Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নার্স ও ডাক্তারকে লাথি, গ্রেপ্তার পুলিস অফিসার

নার্স ও ডাক্তারকে লাথি, গ্রেপ্তার পুলিস অফিসার
  • ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: মুর্শিদাবাদের লালগোলায় পুলিস অফিসারের দাদাগিরি! চিকিৎসক ও নার্সকে লাথি মারার মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার গভীর রাতে মায়ের চিকিৎসা করাতে এসে লালগোলার কৃষ্ণপুর রুরাল হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সকে নিগ্রহ করেছে ওই পুলিস অফিসার এবং তার পরিবারের লোকজন। ঘটনার খবর পেয়ে সেখানে হাজির হয় লালগোলা থানার পুলিস। তাদেরও বেধড়ক মারধর করে তারা। এই তাণ্ডবের ঘটনায় অভিযুক্ত অফিসার সহ মোট ছ’জনকে গ্রেপ্তার করেছে লালগোলা থানার পুলিস। অভিযুক্ত ওই পুলিস অফিসারের নাম আশরাফুল শেখ। তার বাড়ি লালগোলার দেওয়ানসরাই এলাকায়। বীরভূম জেলা পুলিসের ডিসিআরবির ওসি পদে কর্মরত ওই অফিসার। ধৃতদের বিরুদ্ধে পুলিস স্বতঃপ্রণোদিত মামলা করে। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও অভিযোগ জানায়।। দুটি মামলাতেই অভিযুক্তদের বুধবার লালবাগ মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক আশরাফুল ও তার ভাই ইয়ার শেখকে পাঁচদিনের পুলিসি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। বাকিদেরও পাঁচ দিনের জেল হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। 
Advertisement
জেলার পুলিস সুপার সূর্যপ্রতাপ যাদব বলেন, ওই সাব ইন্সপেক্টর সহ ছ’জনকে আমরা গ্রেপ্তার করেছি। প্রথমে তারা চিকিৎসক এবং হাসপাতালের কর্মীদের সঙ্গে ঝামেলা করছিল। তারপর সেখানে আমাদের পুলিস পৌঁছলে তাদের সঙ্গেও মারমারি করে। এই ঘটনায় মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। দু’জনকে আমরা পাঁচদিনের পুলিসি হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছি।  
জানা গিয়েছে, লালগোলার কৃষ্ণপুর হাসপাতালে মঙ্গলবার রাতে ওই পুলিস অফিসার অসুস্থ মাকে ভর্তি করতে যায়। সেসময় ডাক্তার ও নার্সদের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়। এরপর স্থানীয় একটি নার্সিংহোমে তাকে ভর্তি করে দিয়ে ফের রুরাল হাসপতালে যায় সে। তার পরিবারের লোকজন এবং পরিচিত কয়েকজনকে নিয়ে গিয়ে তাণ্ডব চালায়। অভিযোগ, সেসময় ডাক্তারকে সজোরে লাথি মারে ওই অফিসার। কর্তব্যরত নার্সদের সঙ্গে অত্যন্ত দুর্ব্যবহার করে। খবর পেয়ে লালগোলা থানার পুলিস অফিসাররা সেখানে গিয়ে তাদের আটকানোর চেষ্টা করলে তারা মারমুখী হয়ে ওঠে। ওসি সহ অন্যান্যদের বেধড়ক মারধর করা হয়। ওই পুলিস অফিসারের স্ত্রী নিজেই পুলিস ও সিভিককে মারধর করে। পরে ওই ঘটনার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়ে যায়। এই ঘটনায় জখম হয়েছেন ওই চিকিৎসক ও দুই পুলিসকর্মী। জখম পুলিসকর্মীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসা করার পর এদিন দুপুরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত অফিসারের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু করা হচ্ছে বলেই জানা গিয়েছে। 
এই ঘটনার পর কৃষ্ণপুর হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সরা রীতিমতো আতঙ্কিত। গভীর রাতে হাসপাতালে কাজের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন তাঁরা। কী থেকে এই ঘটনার সূত্রপাত, তাও খতিয়ে দেখছে জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর। জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সন্দীপ সান্যাল বলেন, হাসপাতালের কাছে এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট  তলব করা হয়েছে।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ