নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: শীত পড়লেও ঝাড়গ্রামে মিলছে না সুস্বাদু খেজুর গুড়। ঘর, রাস্তা নির্মাণের জন্য নির্বিচারে খেজুরগাছ কাটা হয়েছে। ফলে জেলায় আসা শিউলিরা এইবছর রস সংগ্রহের জন্য পর্যাপ্ত খেজুর গাছ পায়নি। খেজুর রসের অভাবে গুড়ের উৎপাদন কমে গিয়েছে। যাতে পৌষপার্বণে বাড়ি বাড়ি পিঠেপুলি, পায়েস বানাতে গুড়ের চাহিদায় টান পড়তে পারে।
Advertisement
জমির ধারে, মাঠের ফাঁকা জায়গায় খেজুর গাছ সারাবছর অযত্নে পড়ে থাকে। সাধারণ মানুষ আম, জাম, নারকেল গাছ লাগানোর কথা ভাবলেও খেজুর গাছ লাগানোর কথা ভাবে না। প্রশাসন ও পরিবেশপ্রেমীদেরও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে খেজুর গাছ লাগাতে দেখা যায় না। প্রায় অবহেলায় বড় হয়ে ওঠা এই গাছ কাটা পড়লেও কেউ উচ্চবাচ্য করে না। তবে, শীতকাল এলে খেজুর গুড়ের খোঁজ শুরু হয়। ঘর, রাস্তা নির্মাণের সময় ফাঁকা জায়গায় থাকা খেজুর গাছ কেটে ফেলা হয়। ইটভাটায় আগুনের আঁচ বাড়াতে খেজুর গাছ ব্যবহার করা হচ্ছে। যার জেরে জেলায় খেজুর গাছ সাফ হতে বসেছে। শিউলিরা শীতের সময় জেলায় এসে খেজুর গাছের সন্ধান পাচ্ছে না। অল্প কিছু গাছ থেকে রস সংগ্রহ করে খেজুর গুড় তৈরি হচ্ছে। খেজুর রস পর্যাপ্ত পরিমাণে না মেলায় ঘন রস দিয়ে গুড় তৈরি হচ্ছে না। বাঁকুড়ার তালডাংরা থেকে আসা কলেমুদ্দিন খাঁ বলেন, গাছের অভাবে আমাদের রস সংগ্রহ কমে যাচ্ছে। যার জেরে খেজুর গুড়ও কম তৈরি হচ্ছে। খেজুর গাছ না লাগালে আগামী দিনে খেজুর গুড় তৈরি আরও কমে যাবে। শিলদার বাসিন্দা মঙ্গল কাসুন্দি বলেন, জমি এলাকায় বাড়ি, রাস্তাঘাট তৈরির সময় খেজুর গাছ কেটে ফেলা হয়। এই গাছ নিয়ে কেউ ভাবে না। এলাকায় যেসব গাছ আছে সেখান থেকে রস সংগ্রহ করি। সামনের দিনে গাছের রস সংগ্রহ বন্ধ হয়ে যাবে। শহরের জুবিলি মার্কেটর খেজুর গুড় বিক্রেতা অসীম নন্দী বলেন, গত কয়েক বছর ধরে বাজারে খেজুর গুড়ের জোগান কমছে। পাইকাররা জোগান কমের কারণ বলতে পারছেন না। ক্রেতারা এসে ঝোলা গুড়, পাটালির খোঁজ করছেন। কিন্তু চাহিদা অনুযায়ী দিতে পারছি না।



