Bartaman Logo
১৫ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

নার্স বোনের অস্বাভাবিক মৃত্যুতে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চেয়ে এন্টালি থানায় যাবেন চন্দন

এনআরএস হাসপাতালে রহস্যজনকভাবে মৃত্যু হয়েছে পটাশপুরের সাউথখণ্ড গ্রামের নার্স রুপালি বর্মনের।

নার্স বোনের অস্বাভাবিক মৃত্যুতে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চেয়ে এন্টালি থানায় যাবেন চন্দন
  • ১৫ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: এনআরএস হাসপাতালে রহস্যজনকভাবে মৃত্যু হয়েছে পটাশপুরের সাউথখণ্ড গ্রামের নার্স রুপালি বর্মনের। বৃহস্পতিবার ময়নাতদন্তের পর কলকাতায় তাঁর অন্তেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেয়েছে পরিবার। রুপালির দাদা চন্দন আজ, শনিবার বোনের ময়নাতদন্তের রিপোর্ট নিয়ে এন্টালি থানায় হাজির হবেন। তিনি বলেন, বোনের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া উচিত। দাম্পত্য জীবনে কোনো সমস্যা থেকে এরকম ঘটনা ঘটল কি না, সেটাও প্রকাশ্যে আসা উচিত। 

Advertisement

রবিবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কাঁথির বাড়িতে এলে সেখানে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে চান রুপালির বাবা ৮০ বছর বয়সি অর্জুনচন্দ্র বর্মন। অপমৃত্যুর পর অর্জুনচন্দ্রবাবু ও তাঁর স্ত্রী হাজিবালা মেয়েকে দেখতে পাননি। তাঁরা পটাশপুরে গ্রামের বাড়িতেই রয়েছেন। মেয়ের ময়নাতদন্তের পর কলকাতার শ্মশানেই শেষকৃত্য হয়েছে। মেয়ে কীভাবে মারা গেল, সেটা দেখে যেতে চান অর্জুনচন্দ্রবাবু। তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে চাই। তাঁর কাছে আমার মেয়ের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সামনে আনার আরজি জানাতে চা‌ই। পটাশপুরের প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে ভালো রেজাল্ট করে কলকাতার নামী হাসপাতালে গ্রেড-টু স্টাফ নার্স ছিলেন রুপালি। নিজের পছন্দের পাত্রকে বিয়ে করেছিলেন। পরিবারের কেউ কেউ আপত্তি তুললেও পরবর্তীতে সকলে মেনে নেন। তবে, দাম্পত্য জীবনে টুকটাক ঝামেলা হত। সেটা পটাশপুরে বাপেরবাড়ির লোকজনকেও জানাতেন রুপালি। মৃতের বড়দা চন্দনবাবু বলেন, জামাইয়ের সঙ্গে মাঝেমধ্যে ঝামেলা হয়েছে। আমরা তখন বোনকে বুঝিয়ে সংসার করতে বলেছি। তবে, এই ঘটনা দাম্পত্য কলহে, নাকি অন্য কোনো কারণে সেটা স্পষ্ট নয়। তদন্ত হলে সেটা সামনে আসবে। 
অর্জুনবাবু পেশায় মৎস্যজীবী। ভেড়িতে মাছ চাষ করেন। তাঁর দুই ছেলে চন্দন ও আনন্দও ওই পেশার সঙ্গে যুক্ত। একমাত্র বোন পড়াশোনায় ভালো ছিল। পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করার সুবাদে আর জি করে বিএসসি নার্সিংয়ের সুযোগ পান। শুক্রবার বোনের নার্সিং প্রশিক্ষণের দিনগুলির কথা বলার সময় চন্দনবাবুর চোখে জল চলে এসেছিল। তিনি বলেন, ওর নার্সিং প্রশিক্ষণ চলাকালীন ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া দেখানো হয়েছিল। সেইসময় আমার বোন সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়েছিল। আরও অনেক ঘটনার কথা মনে পড়ছে। এভাবে আমার বোন অকালে মারা যাবে, এটা ভাবতে পারিনি। আমরা সবাই বোনের মৃত্যুর কারণ জানতে চাই।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ