Bartaman Logo
১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

তালাবন্ধ নৃপেন্দ্র নারায়ণ লাইব্রেরি, পুঁথি সংরক্ষণের দাবি বইপ্রেমীদের

মাথাভাঙা শহরের শতাব্দী প্রাচীন গ্রন্থাগার নৃপেন্দ্র নারায়ণ লাইব্রেরি নানান সমস্যায় ধুঁকছে

তালাবন্ধ নৃপেন্দ্র নারায়ণ লাইব্রেরি, পুঁথি সংরক্ষণের দাবি বইপ্রেমীদের
  • ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সন্দীপ বর্মন, মাথাভাঙা: মাথাভাঙা শহরের শতাব্দী প্রাচীন গ্রন্থাগার নৃপেন্দ্র নারায়ণ লাইব্রেরি নানান সমস্যায় ধুঁকছে। লাইব্রেরিতে শতাধিক মূল্যবান পুঁথি রয়েছে। বহু পুঁথির মলাট খুলে গিয়েছে। অনেক পুরনো বইয়ের বাইন্ডিং করার প্রয়োজন হলেও সেসব অবহেলায় পড়ে আছে। এই লাইব্রেরি পুরসভা পরিচালনা করে। রাজ্যে পালাবদলের পর এখন লাইব্রেরিটি খুলে পুরনো বই সংরক্ষণ সহ নতুন করে গ্রন্থাগারটিকে সাজিয়ে তোলার দাবি তুলেছেন শহরের বইপ্রেমীরা। 

Advertisement

পুরসভার যে কর্মী প্রতিদিন সন্ধ্যায় লাইব্রেরি খুলতেন তিনি অবসর নেওয়ার পর এখন লাইব্রেরি বন্ধ হয়ে আছে। ১৯৮৬ সালে মাথাভাঙা টাউন কমিটির হাত থেকে এই লাইব্রেরির দায়িত্ব গ্রহণ করেছিল পুরসভা। অভিযোগ, প্রথম থেকেই লাইব্রেরির গুরুত্বপূর্ণ বই সংরক্ষণের ব্যাপারে উদাসিন পুরকর্তৃপক্ষ। অনেক দামি পুঁথি হারিয়ে গিয়েছে। কিছু বই এখনও আছে, যেগুলির অবস্থাও শোচনীয়। বই বাঁচাতে পুরসভার দ্রুত পদক্ষেপের দাবি উঠেছে। 
কোচবিহার রাজ আমলে ১৯১৫ সালে শহরের পোস্ট অফিস মোড়ে তৈরি করা হয় নৃপেন্দ্র নারায়ণ লাইব্রেরি। পরবর্তীতে মাথাভাঙা টাউন কমিটি লাইব্রেরির দেখাশোনা করত। ১৯৮৬ সালে মাথাভাঙা পুরসভা গঠনের পর লাইব্রেরির দায়িত্ব নেয় পুরকর্তৃপক্ষ। প্রথমদিকে ঠিকঠাক চললেও পরবর্তীতে লাইব্রেরি নিয়ে উদাসিন হয়ে পড়ে পুরসভা। লাইব্রেরিয়ান না থাকায় বইপত্রের সংরক্ষণ নিয়েও তেমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। তৃণমূল পরিচালিত পুরবোর্ড লাইব্রেরি সংস্কার করে পুনরায় চালু করলেও পুরনো বই সংরক্ষণ করার জন্য তারা কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। 
মাথাভাঙার বাসিন্দা সাহিত্যিক সঞ্জয় সাহা বলেন, শতাব্দী প্রাচীন নৃপেন্দ্র নারায়ণ লাইব্রেরি আমাদের গর্ব। বহু মূল্যবান পুঁথি এখানে একসময় ছিল। বই সংরক্ষণের জন্য পুরসভার গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে নতুন বই কিনে লাইব্রেরিকে সাজাতে হবে। নতুন সদস্য নেওয়ার জন্য স্কুলগুলিতে গিয়ে প্রচার করা দরকার। নতুন প্রজন্মকে বইমুখী করার দায়িত্ব সকলকে নিতে হবে।
পুরসভা উদ্যোগ নিয়ে একসময় লাইব্রেরি খুলেছিল, কিন্তু এখন আবারও বন্ধ। 
মাথাভাঙা পুরসভার অবসরপ্রাপ্ত কর্মী লেখক-গবেষক জয়ন্ত গুহ ঠাকুরতা বলেন, আমি পুরসভার কর্মী হিসাবে লাইব্রেরিতে দায়িত্ব পাওয়ার পর শতাধিক পুরনো বই বাইন্ডিং করেছিলাম। আরও কিছু বই বাইন্ডিং করা জরুরি। রাজ্যে পরিবর্তন হয়েছে। এখন রাজ্য সরকার ও পুরসভা এ ব্যাপারে সদার্থক ভুমিকা নিলে প্রাচীন পুঁথিগুলি যেমন সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে, তেমন পাঠকরাও উপকৃত হবেন। পুরসভার এক আধিকারিক জানিয়েছেন, লাইব্রেরিটি খোলা এবং বই সংরক্ষণের ব্যাপারে রাজ্য সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ