Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নির্বাচন কমিশনের ওয়েব সাইট থেকে ফোন নম্বর নিয়েই কি বিএলওদের ফোন? প্রশ্ন বিভিন্ন মহলে

নির্বাচন কমিশনের ওয়েব সাইট থেকে ফোন নম্বর নিয়েই কি বিএলওদের ফোন? প্রশ্ন বিভিন্ন মহলে
  • ২০ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: জয়েন্ট বিডিও বলছি। কাজে ঢিলেমি করছেন কেন? ভালো করে কাজ করুন। এভাবে ধমক দিয়ে বিষ্ণুপুরের এক বিএলওকে ফোন করা হয়। কর্তৃত্ব জাহির করেই ফোনের অপর প্রান্ত থেকে দেওয়া হয় ছেলেকে চাকরির টোপ। এভাবে কয়েক হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় প্রতারক। ‘বর্তমানে’ সেই খবর প্রকাশিত হয়। তার জেরে বিষ্ণুপুর ও পাত্রসায়রের একাধিক বিএলও প্রতারণার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছেন। তাঁদেরও একইভাবে ফাঁদে ফেলার চেষ্টা করা হয়। যদিও সংবাদমাধ্যমে জেনে আগাম সতর্ক হওয়ায় প্রতারকের টোপ তাঁদের কেউই গেলেননি। তবে বেছে বেছে নির্বাচন কমিশনের বিএলওদেরই টার্গেট করায় শোরগোল পড়েছে। বিএলওদের ফোন নম্বর নির্বাচন কমিশনের সাইটে দেওয়া আছে। তাহলে কি সেখান থেকেই নম্বর সংগ্রহ করছে প্রতারকরা? তারপরেই নানা টোপ দিয়ে প্রতারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি জানাজানি হতেই প্রশাসনের তরফে বিষ্ণুপুর মহকুমার সমস্ত বিএলওদের সতর্ক করা হচ্ছে। 
Advertisement
বিষ্ণুপুরের মহকুমা শাসক প্রসেনজিৎ ঘোষ বলেন, জয়েন্ট বিডিও পরিচয় দিয়ে প্রতারকরা বিএলওদের ফোন করছে বলে শুনেছি। বিষয়টি বিএলওদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে জানিয়ে তাঁদের সতর্ক করা হয়েছে। বিষয়টি পুলিসকেও দেখতে বলা হয়েছে। বিএলওদের নম্বর নির্বাচন কমিশনের সাইটে দেওয়া আছে। সেখান থেকেই সম্ভবত প্রতারকরা নম্বর জোগাড় করেছে।    
উল্লেখ্য, সোমবার রাতে বিষ্ণুপুরের গোঁসাইপুর এলাকার বাসিন্দা নির্বাচন কমিশনের এক বিএলও(বুথ লেভেল অফিসার)কে জয়েন্ট বিডিও পরিচয় দিয়ে প্রথমে ধমক দেওয়া হয়। পরে তাঁর ছেলেকে সমবায় দপ্তরে চাকরির প্রলোভন দেয়। প্রাথমিকভাবে একটি কম্পিউটার সার্টিফিকেট জোগাড় করার জন্য অনলাইনে তিন হাজার টাকা নেয়। পরে ধাপে ধাপে আরও টাকা নেওয়ার কথা বলে। কিন্তু, মঙ্গলবার সকালে সন্দেহ হওয়ায় ওই বিএলও বিষ্ণুপুরের বিডিও অফিসে ফোন করে বিষয়টি জানাতেই তিনি প্রতারিত হয়েছেন বলে বুঝতে পারেন। এরপরেই তিনি বিষ্ণুপুর থানায় অভিযোগ জানান। 
মঙ্গলবার বিষ্ণুপুর ও পাত্রসায়রের একাধিক বিএলওকে একইভাবে জয়েন্ট বিডিও পরিচয় দিয়ে ফোন করে এক ব্যক্তি প্রথমে ভোটার তালিকার কাজে ঢিলেমির অভিযোগ তুলে ধমক দেয়। পরে শান্ত কণ্ঠে তাঁদের ছেলেমেয়ে অথবা পরিবারের অন্য কাউকে সমবায় দপ্তরে চাকরির প্রলোভন দেখায় বলে অভিযোগ। তবে ওইদিনই ‘বর্তমান’ পত্রিকায় গোঁসাইপুরের বিএলওকে প্রতারণার ঘটনা প্রকাশিত হওয়ায় তাঁরা আগাম সতর্ক হয়ে যায়। ওই প্রতিবেদনটি বিএলওদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপেও দেওয়া হয়। যার ফলে তাঁরা প্রতারকের টোপ কেউই গেলেননি। 
নির্বাচন কমিশনের পাত্রসায়র ব্লক এলাকার এক সুপারভাইজার বলেন, জামকুড়ি, কুশদ্বীপ, বালসি প্রভৃতি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় সোম এবং মঙ্গলবার দু’দিনে অন্তত সাতজন বিএলওকে জয়েন্ট বিডিও পরিচয়ে ধমক দিয়ে কোনও এক ব্যক্তি ফোন করেছে। ওই বিএলওরা অধিকাংশই পেশায় অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী। তবে সংবাদমাধ্যমে প্রতারণার ঘটনা জানাজানি হওয়ায় তাঁরা আর্থিক ক্ষতির হাত থেকে রেহাই পেয়েছেন।
সম্পর্কিত সংবাদ