ে দিচ্ছেন। দিনেরবেলায় আগুন ধরানোয় পুরো এলাকা কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যাচ্ছে। অনেক ব্লকেই জাতীয় ও রাজ্য সড়কের পাশে অবলীলায় নাড়া পোড়ানো চলছে। এর জেরে দৃশ্যমানতা কমে গিয়ে পথদুর্ঘটনার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে বহরমপুর, হরিহরপাড়া, নবগ্রাম ও রেজিনগর ব্লকের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা গেল, বেশ কিছু চাষের জমিতে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে। এক খেতমজুর বলেন, জমির মালিক বলছে, তাড়াতাড়ি জমি পরিষ্কার করে দিতে হবে। তাই সর্ষে চাষের আগে আমরা ধানগাছের গোড়া সব পুড়িয়ে দিচ্ছি। এটা ছাড়া তো তাড়াতাড়ি জমি খালি করার কোনও উপায় নেই।
বহরমপুর-জলঙ্গি রাজ্য সড়কের ধারে কথা হচ্ছিল এক সর্ষে চাষির সঙ্গে। রাস্তার ধারে ধানের অবশিষ্টাংশে আগুন লাগিয়ে তিনি দূরে অপেক্ষা করছিলেন। ওই চাষি বলেন, ফসল তোলার পর এক সপ্তাহ হয়ে গিয়েছে। জমি থেকে ফসলের গোড়া তুলে কোথায় নিয়ে যাব? তাই এক জায়গায় রেখে আগুন ধরিয়ে দিলাম। নবগ্রামের এক প্রবীণ চাষি বলেন, অন্যবার কৃষিদপ্তরের তরফে প্রচার করা হয়। এবার তেমন প্রচার নেই। তাই দিনেরবেলাতেও অনেকেই নাড়া পুড়িয়ে দিচ্ছে। 
• নেই হুঁশ। বহরমপুরে নিজস্ব চিত্র
সম্পর্কিত সংবাদ