নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: পশ্চিমবঙ্গ সরকার সামাজিক সুরক্ষা যোজনা চালু করেছে।প্রকল্পে কাজ হারানো শ্রমিকদের আর্থিক নিরাপত্তা দেওয়ার ব্যবস্থা চালু রয়েছে।হাসপাতালে পাঁচদিন ভর্তি থাকলেই নাম নথিভুক্ত শ্রমিকদের ৫০০ টাকা করে দেওয়া হচ্ছে। তারপরে চিকিৎসাধীন থাকলে প্রতিদিন ২০০ টাকা করে মেলে। বছরে সর্বোচ্চ ২০ হাজার টাকা পাওয়া যায়। ঝাড়গ্রামে নির্মাণ শ্রমিকদেরবড় একটা অংশ প্রকল্পটি নিয়ে এখনও অবগত নন। জেলার শ্রমদপ্তরের ভবন ও নির্মাণ শ্রমিকদের স্বার্থে এবার সচেতনতা মূলক প্রচারে জোর বাড়াচ্ছে। ঝাড়গ্রাম জেলা শ্রমদপ্তরের আধিকারিক নব্যেন্দু মুখোপাধ্যায় বলেন, বিনামূল্যে সামাজিক সুরক্ষা যোজনায় জেলার সকলস্তরের ভবন ও নির্মাণ শ্রমিকদের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। নির্মাণ শ্রমিকরা অসুস্থ হয়ে পড়লে রোজগার সমস্যায় পড়েন। এই প্রকল্পে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আর্থিক নিরাপত্তা পাওয়ার সুবিধা রয়েছে। জেলার বিভিন্ন প্রান্তে বিষয়টি নিয়ে সচেতনতামূলক প্রচারে জোর বাড়ানো হয়েছে। শ্রমদপ্তরের অফিস বা দুয়ারে সরকারে গিয়ে নাম নথিভুক্ত করা যায়।বর্তমান রাজ্য সরকারের জনকল্যাণমূলক নানা প্রকল্পের সুবিধাএখন ঘরে ঘরে পৌঁছে যাচ্ছে। বিনামূল্যে সামাজিক সুরক্ষা যোজনায় এখন ভবন ও নির্মাণ শ্রমিকরা উপকৃত হচ্ছেন। যদিও প্রান্তিক এলাকার নির্মাণ শ্রমিকদের বড় একটা অংশ বিষয়টি নিয়ে সচেতনত নন। সরকারের এই প্রকল্পেভবন ও নির্মাণ শ্রমিকদের জন্য ‘লস অব এমপ্লয়মেন্ট’এ আর্থিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা রয়েছে। প্রকল্পে নথিভুক্ত কোনও শ্রমিক হাসপাতাল বা নার্সিংহোম পাঁচদিন ভর্তি থাকলে প্রতিদিন ৫০০ টাকা পান।পাঁচদিনের পরেও চিকিৎসাধীন থাকলে প্রতি দিন ২০০ টাকা করে পাওয়া যায়। বছরে সর্বোচ্চ ২০ হাজার টাকা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।চিকিৎসা কেন্দ্রের ডিসচার্জ সার্টিফিকেট শ্রমদপ্তর অফিসে গিয়ে জমা করলেই প্রকল্পের আওতায় থাকা শ্রমিকদের অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকে যায়। এছাড়াও বিনামূল্যে সামাজিক সুরক্ষা যোজনায় অসংগঠিত শ্রমিকদের ২ লক্ষ টাকা জীবনবিমার ব্যবস্থা রয়েছে।প্রকল্পে ১৮ থেকে ৬০ বছর বয়সের পুরুষ ও নারীরা নাম নথিভুক্ত করতে পারেন। নাথিভুক্ত নির্মাণ শ্রমিকদের অ্যাকাউন্টে প্রতিমাসে সরকার ৫৫ টাকা করে জমা করেন। ষাট বছর উত্তীর্ণ হলে সুদসহ সর্বোচ্চ আড়াই লক্ষ টাকা দেওয়া হয়। দূর্ঘটনায় ৬০ বছরের মধ্যে মৃত্যু হলে ২ লক্ষ টাকা পাওয়া যায়। দুর্ঘটনায় কর্মে অক্ষম হয়ে পড়লেও আর্থিক ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা রয়েছে।স্বাভাবিক মৃত্যু হলে ৫০ হাজার টাকা পাওয়া যায়। প্রকল্পে পেনশনেরও ব্যবস্থা রয়েছে।নির্মাণ শ্রমিকদের ৬০ বছর বয়স হলে প্রতিমাসে ১হাজার ও পরিবহণ শ্রমিকদের দেড় হাজার টাকা দেওয়া হয়।জঙ্গলমহল স্বরাজ মোর্চার সভাপতি অশোক মাহাত এদিন বলেন,আদিবাসী ও জনজাতি সম্প্রদায়ের মানুষের বড় একটা অংশ নির্মাণ শ্রমিকের কাজ করেন। কাজ না থাকলে আর্থিক সঙ্কটে পড়েন। বিশেষ করে অসুস্থ অবস্থায় পড়লে চিকিৎসার ব্যয় নিয়ে চিন্তায় পড়েন। বিনামূল্যে সামাজিক সুরক্ষা যোজনা তাঁদের সেইসঙ্কট থেকে উদ্ধার করছে। ঝাড়গ্রাম জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের শ্রমিক সংগঠনের সহ সভাপতি সৌমেন আচার্য বলেন, জেলা শ্রমদপ্তর যেভাবে শ্রমিকদের পাশে দাঁড়াচ্ছে, তাকে সাধুবাদ জানাচ্ছি।



