Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নির্দিষ্ট পান্ডার মাধ্যমে পুজো দিলে তবেই মিলবে হোটেল, ফতোয়া ঘিরে উঠছে প্রশ্ন

নির্দিষ্ট পান্ডার মাধ্যমে পুজো দিলে তবেই মিলবে হোটেল, ফতোয়া ঘিরে উঠছে প্রশ্ন
  • ৩ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
সংবাদদাতা, রামপুরহাট: হোটেলের ঠিক করে দেওয়া পান্ডাকে দিয়েই পুজো দিতে হবে, না হলে মিলবে না ঘর। ইদানীং তারাপীঠের অনেক হোটেল পর্যটকদের উপর এইরকম অনৈতিক ফতোয়া জারি করছে বলে অভিযোগ। হোটেলের ঘর দেখে পছন্দ করে ভাড়া ঠিক হয়ে যাওয়ার পর হোটেল থেকে জানানো হচ্ছে এই নয়া ফতোয়া। ঘর পছন্দ হয়ে যাওয়ায় অনেকে তা মেনে নিচ্ছেন। আবার যাঁরা অনেকদিন ধরেই আসছেন তারাপীঠে, তাঁরা দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগছেন নিজেদের পূর্ব পরিচিত পান্ডাকে দিয়ে পুজো দেওয়াতে না পারায়। মানসিক যন্ত্রণার শিকার হচ্ছেন তাঁরা। এই অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে নিয়েছেন হোটেল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সুনীল গিরি। তিনি বলেন, অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বলে দেওয়া হয়েছে, পর্যটকদের উপর এমন ফতোয়া চাপিয়ে দেওয়া যাবে না। মন্দিরে পুজোর ব্যাপারে আমরা কেউ যুক্ত থাকব না। যদি কোনও হোটেল পর্যটকদের সঙ্গে এমন আচরণ করে, তাহলে সেই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 
Advertisement
ইংরেজি নতুন বর্ষ শুরুর আগে থেকেই তারাপীঠে হাজার হাজার পর্যটকের আনাগোনা শুরু হয়েছে। রাত্রিবাসের জন্য তাঁরা নিজেদের পছন্দমাফিক হোটেলে ঘর ভাড়া করেন। যদিও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দালালরা পর্যটকদের হোটেলে নিয়ে গিয়ে ঘর ভাড়া করিয়ে দেন। বিনিময়ে হোটেল মালিকদের কাছ থেকে কমিশন পান দালালরা। আবার অনেকে সরাসরি হোটেল কর্তৃপক্ষর সঙ্গে কথা বলে ঘর ভাড়া করেন। অধিকাংশ পর্যটক মন্দিরের কাছাকাছি হোটেলে থাকতে চান। ইদানিং বেশকিছু হোটেল পর্যটকদের উপর অলিখিত ফতোয়া জারি করছে। অভিযোগ, হোটেল কর্তৃপক্ষর ঠিক করে দেওয়া পান্ডাকে দিয়েই পুজো দিতে বাধ্য করানো হচ্ছে। না হলে ঘর মিলবে না বলে সাফ জানিয়ে দিচ্ছে হোটেল কর্তৃপক্ষ। 
সূত্রের খবর, ওই সব হোটেল মালিকদের সঙ্গে পান্ডাদের একাংশের যোগ রয়েছে। পর্যটক পিছু পান্ডাদের কাছ থেকে কমিশন নিচ্ছে সেই সব হোটেল। রুম পছন্দ হয়ে যাওয়ায় অনেকেই সেই ফতোয়া মেনে নিচ্ছেন। কেউ বা অন্য হোটেলে গিয়ে উঠছেন। এদিকে ১ পৌষ থেকে মন্দিরে পুজো দেওয়ার নিয়মে বদল এসেছে। সাধারণ লাইন ছাড়াও বিশেষ লাইনে পুজো দেওয়ার ব্যবস্থা হয়েছে। বিশেষ লাইনে পুজো দিতে গেলে মন্দির কমিটির অফিস থেকে ভক্ত পিছু ৫০০ টাকা দিয়ে কুপন সংগ্রহ করতে হবে। সেই কুপন পিছু কমিশন রয়েছে বলে পান্ডাদের সূত্রের দাবি। পরে পান্ডাদের থেকে সেই কমিশনের একটা অংশ বুঝে নিচ্ছে হোটেলগুলি। 
সুনীল গিরি বলেন, এসব চলতে দেওয়া যাবে না। এতে বদনাম হচ্ছে। আমরা হোটেল ব্যবসা করছি। মন্দিরে পুজো দেওয়ার সঙ্গে আমাদের কোনও সম্পর্ক থাকতে পারে না। ভিড় কিছুটা কমলেই হোটেল মালিকদের সঙ্গে এ বিষয়ে বৈঠকে বসা হবে ।
অন্যদিকে মন্দির কমিটির সম্পাদক ধ্রুব চট্টোপাধ্যায় বলেন, শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, ভিন রাজ্যের বহু ভক্ত দীর্ঘদিন ধরে এই তীর্থভূমিতে আসছেন। তাঁরা পরিচিত পান্ডার মাধ্যমে পুজো দেন। যাঁরা নতুন, তাঁরা পান্ডা ধরে পুজো দেন। কোনও হোটেল যদি পর্যটকদের ‘মিস গাইড’ করে সেক্ষেত্রে আমরা ব্যবস্থা নেব।  
সম্পর্কিত সংবাদ