নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: বিয়ের মরশুম চলছে। সোশ্যাল মিড়িয়াজুড়ে বিয়ের অনুষ্ঠানের পোস্ট। তবে এখন আর আগের মতো বিয়ের অনুষ্ঠান নয়। বিয়ে কার্যত বড় উৎসবে পরিণত হয়েছে। বিয়ের অনুষ্ঠানে মঞ্চ বেঁধে অর্কেস্ট্রা শিল্পীদের আনা হচ্ছে। বাজছে ডিজে। বরযাত্রী, কনেযাত্রী যাওয়ার সময় দেদার বাজি ফাটানো চলছে। তা কার্যত দীপাবলির রাতকেও হার মানাচ্ছে। সবকিছুই চলছে প্রকাশ্যে। উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা চলছে। শব্দবিধির নিষেধাজ্ঞা উড়িয়ে শিল্পাঞ্চলজুড়ে বিয়ের অনুষ্ঠান চললেও তা নজরে পড়ছে না পুলিস- প্রশাসনের। কোনও ব্যবস্থা না নেওয়ায় বাজি ও ডিজের দাপট বাড়ছে। সমস্যায় পড়ছে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। বিগ বাজেটের বিয়েবাড়ির অনুষ্ঠানে নেতা থেকে প্রভাবশালীরা হাজির হচ্ছেন। ‘বিড়ালে’র গলায় ঘণ্টা কে বাঁধবে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে নানা মহলে।
Advertisement
পশ্চিম বর্ধমানের জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক(মাধ্যমিক) সুনীতি সাপুই বলেন, বিষয়টি জানলাম। ঊধ্বর্তন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করব। উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার জেলা জয়েন্ট কনভেনর কলিমূল হক বলেন, আমার নজরেও এই অরাজকতা ধরা পড়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে এনেছি। দুর্গাপুরের জেমুয়া ভাদুবালা বিদ্যাপীঠের প্রধান শিক্ষক জইনুল হক ফেসবুকে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানের ছবি শেয়ার করেন। সেখানে দেখা যাচ্ছে, ব্যাপকভাবে বাজি ফাটানো হচ্ছে। তিনি ভিডিও পোস্ট করে প্রশ্ন ছুড়ে দেন, কীভাবে উচ্চ মাধ্যমিক পড়ুয়ারা পড়াশোনা করবে? ওই প্রতিবাদী প্রধান শিক্ষকের পোস্টের গুরুত্ব অবশ্য প্রশাসন দেয়নি। তাই তারস্বরে বিয়ের অনুষ্ঠান চলছে। জইনুল সাহেব বলেন, আমার যেমন নজরে পড়ছে বিষয়টি নিশ্চয়ই পুলিস-প্রশাসনেরও নজরে পড়বে। তারা কেন নীরব? কেউ কি উচ্চ মাধ্যমিক পড়ুয়াদের কথা ভাববে না? উচ্চ মাধ্যমিক পড়ুয়াদের কথা ভাবার যে সময় নেই নেতা-জনপ্রতিনিধিদের তার প্রমাণ মিলেছে অনুষ্ঠান বাড়িগুলিতে গিয়ে তাঁদের হাসিমুখে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট দেখেই। শুধু দুর্গাপুরে নয়, এই ঘটনা ঘটছে অণ্ডাল, জামুড়িয়া, রানিগঞ্জ, আসানসোল, কুলটি সহ সর্বত্র। কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে জানতে আসানসোল দুর্গাপুর পুলিস কমিশনারেটের ডিসি(হেড কোয়ার্টার) অরবিন্দ আনন্দকে ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি। জেলা প্রশাসনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এবছর জেলায় উচ্চ মাধ্যমিক পড়ুয়া গতবছরের চেয়ে সাত হাজার কম। পড়ুয়া সংখ্যা নেমে দাঁড়িয়েছে ১৬ হাজার ৬৯৬। তারমধ্যেও প্রায় ৩০০জন প্রথম দিনেই গরহাজির থেকেছে। মাধ্যমিক পরীক্ষাতে এবছর প্রায় ৫০০ছাত্রী গরহাজির ছিল। মেধা তালিকায় বেশিরভাগ বছরই ঠাঁই পায় না পশ্চিম বর্ধমানের পড়ুয়ারা। অবস্থার পরিবর্তনে আদৌ সচেষ্ট প্রশাসন? প্রশ্ন তুলছে বিভিন্ন মহল।



