Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নেশার পণ্য হিসেবে কদর এসিটি’র, দেদার ঢুকছে ঝাড়খণ্ড থেকে

নেশার পণ্য হিসেবে কদর এসিটি’র, দেদার ঢুকছে ঝাড়খণ্ড থেকে
  • ৮ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: নেশার সামগ্রী হিসেবে ক্রমেই ব্যবহার বাড়ছে এসিটি বা অ্যারোমেটিক কার্ডামম টিংচারের। বীরভূমের নেশাড়ুদের ভাষায় এটি ‘কারমিটার’। একদল অসাধু ব্যক্তির হাত ধরে অবৈধভাবে প্রতিবেশী রাজ্য ঝাড়খণ্ড থেকে জেলায় আমদানি করা হচ্ছে। অন্যান্য নেশার সামগ্রীর চেয়ে দামও অনেকটাই কম। ফলে, চাহিদা ঊর্ধ্বমুখী। যা নিয়ে উদ্বিগ্ন জেলা আবগারি দপ্তরের আধিকারিকরা। ইতিমধ্যেই ‘কারমিটার’ জেলায় যাতে না ঢোকে তারজন্য সীমানা এলাকায় নিয়মিত নজর রাখা হচ্ছে। গোপন সূত্রে পাওয়া খবরের ভিত্তিতে বিভিন্ন এলাকায় অভিযানও চালানো হচ্ছে। বহু ক্ষেত্রে সাফল্যও মিলছে। 
Advertisement
আবগারিদপ্তর সুত্রে জানা গিয়েছে, ইথাইল অ্যালকোহলই হল এসিটি। যা মূলত নেশার কাজে ব্যবহারের জন্য অসাধু ব্যক্তিদের হাত ধরে বীরভূমে ঢুকছে। পুলিস ও আবগারি দপ্তরের আধিকারিকদের নজর এড়াতে ওষুধের আড়ালেই নিয়ে আসা হচ্ছে। এক্ষেত্রে একটি চক্রও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। মূলত এই এসিটির দাম কম হওয়ায় নেশার সামগ্রী হিসেবে এর কদর ক্রমশ বাড়ছে। বীরভূম জেলার লাভপুর, সাঁইথিয়া এবং বোলপুর এলাকায় এই এসিটির চাহিদা যথেষ্ট। অবৈধভাবে কারমিটারের আমদানি রুখতে আবগারি দপ্তরের পক্ষ থেকে ঝাড়খণ্ড সীমানা এলাকায় নজরদারি রয়েছে। স্থানীয় পুলিস সহ ড্রাগ কন্ট্রোলের সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ রেখে অভিযান চালানো হয়। হাতেনাতে ধরাও পড়ছে অনেকে। ২০২৪ সালের এপ্রিল মাস থেকে ডিসেম্বর মাস অবধি চলা অভিযানে বিপুল পরিমাণ এসিটি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। গ্রেপ্তারির সংখ্যাও খুব একটা কম নয়। 
তথ্য বলছে, ২০২৩-২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৪-২০২৫ সালে এসিটি বাজেয়াপ্ত করার পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৩-২০২৪ সালে ৫৭৮.৪৫ লিটার এসিটি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।  ২০২৪-২০২৫ সালে তার পরিমাণ ৩৬৬৯.২৫লিটার। শেষ ন’মাসে মোট ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। 
আধিকারিকদের কথায়, গ্রেপ্তারি ও বাজেয়াপ্ত হল লাগাতার অভিযানের সুফল। এবিষয়ে জয়েন্ট কমিশনার অফ রেভিনিউ এবং সুপারিন্টেন্ডেন্ট অব এক্সাইজ একলব্য চক্রবর্তী  বলেন, ওষুধের আড়ালে অবৈধভাবে এসিটি ঝাড়খণ্ড থেকে আসছে। এই পাচার রুখতে সবসময় সীমানা এলাকায় কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে। গোপন সূত্রের খবরের ভিত্তিতেও অভিযান চালিয়ে বেশকিছু ক্ষেত্রে সাফল্যও মিলেছে। আগামীতেও এই অভিযান জারি থাকবে।
সম্পর্কিত সংবাদ