Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পাট চাষে লাভ না হওয়ায় পেঁপেই ভরসা

পাট চাষে লাভ না হওয়ায় পেঁপেই ভরসা
  • ১৯ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, তেহট্ট: বিগত কয়েকবছর পাটে লাভ করতে না পেরে চাষিরা পেঁপে চাষে ঝুঁকছেন। চাষিরা ইতিমধ্যে জোর কদমে পেঁপের চারা রোপণের কাজ শুরু করে দিয়েছেন। বুধবার তেহট্ট-১ ব্লকের বিভিন্ন জমিতে গিয়ে সেই দৃশ্যই দেখা গেল।

Advertisement

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, তেহট্ট মহকুমায় প্রচুর পরিমাণে পাট চাষ হয়। এলাকার এই ফসলের গুণগত মান খুবই ভালো। প্রত্যেক বছর দেখা যায় ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাসেই পাট চাষের জন্য জমি প্রস্তুত শুরু হয়ে যায়। লক্ষ্যণীয় বিষয়, বিভিন্ন জায়গায় এই অর্থকরী ফসল চাষের গুরুত্ব অনেক কমেছে। এখন বহু জায়গায় জমি তৈরি হয়েছে বটে, কিন্তু তা পাটের জন্য নয়। জানা গিয়েছে, সেখানে পেঁপে চাষ করবেন চাষিরা। আসলে পেঁপে লাভজনক ফসল বলেই ব্যাখ্যা একাধিক চাষির। চাষিরা জানিয়েছেন, বিগত কয়েকবছরে মূলত পাট চাষিদের চরম সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে। পর্যাপ্ত বৃষ্টির অভাবে খাল, বিল, পুকুর জলশূন্য ছিল। জাঁক দেওয়ার জায়গার অভাব ছিল। তাই বাড়তি খরচ করে জমি থেকে পাট ট্রাক্টরে চাপিয়ে অন্য জায়গায় নিয়ে যেতে হয়েছে। আবার অনেকে নিজের জমিতেই বাড়তি খরচ করে মাটি কেটে আল উঁচু করে জল দিয়েও পাট জাঁক দিয়েছেন। খরচ করলেও লাভ না পেয়ে পেঁপে চাষে ঝুঁকছেন তাঁরা।  চাষিরা  জানান, একটু উঁচু জমিতে পেঁপে চাষ করে তিন থেকে চার মাস পর্যবেক্ষণ করতে হয়। তাহলেই তিন বছর টানা ফলন পাওয়া যায়। গরমের সময় পেঁপে পাইকারি দরে প্রতি কিলোগ্রাম ১৫-২৫টাকায় বিক্রি হয়। শীতের সময় পেঁপের দাম তুলনায় একটু কম থাকে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না ঘটলে পেঁপে চাষে ক্ষতির সম্ভাবনা কম। সামান্য পরিচর্যাতেই ভালো ফলন পাওয়া যায়। তাছাড়া, শহরাঞ্চলে বা বিভিন্ন খাবারের কারখানায় পেঁপের চাহিদাও রয়েছে। এই কারণেই আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন না হয়ে পেঁপে চাষে ঝুঁকেছেন অনেকে। তেহট্টের বেতাই, লালবাজার, চাপাগাড়া সহ ব্লকের বিভিন্ন জায়গায় পর্যাপ্ত পরিমাণে পেঁপে চাষ শুরু করেছেন চাষিরা।
চাষি গণপতি হীরা, সন্ন্যাসী ঘোষ বলেন, পাট বা ধানের থেকে পেঁপে চাষে লাভ বেশি। আমাদের পরিচিত বহু চাষি পেঁপে চাষ করছেন‌‌। লাভজনক বলে চাষিরা ক্রমশ এই চাষের দিকে ঝুঁকছেন। তাছাড়া, ফসল বিক্রির কোনও ঝামেলা নেই। মহাজনরা নিজেরাই জমি থেকে পেঁপে তুলে ট্রাক ভর্তি করে শহরে নিয়ে যান। জমিতে বসে হাতে হাতে টাকা দিয়ে যান। যে কারণে অর্থকরী ফসল পাটের চাষ বন্ধ করে, চাষিরা এখন পেঁপের দিকে ঝুঁকছেন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ