নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: খোদ সরকারের ‘আইন’ বিভাগেই বেআইনি কাজ! রানাঘাট আদালতে একটি পকসো মামলায় সরকারি আইনজীবী নিয়োগকে কেন্দ্র করে দানা বেঁধেছে বিতর্ক। শুধু তাই নয়, বিষয়টি নিয়ে সরকারের দুয়ারে দায়ের হয়েছে অভিযোগ। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অমান্য করে নদীয়া জেলার পাবলিক প্রসিকিউটরকে নিয়োগ করা হয়েছে পকসো মামলার সরকারি আইনজীবী হিসেবে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই, সরকারের লিগ্যাল রিমেমব্রান্সার নিজেই প্রশ্নের মুখে।
Advertisement
ঘটনাটি কী ঘটেছে? সম্প্রতি রানাঘাট আদালতের একটি পকসো মামলায় সরকারি আইনজীবী নিয়োগকে কেন্দ্র করে এই বিতর্ক দানা বেঁধেছে। ১৪ মার্চ ২০২৪ তারিখে রানাঘাট মহকুমার হাঁসখালি থানার একটি মামলায় অভিযুক্ত লাভলু মুনিঋষি। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, ১৪ বছর বয়সি এক বিশেষভাবে সক্ষম নাবালিকাকে দিনের পর দিন যৌন নির্যাতন করার। স্বাভাবিকভাবেই সেই মামলার শুনানিতে প্রয়োজন রয়েছে সরকারি আইনজীবী নিয়োগের। জানা গিয়েছে, লিগ্যাল রিমেমব্রান্সার এই মামলায় সরকারি আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছেন নদীয়া জেলার পাবলিক প্রসিকিউটর কিশোর মুখোপাধ্যায়কে। কীভাবে সম্ভব এটা? কারণ সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি দীপক গুপ্ত ও অনিরুদ্ধ বসুর ডিভিশন বেঞ্চ ২০২০ সালের ১৩ জানুয়ারি নির্দেশ দেয়, পকসো মামলায় রাজ্য সরকারগুলিকে সরকারি আইনজীবী নিয়োগের ক্ষেত্রে মাথায় রাখতে হবে, তিনি যেন অন্য কোন মামলার দায়িত্বপ্রাপ্ত না হন। অর্থাৎ পকসো মামলায় নির্দিষ্ট কিছু সরকারি আইনজীবীকেই নিয়োগ করতে হবে। শুধু তাই নয়, এই ধরনের ক্ষেত্রে মহিলা আইনজীবী হওয়াই বাঞ্ছনীয়। কারণ সে ক্ষেত্রে নিগৃহীতার অনেক কথা বলতে এবং বোঝাতে সুবিধা হবে আইনজীবীকে। পরবর্তীকালে, দেশের শীর্ষ আদালতের এই মামলার উল্লেখ করে কর্ণাটক হাইকোর্ট পর্যন্ত। কিন্তু সম্প্রতি রানাঘাটের মতো একটি মহকুমা আদালতে পকসো মামলার আইনজীবী নিয়োগের ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে রাজ্যের পাবলিক প্রসিকিউটর নিয়োগের শীর্ষ দপ্তর, অর্থাৎ লিগ্যাল রিমেমব্রান্সার একপ্রকার লঙ্ঘন করেছেন সেই নির্দেশ। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে, পকসো মামলায় নিয়োগ করা হয়েছে নদীয়া জেলার পাবলিক প্রসিকিউটর কিশোর মুখোপাধ্যায়কে। স্বাভাবিকভাবেই, তিনি আরও অনেক মামলার সঙ্গে যুক্ত। সেইসঙ্গে মহিলাও নন। তাহলে কীভাবে সম্ভব হল এই মামলায় জেলার পিপি নিয়োগ? এই প্রশ্ন তুলেই সংশ্লিষ্ট বিভাগের শীর্ষ কর্তার কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন রানাঘাট আদালতের আইনজীবী শুভম শর্মা। তিনি বলেন, সর্বোচ্চ আদালত এবং অন্যান্য উচ্চ আদালতে দ্ব্যর্থহীন নির্দেশকে উপেক্ষা করে নিঃশব্দে এমনভাবে সরকারপক্ষের আইনজীবীর নিয়োগপত্র প্রদান করা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।
বিষয়টি নিয়ে সরকারি আইনজীবী কিশোর মুখোপাধ্যায় বলেন, এই বিষয়ে আমার কিছু বক্তব্য নেই। কী বলছে প্রশাসন? নদীয়ার জেলাশাসক এস অরুণ প্রসাদ বলেন, সুপ্রিম কোর্ট কী নির্দেশ দিয়েছিল, তা খোঁজ নিয়ে দেখা দরকার। আমি বিষয়টি স্পষ্ট জানি না। অবশ্যই খোঁজ নিয়ে দেখব।
বিষয়টি নিয়ে সরকারি আইনজীবী কিশোর মুখোপাধ্যায় বলেন, এই বিষয়ে আমার কিছু বক্তব্য নেই। কী বলছে প্রশাসন? নদীয়ার জেলাশাসক এস অরুণ প্রসাদ বলেন, সুপ্রিম কোর্ট কী নির্দেশ দিয়েছিল, তা খোঁজ নিয়ে দেখা দরকার। আমি বিষয়টি স্পষ্ট জানি না। অবশ্যই খোঁজ নিয়ে দেখব।



