নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: পুরসভা-ইস্কো টানাপোড়েনের জেরে ফের উত্তেজনা ছড়াল বার্নপুরে। অভিযোগ, ভক্তদের দাবি মেনে আসানসোল পুরসভা দুর্গামন্দিরের সামনে শেড তৈরি করছিল। সেই সময় পুরসভার কাজে বাধা দেয় ইস্কোর টাউন সার্ভিস অফিসের কর্মী ও নিরাপত্তারক্ষীরা। তা নিয়ে তুমুল উত্তেজনা ছড়ায় শহরে। বাসিন্দাদের অভিযোগ, দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে মন্দিরের সামনে শেড তৈরি করার জন্য ইস্কো কর্তৃপক্ষকে বারংবার অনুরোধ করা হয়। ইস্কো কর্ণপাত করেনি। এরপর পুরসভার কাছে আর্জি জানানো হয়। অবশেষে পুরসভা তৎপর হয়। তাতেও বাধা দিল ইস্কো। ইস্কোর জনসংযোগ আধিকারিক ভাস্কর কুমার বলেন, বিনা অনুমতিতে নির্মাণ কাজ করা হচ্ছিল। তাই বাধা দেওয়া হয়েছে।
Advertisement
বহু প্রাচীন বার্নপুরের নেপালি দুর্গামন্দির। ইস্কো গড়ে ওঠার সময় থেকেই কারখানা ও টাউনশিপে নিরাপত্তারক্ষীর দায়িত্ব পালন করেছেন নেপালিরা। সেই নেপালি বাহাদুরদের পরিবার নিজেদের বাসস্থানের সামনে এই দুর্গামন্দির গড়ে তোলেন। নির্দিষ্ট রীতি মেনে পুজো হয়। নেপালিদের পুজো দেখতে বহু মানুষ ভিড় করেন। তবে, এখন আর নেপালি বাহাদুরদের নিরাপত্তারক্ষী হিসেবে আলাদা করে কদর নেই। তা সত্ত্বেও বহু নেপালি পরিবার এখানে থেকে গিয়েছেন। মন্দিরে নিয়মিত পুজোও হয়। দীর্ঘদিন ধরেই তাঁরা দুর্গামন্দিরের সামনে একটি শেডের দাবি করে আসছেন। অভিযোগ, এবিষয়ে ইস্কো কর্ণপাত করেনি। তারপর আসানসোল পুরসভা তা করতে উদ্যোগী হয়। এদিন ভিত খোঁড়ার কাজ চলছিল। তখনই ইস্কোর আধিকারিকরা কাজে বাধা দেন। বিনা অনুমতিতে ইস্কোর জমিতে এই কাজ করা যাবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেন তাঁরা। এরপরই এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। ঘটনার প্রতিবাদ করতে এলাকায় হাজির হন স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলার অশোক রুদ্র, গুরমিত সিংরা। এলাকাবাসীরও ক্ষোভ দেখাতে থাকেন। ইস্কোর আধিকারিকরা বিক্ষোভকারীদের টাউন অফিসে ডেকে পাঠান। অর্জুন গুরুং, পুনম ছেত্রীরা বলেন, আমাদের বেশিরভাগের বাড়ির সদস্যরা একসময় ইস্কোয় কাজ করতেন। সেই সময় থেকে দুর্গামন্দিরটি রয়েছে। শেড করে দেওয়ার জন্য ইস্কোর কাছে বহুদিন ধরে আবেদন জানানো হয়েছে। কিন্তু ওরা কোনও ভ্রুক্ষেপ করেনি। স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলার অশোক রুদ্র বলেন, মন্দিরের শেড করতেও বাধা দিচ্ছে কেন্দ্র শাসিত সংস্থা সেইল। সেইলের অধীনে থাকা ইস্কো কর্তৃপক্ষের কাছে স্থানীয়রা বারবার শেড করে দেওয়ার দাবি জানিয়েছিল। তারা তা না করায় আমরা শেড করার সিদ্ধান্ত নিই। ইস্কোর কাছে অনুমতি চাওয়া হয়। দীর্ঘদিন তার কোনও উত্তর পাইনি। দেখেছি, বার্নপুরে উন্নয়ন করতে গেলেই আমাদের বাধা পেতে হয়। বিজেপির জেলা সভাপতি বাপ্পা চট্টোপাধ্যায় বলেন, ইস্কো বহু মন্দিরের শেড বানিয়ে দিয়েছে। আমরা উন্নয়নের পক্ষে। তৃণমূলের কালচার হল আইন ভাঙা। ইস্কোর জমি দখল করে ওরা বহু পার্টি অফিস বানিয়েছে। ওরা আদৌ মন্দিরের শেড করবে, নাকি জমি দখল করার চেষ্টা করছে, তার নিশ্চয়তা নেই।



