Bartaman Logo
২ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

এবার জেলাশাসকদের হাতে ‘নাগরিকত্ব’ প্রদানের ক্ষমতা, সিএএ নিয়ে শাহ-শুভেন্দু কথা

বাংলায় সিএএর মাধ্যমে নাগরিকত্ব প্রদানের সম্পূর্ণ ক্ষমতা রয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাস্ট্র মন্ত্রকের হাতে। ‘ডিরেক্টরেট অব সিটিজেন রেজিস্ট্রেশনস’-এর মাধ্যমে নাগরিকত্ব প্রদানের কাজ চলে এই রাজ্যে।

এবার জেলাশাসকদের হাতে  ‘নাগরিকত্ব’ প্রদানের ক্ষমতা, সিএএ নিয়ে শাহ-শুভেন্দু কথা
  • ২ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বাংলায় সিএএর মাধ্যমে নাগরিকত্ব প্রদানের সম্পূর্ণ ক্ষমতা রয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাস্ট্র মন্ত্রকের হাতে। ‘ডিরেক্টরেট অব সিটিজেন রেজিস্ট্রেশনস’-এর মাধ্যমে নাগরিকত্ব প্রদানের কাজ চলে এই রাজ্যে। এবার এই নিয়ম বদলাতে চলেছে। কারণ, গুজরাত, রাজস্থানের পর পশ্চিমবঙ্গেও জেলাশাসকদের এই ক্ষমতা দিতে চলেছে কেন্দ্র। শুক্রবার কেন্দ্রীয় স্বরাস্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে এনিয়ে ফোনে কথা হয়েছে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। শনিবার নিউটাউন কনভেনশন সেন্টারে সিএএর মধ্যেমে নাগরিকত্বের শংসাপত্র তুলে দেওয়া হয় উত্তর ২৪ পরগনা জেলার ৩০০ জনের হাতে। সেই অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমি গতকাল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছি। গুজরাত ও রাজস্থানের মতো আমরা কবে নাগরিকত্ব দেওয়ার ক্ষমতা পাব, সে বিষয় নিয়ে কথা হয়েছে। ওই ক্ষমতা পেলে আমাদের জেলাশাসকরাই শংসাপত্র দিতে পারবেন। তিনি আমাকে বলেছেন, আগামী এক মাসের মধ্যে এটি কার্যকর করার কাজ চলছে। সেক্ষেত্রে যা আবেদন এসেছে, ৬ মাসের মধ্যে সেগুলি যাচাই করে শংসাপত্র দিয়ে দেওয়ার কাজ সম্পূর্ণ করার টার্গেট নেওয়া হবে।’ 

Advertisement

এখনও পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গে ২ লক্ষ ৩০ হাজার ৬০৫ জন সিএএর মাধ্যমে নাগরিকত্বের আবেদন করেছে। শংসাপত্র পেয়েছেন মোট ২৩ হাজার ৫৫৬ জন। এর মধ্যে রাজ্যে পালাবদলের পর শংসাপত্র প্রদান করা হয়েছে ৫ হাজার ৯৬৬ জনকে। সর্বোচ্চ সংখ্যক শংসাপত্র পেয়েছে নদীয়া (১০,৯৯১জন)। উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় ৮,৯৩০ জনকে শংসাপত্র দেওয়া হয়েছে। এখনও যাঁরা আবেদন করেননি, তাঁদের দ্রুত তা করার কথা বলেছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, ‘পূর্বতন সরকার সিএএ নিয়ে মানুষকে ভুল বুঝিয়েছে। তারা এর বিরোধিতা করে মিছিল করেছে। ফলে অনেক মানুষ ঘাবড়ে গিয়ে আবেদনই করেনি।’ এদিনের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন বেশ কিছু বিরোধী বিধায়কও। তাঁদের উপস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আজ দেখছি তৃণমূলের বিধায়করাও এসেছেন। আমি তাঁদের স্বাগত জানাই। যাঁরা বিভীষিকাময় দেশভাগ ও তারপরে ক্রমাগত প্রাণ বাঁচানোর কারণে ও ধর্মীয় কারণে এদেশে চলে এসেছেন, তাঁরা অনেকদিন নাগরিকত্বের জন্য লড়াই চালাচ্ছেন। সেই সময় জোর প্রচার চালানো হয়েছিল, এই আইন নাগরিকত্ব কেড়ে নেবে। অথচ বাস্তবে এই আইন নাগরিকত্ব দেওয়ার আইন।’
ধর্মীয় নিপীড়নের কারণে ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের আগে পাকিস্তান, বাংলাদেশ এবং আফগানিস্তান থেকে চলে আসা অমুসলিম ব্যক্তিদের (হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পার্সি এবং খ্রিস্টান) সিএএর আওতায় ভারতীয় নাগরিকত্ব প্রদান করা হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক পরে এই সময়সীমা বাড়িয়ে ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর করেছে। ফলে যাঁরা আবেদন করেছেন, তাঁদের পুলিশি হয়রানির শিকার হতে হবে না বলেও আশ্বাস দিয়েছেন শুভেন্দু। এই সময়কালে কেউ নাগরিকত্বের প্রশ্নে জেলে গিয়ে থাকলে সরকারি উকিলের মাধ্যমে জামিনের ব্যবস্থা করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। এদিন শংসাপত্র হাতে পেয়ে দৃশ্যতই খুশি চম্পা রায়, যূথিকারানি সেন, সুনীল মোহন্তরা। চম্পাদেবী বলছিলেন, ‘শুধু একটাই অনুরোধ, আমাদের যেন আর হয়রানির শিকার না হতে হয়।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ