ওয়াশিংটন: ঘুণাক্ষরেও কেউ টের পায়নি। পাল্টা শুল্ক নীতি নিয়ে নিজের দল ও বাণিজ্য জগতের কর্মকর্তাদের সাবধানবাণী ধর্তব্যের মধ্যে আনতে চাননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বলেছিলেন, আমার নীতির নড়চড় হয় না। কিন্তু আচমকাই সিদ্ধান্ত বদল। বুধবার প্রথমে সোশ্যাল মিডিয়ায় ইঙ্গিতপূর্ণ বার্তা। তারপর নাটকীয়ভাবে চীন ছাড়া ৭৫টি দেশের উপর আরোপ করা পাল্টা শুল্ক নীতি ৯০ দিনের জন্য স্থগিত রাখার ঘোষণা করেন ট্রাম্প। সঙ্গে সঙ্গে খাদের মুখে পড়া মার্কিন শেয়ার বাজারের সূচক বড়সড় লাফ দেয়। আর এতে ট্রাম্পের কোম্পানির শেয়ারও এক ধাক্কায় অনেকটাই বেড়ে যায়। সেইসঙ্গে টেসলারও। বুধবারের পুরো ঘটনাক্রমকে তাই সাদা চোখে দেখতে পারছেন না অনেকেই। বিশেষ করে মার্কিন সেনেটরদের একটা অংশ বেনিয়মের গন্ধ পেয়েছেন। তাঁদের প্রশ্ন, স্বয়ং প্রেসিডেন্ট কি এভাবে ইনসাইডার ট্রেডিং বা শেয়ার বাজারে কারচুপির পথে হেঁটেছেন? এমনই অভিযোগে তাঁরা বিস্তারিত তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের প্রশ্ন, ঘোষণার আগে হঠাৎ কেন ট্রাম্প লোকজনকে শেয়ার কেনার ব্যাপারে উৎসাহিত করেছিলেন? সবমিলিয়ে ট্রাম্পের শুল্কনীতি সংক্রান্ত পদক্ষেপ মার্কিন রাজনীতিতে তোলপাড় ফেলে দিয়েছে।
ক্যালিফোর্নিয়ার ডেমোক্র্যাট সেনেটর অ্যাডাম স্কিফ বুধবার সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, ‘শুল্ক নিয়ে ট্রাম্পের ডিগবাজির কথা আগে থেকে প্রশাসনের কারা জানতেন? তাঁদের কেউ কি শেয়ার কেনা বা বেচার মাধ্যমে সাধারণ লগ্নিকারীদের ডুবিয়ে মুনাফা অর্জন করেছেন? এব্যাপারে হোয়াইট হাউসকে চিঠি দিয়েছি। জনতার সব কিছু জানার অধিকার রয়েছে।’ বিরোধীরা ট্রাম্পের ঘোষণার আগে ও পরের ঘটনাক্রমের কথাও তুলে ধরেছেন। তাঁরা বলছেন, ওয়াল স্ট্রিট শেয়ার বাজার খোলার মাত্র কয়েক মিনিট পর সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রাম্প লেখেন, ‘এখন কেনার উপযুক্ত সময়।’ এর কয়েক ঘণ্টা পরেই আসে পাল্টা শুল্ক তিন মাসের জন্য স্থগিত রাখার ঘোষণা। এর জেরেই ঝিমিয়ে থাকা মার্কিন শেয়ার বাজারে জোয়ার আসে। ষাঁড়ের দৌড় গত কয়েক বছরের রেকর্ড ভেঙে দেয়। বুধবার ডাও জোন্স ৭.৮৭ শতাংশ বাড়ে। ২০০৮ সালের পর এত বিপুল উত্থান এই প্রথম। নাসডাকের লাফ আরও বেশি। ১২.১৬ শতাংশ। ২০০১ সালের পর সর্বোচ্চ। ট্রাম্পের কোম্পানির শেয়ার দর ২১.৬৭ শতাংশ বাড়ে। অনেক তাবড় কোম্পানিকেও পিছনে ফেলে দেয় ট্রাম্পের সংস্থার দৌড়। এর থেকে কিছুটা এগিয়ে ছিল আর একটি সংস্থা। সেটি হল এলন মাস্কের টেসলা। ট্রুথ সোশ্যালে বার্তায় ট্রাম্প ‘ডিজেটি’ অক্ষর জুড়ে দিয়েছিলেন। এটা যেমন তাঁর নিজের নামের আদ্যক্ষর, তেমনি শেয়ার বাজারে তাঁর মিডিয়া কোম্পানি ট্রাম্প মিডিয়া অ্যান্ড টেকনোলজি গ্রুপও একই সংক্ষিপ্ত রূপে পরিচিত।
এই ঘটনাক্রম নিয়ে সন্দিগ্ধ হোয়াইট হাউসের প্রাক্তন এথিক্স ল’ইয়ার রিচার্ড পেন্টার। তিনিও মনে করছেন, এর তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লু বুশ জমানার এই আধিকারিক বলেছেন, প্রেসিডেন্ট লগ্নি পরামর্শদাতা হতে পারেন না। এই পরিস্থিতি প্রেসিডেন্টকে শেয়ার বাজারে করিচুপির অভিযোগের মুখে ফেলতে পারে। যদিও প্রবল বিতর্কের মুখে প্রশাসনের সাফাই, ট্রাম্প শুধুমাত্র দেশের মানুষকে আশ্বস্ত করতে চেয়েছিলেন।



