Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নিষেধাজ্ঞা জেরে কমেছে লোকজনের আনাগোনা, ঘাঁটি গাড়তে পারে জঙ্গিরা

নিষেধাজ্ঞা জেরে কমেছে লোকজনের আনাগোনা, ঘাঁটি গাড়তে পারে জঙ্গিরা
  • ৯ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
রবীন রায়, আলিপুরদুয়ার: বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পে এই মুহূর্তে হোটেল, রিসর্ট, হোমস্টে সহ সমস্ত বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখেছে বনদপ্তর। ফলে ৭৬০ বর্গ কিমি আয়তনের বক্সার জঙ্গলে মানুষের আনাগোনা অনেকটাই কমে গিয়েছে। ঘাটতি দেখা দিয়েছে বনবস্তিবাসীদের সঙ্গে বনদপ্তরের নিবিড় সংযোগেও। আর সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে আনসারুল্লা বাংলা টিমের (এবিটি) সদস্যরা বক্সার জঙ্গলে যে ঘাঁটি বানাবে না বা গোপন বৈঠক করবে না তার নিশ্চয়তা কে দেবে? এই আশঙ্কা উড়িয়ে দিতে পারছে না রাজ্যের গোয়েন্দ মহলও। এমনকী এই আশঙ্কার মেঘ উড়িয়ে দিতে পারছে না উত্তরবঙ্গের পুলিস মহলও। 
Advertisement
কিন্তু কেন এই আশঙ্কার মেঘ? গোয়েন্দা সূত্রে এর কারণ হিসেবে উঠে আসছে পশ্চিমবঙ্গের এই প্রান্তিক জেলার দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থান। এই জেলার পাশেই একদিকে আন্তর্জাতিক ভুটান সীমান্ত, অন্যদিকে অসম-বাংলা আন্তঃরাজ্য সীমানা। এমনকী অদূরেই রয়েছে আলিপুরদুয়ার লাগোয়া কোচবিহার জেলার বাংলাদেশ সীমান্ত। 
একসময় কেএলও আন্দোলনের আঁতুড়ঘর ছিল আলিপুরদুয়ার জেলার কুমারগ্রাম। তখন সাবেক জলপাইগুড়ি জেলায় ছিল আলিপুরদুয়ার। উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় নাশকতার কাজ সেরে কুমারগ্রাম বা হাতিপোঁতা ময়নাবাড়ি দিয়ে ভুটানঘাট হয়ে অনায়াসেই কেএলও জঙ্গিরা ভুটানের গোপন ডেরায় আশ্রয় নিয়েছিল। পরে ২০০৫ সালে ভারতীয় সেনা ভুটানে ঢুকে অপারেশন ‘ফ্ল্যাশ আউট’-এ গুঁড়িয়ে দেয় কেএলওর ঘাঁটি। এসব কারণে ওপারের এবিটি’র জঙ্গিদেরও অনায়াসেই সফ্ট টার্গেট হয়ে উঠতে পারে বক্সার দুর্গম জঙ্গল। এমনটাই আশঙ্কা করা হচ্ছে। 
এই ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণেই আলিপুরদুয়ার জেলাতেও বাড়তি নজরদারি বাড়িয়েছে পুলিসের এসটিএফ। ভুটান সীমান্তে বাংলাদেশের মতো কাঁটাতারের বেড়া নেই। এখানে সীমান্ত একেবারেই খোলামেলা। তবে জেলার ভুটান সীমান্তে এসএসবি মোতায়েন আছে। এসএসবি সর্বক্ষণ নজর রাখছে। আলিপুরদুয়ারের পুলিস সুপার ওয়াই রঘুবংশী বলেন, এসটিএফ নজর রাখছে জেলায়। আমরা এসটিএফকে সাহায্য করছি। 
বর্তমানে বক্সার জঙ্গলে ঢোকার ক্ষেত্রে বনদপ্তরের এই কড়াকড়িতে বনবস্তিবাসীরা সমস্যায় পড়েছেন। জঙ্গল ও বনবস্তিবাসীরা একেঅপরের পরিপূরক। জঙ্গল সুরক্ষার জন্য বনদপ্তরের সঙ্গে বনবস্তিবাসীদের নিবিড় যোগযোগও আছে। ফলে বক্সার জঙ্গলে ঢোকার এই বিধিনিষেধ কিছুটা শিথিলেরও দাবি উঠেছে। মঙ্গলবার জেলার প্রশাসনিক ভবন ডুয়ার্সকন্যায় এক বৈঠকে এই দাবি ওঠে। বৈঠকে বনদপ্তরের কর্তারা ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন রাজ্যসভার সাংসদ প্রকাশচিক বরাইক ও জয়গাঁ ডেভেলপমেন্ট অথরিটির (জেডিএ) চেয়ারম্যান গঙ্গাপ্রসাদ শর্মা। 
জেডিএ চেয়ারম্যান বলেন, বনদপ্তরের কড়াকড়িতে বনবস্তিবাসীদের সমস্যা হচ্ছে। সেই জন্য বৈঠকে আমরা বনদপ্তরের কাছে এই বিধিনিষেধ কিছুটা শিথিল করার দাবি জানিয়েছি। তাছাড়া জঙ্গল সুরক্ষায় বনবস্তিবাসীদের সঙ্গেও তো খবর আদানপ্রদান হয় বনদপ্তরের। 
যদিও পরিবেশ আদালতের নির্দেশে বক্সার জঙ্গলে হোটেল, রিসর্ট, হোমস্টে সহ সমস্ত বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার জন্য বনদপ্তরের কর্তারা এনিয়ে মুখ খোলেননি। এই আশঙ্কা নিয়ে রাজ্য পুলিসের আইজি (উত্তরবঙ্গ) রাজেশ যাদব বলেন, ভুটান সীমান্তে এসএবি আছে। এসএসবি’র সঙ্গে সমন্বয় রেখে সীমান্তে নজর রাখছি আমরা। আলিপুরদুয়ার জেলার ভুটান সীমান্তে নাকা চেকিং ও পেট্রোলিং বাড়ানো হয়েছে। কোনও সমস্যা নেই।
সম্পর্কিত সংবাদ