নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: ঝাড়গ্রাম জেলাজুড়ে বাড়িঘর নির্মাণের কাজ বাড়ছে। মহিলা শ্রমিকদের একটা বড় অংশ নির্মাণ কাজে যুক্ত হচ্ছেন। স্বামী স্ত্রী দু’জনেই কাজ করায় তাঁরা শিশু সন্তানকে কর্মস্থলে নিয়ে আসতে বাধ্য হচ্ছেন। অস্বাস্থ্যকর জায়গায় বাচ্চাদের রাখা নিয়ে উদ্বিগ্ন বাবা-মায়েরা। সেই কারণে জেলার শ্রম কল্যাণ দপ্তর এবার ক্রেশ তৈরির উদ্যোগ নিচ্ছে। নির্মাণ কাজে যুক্ত জেলার চল্লিশ হাজার শ্রমিক এর ফলে উপকৃত হবেন। জেলা শ্রম কল্যাণ দপ্তরের আধিকারিক নবেন্দু মুখোপাধ্যায় বলেন, জেলায় ক্রেশ তৈরির বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। রাজ্যের কাছে ইতিমধ্যেই জেলায় ক্রেশ তৈরির প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন এলেই কাজ শুরু হয়ে যাবে। ঝাড়গ্রাম পৃথক জেলা হওয়ার পর নতুন প্রশাসনিক ভবন, আবাসন ইত্যাদি তৈরি হচ্ছে। বাইরে থেকেও বহু মানুষ এসে বাড়িঘর নির্মাণ করছেন। নির্মাণ ক্ষেত্রে মহিলা শ্রমিকদের নিয়োগ বাড়ছে। স্বভাবতই সমস্যা হচ্ছে তাঁদের সন্তানদের। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের মধ্যে থাকতে হচ্ছে শিশুদের। নির্মাণ শ্রমিকরা যা নিয়ে চিন্তিত। শ্রমিক সংগঠনগুলির তরফে নির্মাণ শ্রমিকদের সন্তানদের জন্য ক্রেশ তৈরির দাবি তোলা হয়েছে। জেলার শ্রম কল্যাণ দপ্তরে সংগঠনগুলির তরফে লিখিত আবেদনও করা হয়েছে। এরপরেই নড়েচড়ে বসে জেলা প্রশাসন। ক্রেশ তৈরি হলে ছ’বছর বয়স পর্যন্ত শিশুদের দিনে সাত-আট ঘণ্টা সেখানে রাখা যাবে। নিরাপদ স্থানে সন্তানরা থাকলে শ্রমিকরাও নিশ্চিন্তে মনে কাজ করতে পারবেন। বিনপুর-১ ব্লকের দহিজুড়ি এলাকার বাসিন্দা সবিতা মান্ডি বলেন, সংসার টানতে স্বামী-স্ত্রী দু’জনেই কাজ করি। শ্বশুর-শাশুড়ি অন্য জায়গায় থাকেন। কাজে বের হলে দু’ বছরের শিশু সন্তানকে সঙ্গে করে কর্মস্থলে নিয়ে যেতে হয়। ওই পরিবেশের মধ্যে শিশু থাকায় চিন্তা হয়। জামবনি ব্লকের গিধনি এলাকার বাসিন্দা সান্তনা ধল বলেন, স্থানীয় এক ইটভাটায় কাজ করি। তিন বছরের ছোট মেয়েকে ঘরে একা রেখে আসতে ভরসা হয় না। স্বামী ভিন রাজ্যে কাজ করে। বাচ্চাটাকে স্থানীয় এক বাসিন্দার ঘরে রাখি। দুঃশ্চিন্তা তো হয়ই। কিন্তু কিছু করার নেই। ঝাড়গ্রাম জেলা আইএনটিটিইউসি-র সহ সভাপতি সৌমেন আচার্য বলেন, নির্মাণ শ্রমিকদের স্বার্থে এই জেলায় ক্রেশ প্রয়োজন। বিষয়টি নিয়ে সংগঠনের তরফে দীর্ঘদিন ধরেই দাবি করা হচ্ছে। জেলার শ্রম কল্যাণ দপ্তরেও আমরা লিখিত আবেদন করেছি। দপ্তরের তরফে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখার আশ্বাস আগেই দেওয়া হয়েছিল।



